শিরোনাম
◈ বাংলাদেশকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক চাপ, ভারত-ইসরাইল বয়ানে অন্তর্নিহিত গভীর বার্তা ◈ ফাঁসির ১৫ ঘণ্টা আগে যে কারণে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করলেন বাবা(ভিডিও) ◈ অনিয়ম আর দুর্নীতি হজ ব্যবস্থাপনায়, কোরবানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ◈ ইংল্যান্ডে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ১ জনের; আহত প্রায় ৯০ ◈ আমরা প্রেমে ছিলাম, নাকি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়: সাকলায়েনের অবসরের পর ভাইরাল পরীমনির বক্তব্য ◈ মেসিকে নিয়ে লুকোচুরি বন্ধ হোক, বললেন ব্রা‌জি‌লের রোনাল‌দো ◈ নিরাপদ অবস্থানে বাংলাদেশ: দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়াল ◈ ফিফার পাওয়ার র‍্যাঙ্কিংয়ে লিও‌নেল ‌মে‌সি শীর্ষে ◈ মেসির বাবাকে মৃত ঘোষণা করে চাকরি হারালেন আ‌র্জেন্টিনার লুজু টি‌ভির উপস্থাপিকা ◈ জানাগেল অর্থ পাচারের ভয়াবহ চিত্র, যে ৫ কারণে সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করা হয়

প্রকাশিত : ১৮ জুন, ২০২৬, ০৭:১১ বিকাল
আপডেট : ২০ জুন, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিত‌র্কিত ট‌্যাক‌লে আমার পা ভেঙে গেলেও মেসি কার্ড পেতো না’ : আলজেরিয়া ডিফেন্ডার

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের রাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি। হ্যাটট্রিক করে দলকে দুর্দান্ত জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও স্পর্শ করেন তিনি।

তবে ম্যাচ শেষে তার ফুটবল জাদুর চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে একটি বিতর্কিত ট্যাকল।

আলজেরিয়ার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আইসা মান্দির অভিযোগ, ম্যাচের এক পর্যায়ে মেসির বিপজ্জনক ট্যাকলের শিকার হলেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এমনকি ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনার পরও আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে কোনো কার্ড দেখানো হয়নি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের হতাশা প্রকাশ করেন মান্দি।

তিনি লিখেছেন, গত রাতে যদি আমার গোড়ালি ভেঙেও যেত, তবু যে খেলোয়াড় এটা করেছে সে কোনো কার্ড পেত না। রেফারিদের আরো ভালো হতে হবে। পুরো বিশ্ব তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ম্যাচের প্রধান রেফারি ছিলেন পোল্যান্ডের শিমন মারচিনিয়াক।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক চাপ, ভারত-ইসরাইল বয়ানে অন্তর্নিহিত গভীর বার্তা

ডেস্ক রি‌পোর্ট : বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ- প্রথমত, সন্ত্রাসবাদ দমনে অর্জিত সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। তৃতীয়ত, সীমান্ত, পানি বণ্টন ও অভিবাসন ইস্যুতে তথ্যভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা। চতুর্থত, জাতীয় ঐকমত্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কারণ অভ্যন্তরীণ বিভাজন আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার সক্ষমতাকে দুর্বল করে। পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিঙ্কট্যাঙ্ক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরার জন্য কার্যকর জনকূটনীতি পরিচালনা করা। ---- নয়া‌দিগন্ত

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে গত এক দশকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের অভূতপূর্ব বৃদ্ধি। একসময় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশকে মূলত উন্নয়নশীল অর্থনীতি, শ্রমবাজার কিংবা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানের বাস্তবতা ভিন্ন। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প এবং চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজারের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি হামাসের প্রভাব বিস্তার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেন। কূটনৈতিক ভাষায় এমন মন্তব্যকে সাধারণ কোনো বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ কম। কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বয়ান প্রায়ই রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা বহন করে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বক্তব্য : বাংলাদেশ গত দুই দশকে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০০৫ সালে জেএমবির দেশব্যাপী বোমা হামলা থেকে শুরু করে ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে উগ্রবাদী নেটওয়ার্কগুলোকে দুর্বল করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিরাপত্তা মূল্যায়নেও বাংলাদেশকে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি নয়, কিন্তু পরোক্ষভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগ উত্থাপন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ ধরনের বয়ান তৈরি করতে পারে। ইতিহাস বলে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রকে “নিরাপত্তা ঝুঁকি” বা “উগ্রপন্থার সম্ভাব্য ক্ষেত্র” হিসেবে চিত্রিত করা হলে তা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট ও বাংলাদেশের অবস্থান : ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই সুস্পষ্ট। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনো ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি।

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশের জনমত, রাজনৈতিক দল, ইসলামপন্থী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন শহরে বড় বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গাজা ইস্যু ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল বর্তমানে শুধু সামরিক যুদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জনমত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি। ফলে যেসব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে দৃশ্যমান অবস্থান নিচ্ছে, সেগুলোর প্রতি ইসরাইলি কূটনীতির বিশেষ নজর থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।

ভারতের নিরাপত্তা বয়ান ও বাংলাদেশের নাম : ভারতের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে কয়েকটি নির্দিষ্ট উদ্বেগ তুলে ধরে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে- অবৈধ অভিবাসন; সীমান্ত নিরাপত্তা; জঙ্গি নেটওয়ার্ক; উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম; সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন।

যদিও গত এক যুগে ঢাকা ও নয়াদিল্লির নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ভারত নিজেও বহুবার বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রশংসা করেছে, তবুও ভারতের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম পরিসরে বাংলাদেশকে ঘিরে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বয়ান পুরোপুরি অদৃশ্য হয়নি।

বিশেষ করে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু প্রায়ই নির্বাচনী আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে। ফলে বাংলাদেশের নাম অনেক সময় কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথেও যুক্ত হয়ে যায়।

চীন-ভারত প্রতিযোগিতা : বাংলাদেশের কৌশলগত মূল্য : বর্তমান ভূরাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলো চীন ও ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা।

চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং শিল্পখাতে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা ও মাতারবাড়ী ঘিরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল- সবকিছুই আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নজরে রয়েছে। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ শুধু প্রতিবেশী নয়; বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ, বঙ্গোপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক প্রভাব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলেও বাংলাদেশের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সমুদ্র নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবেলার আলোচনায় বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

ফলে বাংলাদেশকে ঘিরে প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ- তা চীন সফর হোক, মালয়েশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার হোক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে নতুন অংশীদারিত্ব-আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে পড়ে।

সীমান্ত রাজনীতি ও আস্থার সঙ্কট : বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে সহযোগিতা ও অমীমাংসিত বিরোধ দুই বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এক দিকে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা; বাণিজ্য সম্প্রসারণ; রেল ও সড়ক সংযোগ; নিরাপত্তা সহযোগিতা।

অন্য দিকে রয়েছে তিস্তা চুক্তির অনিশ্চয়তা; সীমান্ত হত্যা; বিএসএফের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক; সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ; কথিত ‘পুশইন’ ইস্যু; সংখ্যালঘু ও অভিবাসন প্রশ্নে রাজনৈতিক বক্তব্য।

এসব অমীমাংসিত ইস্যু দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি করে। ফলে যখন নতুন কোনো নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ সামনে আসে, তখন তা দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়।

তথ্যযুদ্ধ ও কূটনৈতিক বয়ানের যুগ : আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুদ্ধ শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। তথ্যযুদ্ধ, গণমাধ্যম বয়ান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক জনমত এখন পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সঙ্ঘাত কিংবা যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে তথ্য ও বয়ানের নিয়ন্ত্রণ কৌশলগত শক্তির অংশ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশকেও এখন এই নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে হচ্ছে। কোনো অভিযোগ বা অপপ্রচারের জবাব শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নয়, বরং তথ্য, পরিসংখ্যান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সক্রিয়তার মাধ্যমে দিতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে করণীয় : বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ- প্রথমত, সন্ত্রাসবাদ দমনে অর্জিত সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। তৃতীয়ত, সীমান্ত, পানি বণ্টন ও অভিবাসন ইস্যুতে তথ্যভিত্তিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা। চতুর্থত, জাতীয় ঐকমত্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। কারণ অভ্যন্তরীণ বিভাজন আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার সক্ষমতাকে দুর্বল করে। পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও থিঙ্কট্যাঙ্ক পর্যায়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরার জন্য কার্যকর জনকূটনীতি পরিচালনা করা।

ভারত ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। তবে এটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরাপত্তা বয়ান, গণমাধ্যম প্রচার এবং কূটনৈতিক মন্তব্য প্রায়ই বৃহত্তর কৌশলগত উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে এমন এক ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে তাকে একই সাথে চীন-ভারত প্রতিযোগিতা, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে আবেগনির্ভর প্রতিক্রিয়া নয়, বরং তথ্যনির্ভর কূটনীতি, কৌশলগত ভারসাম্য, জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা। কারণ একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বব্যবস্থায় কোনো রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি শুধু সামরিক বা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নয়; বরং তার কূটনৈতিক প্রজ্ঞা, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যেও নিহিত।


ফাঁসির ১৫ ঘণ্টা আগে যে কারণে ছেলের খুনিকে ক্ষমা করলেন বাবা(ভিডিও)

সন্তানের মৃত্যুর শোক বুকে চেপে ঘাতককে ক্ষমা করে দিয়ে মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সৌদি আরবের এক নাগরিক। ফাঁসি কার্যকরের মাত্র ১৫ ঘণ্টা আগে নিহতের বাবা শেখ ইয়াহিয়া বিন কানস আল-বুশরি কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ছাড়াই নিঃশর্তভাবে এই ক্ষমার ঘোষণা দেন। এই ঘটনার একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। 

জানা যায়, নিহতের নাম বন্দর এবং ঘাতকের নাম ইয়াসের। একসময় আর্থিকভাবে চরম সচ্ছল থাকলেও বর্তমানে শেখ ইয়াহিয়ার জীবনযাপন বেশ সাধারণ। তা সত্ত্বেও তিনি ঘাতককে ক্ষমা করার বিনিময়ে প্রস্তাবিত লাখ লাখ রিয়ালের ‘ব্লাড মানি’ বা রক্তপণ নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেবল সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির আশায় তিনি তার ছেলের খুনিকে প্রাণভিক্ষা দিচ্ছেন। এই পরম ক্ষমার বার্তাটি পৌঁছে দিতে তিনি নিজেই ছুটে যান ঘাতক ইয়াসেরের মায়ের বাড়িতে।

সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। ছেলের প্রাণ ফিরে পাওয়ার সংবাদে আবেগাপ্লুত ও কৃতজ্ঞ মা শেখ ইয়াহিয়ার পায়ে চুমু খেতে উদ্যত হন। কিন্তু অত্যন্ত বিনয়ী ইয়াহিয়া তাকে সঙ্গে সঙ্গে বাধা দেন এবং পরম শ্রদ্ধায় ওই মায়ের কপালে চুম্বন করে তাকে সান্ত্বনা দেন। খবর পেয়ে ঘাতকের ভাইয়েরাও সেখানে ছুটে আসেন।

কান্নায় ভেঙে পড়া ওই যুবকদেরও বুকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এই মহৎ হৃদয় বাবা। প্রিয় সন্তান হারানোর কষ্ট বুকে নিয়েও একজন মানুষের এমন ক্ষমার দৃশ্য দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুরো বিশ্ব।


অনিয়ম আর দুর্নীতি হজ ব্যবস্থাপনায়, কোরবানির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এল আর বাদল: হজ করে আসলে মনের সন্তুষ্টির একটা বিষয় থাকে। কিন্তু আমাদের তো সেই অসন্তুষ্টিই রয়ে গেলো। এখন কী এই অসন্তুষ্টি নিয়েই বাকিটা জীবন পার করতে হবে?," আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন হজ করে সদ্য দেশে ফেরা নজরুল ইসলাম খান।

চাকরির পেনশনের টাকাসহ বছরের পর বছর ধরে জমানো অর্থ খরচ করে স্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি তিনি সৌদি আরব গিয়েছিলেন হজ করতে।

কিন্তু হজ শেষে মি. খানের মনে সন্দেহ জন্মে যে, বেসরকারি যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনি হজে গিয়েছিলেন, পশু কোরবানি না করে তারা সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফলে হজ সম্পন্ন হয়েছে কি-না, সেটি নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ষাটোর্ধ্ব এই প্রবীণ। ------- বি‌বি‌সি বাংলা

এজেন্সি আমাদের বলেছিল যে, কোরবানি হয়ে গেছে, আপনারা এখন মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন। তো আমরা সেটা করলাম। পরে রাতে আমাদের সাথে কিছু ইয়াং ছেলে যারা ছিল, তারা সৌদি সরকারের ডিজিটাল সিস্টেম চেক করে দেখে আমাদের কোরবানির কোনো তথ্য সেখানে নেই, বলেন মি. খান।

এ ঘটনার পর তিনিসহ অন্য হাজিরা হজ এজেন্সির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে আমরা আমাদের এজেন্সি আল মুলতাজিমের মালিক ফরিদ সাহেবকে এটার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি, কিন্তু তিনি যথাযথভাবে সদুত্তর দিতে পারেননি," বলেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মি. খান।

বাংলাদেশ থেকে এর আগে যারা হজ করতে যেতেন, তারা চাইলে নিজেরাই পশু কিনে কোরবানি দিতে পারতেন। কিন্তু চলতি বছর থেকে নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি সরকার।

এক্ষেত্রে কোরবানি ঠিকঠাক হয়েছে কি-না, অ্যাপে সেটি দেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। হজযাত্রীরা সহজেই যেন সেই তথ্য দেখতে পারেন, সেলক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এজেন্সিগুলোর প্রতি নির্দেশনা দিয়ে হজের আগে একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে বাংলাদেশ সরকার।

কিন্তু অনেক এজেন্সি সেই নির্দেশ মানেনি। ফলে কোরবানি হয়েছে কি-না, সেটি নিয়ে হাজিদের অনেকের মধ্যেই সন্দেহ রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হাজিদের মধ্যে অনেকেরই হজের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। এটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অনেক এজেন্সি অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে।

এক্ষেত্রে কোরবানির টাকা নিলেও তারা যখন হজযাত্রীদের নাম নিবন্ধন করছে, তখন বিভিন্ন এজেন্সি তাদের অন্য ক্যাটাগরিতে ফেলছে; যে হজের জন্য বা যাদের জন্য পশু কোরবানি আবশ্যক নয়।

আবার হজ পালনকালে কোনো ভুল হলে বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সেটি শুদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত একটি কোরবানি দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, সেটির টাকাও অনেকের কাছ থেকে হজের আগেই কেটে রাখা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হজযাত্রীদেরকে এজেন্সির কর্মী হিসেবে দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।

এগুলো নিয়ে হাজিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেলেও নজরদারী করে সব এজেন্সিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। তাহলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কী কাজ করেন? তাদেরকে রাখার প্রয়োজনটা কী যদি তারা এগুলো ঠিকঠাক তদাকরি করতে না পারেন," ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সদ্য হজ শেষে দেশে ফেরা নজরুল ইসলাম খান।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যারা হজে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে কে কোন হজ করছেন, সেটির সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে। ফলে কোনো ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে সেটার বিষয়ে অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার খুব একটা নজির নেই বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা

হাজিদের মধ্যে কেউ যদি অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকেন, সেটার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ অবশ্যই আছে। কিন্তু সেজন্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসতে হবে। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম।

এক হজের কথা বলে আরেক হজ

হজ মৌসুমে তিন ধরনের হজ পালন করে থাকেন মুসলমানরা। সেগুলো হলো: তামাত্তু, কিরান এবং ইফরাদ হজ। এর মধ্যে তামাত্তু হজে ওমরা শেষে হজ পালন করা হয়। আর কিরান হজে একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ সম্পন্ন করতে হয়।

এই দুই হজের ক্ষেত্রেই পশু কোরবানি দিতে হয়। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কেউ কোরবানি দিতে না পারলে সেটার পরিবর্তে রোজা রাখারও বিধান আছে।

অন্যদিকে, ইফরাদ হজে ওমরা নেই। এক্ষেত্রে হাজিরা শুধুমাত্র মূল হজ পালন করেন এবং তাদের জন্য পশু কোরবানির বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর যারা হজে যান, তাদের মধ্যে অনেকেরই হজের এসব প্রকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে এটাকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে এজেন্সিগুলো অনিয়মের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

"আমি যে কাফেলার সঙ্গে গিয়েছি, তাদের মধ্যে একজনও পাইনি যিনি ইফরাদ হজ করেছেন। অথচ এজেন্সি সৌদি সরকারকে যে তথ্য দিয়েছে, সেখানে তারা শতাধিক ব্যক্তিকে ইফরাদ হাজি হিসেবে দেখিয়েছে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সানজিদুল আলম। পেশায় চিকিৎসক মি. আলম থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। মাস দুই আগে তিনি দেশে ফিরেছিলেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করার উদ্দেশ্যে।

তিনি যে এজেন্সির মাধ্যমে হজে গিয়েছিলেন, সেটির নাম আল মূলতাজিম হজ কাফেলা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুর। এই এজেন্সিটি তাদের ৮০ জন হজযাত্রীকে সৌদি আরব পাঠিয়েছিল চট্টগ্রামভিত্তিক দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলস নামের আরেকটি বড় এজেন্সির মাধ্যমে।

চলতি বছর দূয়ুফুর থেকে প্রায় ২২০০ জনকে হজে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কোরবানির টাকা জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৩৫০ জনের নামে। বাকি ৮৫০ জন কোরবানি দিতে চাননা বলে সৌদি সরকারকে জানিয়েছে এজেন্সিটি।

কিন্তু হজ অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরাই জানাচ্ছেন যে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে কম ব্যক্তিই কোরবানি ছাড়া হজ পালন করে থাকেন। আমরা জানি এবং সকলেই জানে যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ লোকজনই তামাত্তু হজ করে। কিছু ক্ষেত্রে ইফরাদ বা অন্য হজ করে। তবে সেই সংখ্যাটা খুবই কম," বলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম।

ফলে হাজিদের মধ্যে সন্দেহ জন্ম নিয়েছে যে, তামাত্তু হজের কথা বলে এজেন্সিগুলো তাদেরকে সৌদি আরবে নিয়ে ইফরাদ হজে নিবন্ধন করেছে। আর ইফরাদ হজে যেহেতু কোরবানি বাধ্যতামূলক না, সেজন্য কোরবানি না দিয়ে তারা আমাদের টাকাটা আত্মসাৎ করেছে বলে মনে হচ্ছে," বলেন নজরুল ইসলাম খান। আবার কোনো কোনো হাজিকে এজেন্সি তাদের কর্মী হিসেবে দেখিয়েছে।

আমাদের সাথে যারা হজে গিছিলেন, তাদের অনেকের সাথেই এটা ঘটেছে," বলছিলেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা আরাফাত রহমান। যদিও প্রথমদিকে তারা কেউই বিষয়টি ধরতে পারেননি বলে জানান তিনি। পরে লিস্টে যখন দেখা গেল যে, হাজিদেরকেই এজেন্সি তাদের কর্মী ও গাইড হিসেবে দেখিয়েছে, তখন আমরা এজেন্সিকে ধরলাম। কিন্তু তারা বলতেছে যে, এটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে," বলেন মি. রহমান।

চারটা কোরবানির টাকা নিছে

বাংলাদেশ থেকে এবছর যারা হজ করতে গেছেন, তাদের অনেকের কাছ থেকেই নানান অজুহাতে বাড়তি অর্থ নিয়েছে।

এক্ষেত্রে মূল প্যাকেজের বাইরে কোরবানির জন্য অতিরিক্ত অর্থ যেমন নেওয়া হয়েছে, তেমনি হজের আগেই 'ভুলের দম' বাবদ বাড়তি আরেকটি কোরবানির টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

হজ পালনের ক্ষেত্রে কোনো ভুল হলে অতিরিক্ত একটি পশু কোরবানি দেওয়ার নিয়ম ইসলামে রয়েছে, যা 'ভুলের দম' নামে পরিচিত।

এটি সাধারণ হজের পরে দিতে হয়। কিন্তু অনেক এজেন্সি হজের আগেই ওই কোরবানির অর্থ নিয়েছে। এছাড়া সরকার নির্ধারিত হজ প্যাকেজের মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ দিয়ে হজে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

"সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাড়ে ছয় লাখের প্যাকেজের মধ্যেই কোরবানি অর্ন্তভূক্ত থাকার কথা। কিন্তু আমাদের এজেন্সি কোরবানি ছাড়াই নিছে ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা," হজ শেষে দেশে ফিরে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন একেএম আহসানুজ্জামান। এরপর একটা হজের কোরবানি আর একটা হজের দমের টাকা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আমাদের পরিবার থেকে আমরা চারজন হজে গিছিলাম এবং প্রত্যেকের কাছ থেকেই ওরা প্রায় চারটা কোরবানির টাকা নিছে," যোগ করেন মি. আহসানুজ্জামান।

কিন্তু তারপরও তাদের নামে কোরবানি দেওয়া হয়েছে কি-না, সেটি নিয়ে সন্দিহান ঢাকার বনশ্রী এলাকার এই বাসিন্দা। কারণ ওরা কোরবানির কোনো প্রমাণ আমাদের দেখাতে পারেনি। কেবল মুখে মুখেই বলে যাচ্ছে যে, কোরবানি ঠিকঠাক হয়ে গেছে," বলেন মি. আহসানুজ্জামান।

সমঝোতার চেষ্টা

দেশে ফেরার পর অভিযোগকারী হাজিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো। হজ প্যাকেজের চেয়ে অতিরিক্ত যে অর্থ ওরা নিয়েছিল, এখন সেটা ফেরত দিতে চাচ্ছে। তবে শর্ত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নিয়ে সেই মর্মে একটা কাগজে সই দিতে হবে," বলছিলেন সদ্য হজ করে আসা একেএম আহসানুজ্জামান।

গত ১৬ই জুন বিকেলে এজেন্সির প্রতিনিধিরা মি. আহসানুজ্জামানের বনশ্রীর বাসায় যান। খবর পেয়ে বিবিসি বাংলাও সেখানে উপস্থিত হয়। সেখানে গিয়ে আল মূলতাজিম হজ কাফেলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী ফরিদ আহমদের কাছে কোরবানির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সেটি অস্বীকার করেন।

"আমরা কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। ৮০ জনের মধ্যে আমরা ৭৫ জনের কোরবানির টাকা জমা দিয়েছি আমাদের লিড এজেন্সি দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলসের কাছে," বলেন মি. আহমদ। বাকি যে পাঁচজনের কোরবানি দেওয়া হয়নি, তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে এজেন্সির এই কর্মকর্তা দাবি বলেন, তারা এজেন্সিটির কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং সবাই ইফরাদ হজ করেছেন।

তবে হজের আগেই দমের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। এটা আমরা আগেই নিয়েছি, কারণ এখানে বাংলাদশে থেকে না নিয়ে গেছে ওইখানে (সৌদি আরবে) আমরা কারেন্সি কীভাবে নিয়ে যাবো। সেজন্য দেশে থাকতেই নিছি," বলেন মি. আহমদ।

দমের টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপের কথা অস্বীকার করেন আল মূলতাজিমের কর্ণধার। এটা চাপের কিছু না। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। যেটা হয়েছে, সেটা ভুল বোঝাবুঝি। সেজন্য সই নিয়ে টাকা ফেরত দিচ্ছি। সই নিচ্ছি, কারণ তারা হজ অফিসে অভিযোগ করেছে। এটা তুলে না নিলে আমাদের সমস্যা হবে," বলেন মি. আহমদ।

হাজিদের মধ্যে যারা লিখিত অভিযোগ করেছেন, তারা কোরবানির তথ্য-প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগ তুলবেন না বলে জানান। আমরা চাই এ ধরনের সমস্যার মধ্যে যেন ভবিষ্যতে আর কেউ না পড়ে," বলছিলেন আহসানুজ্জামান।

কী বলছে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলো?

আল মূলতাজিম বলছে যে, কোরবানির প্রমাণ দিতে পারবে, তাদের লিড এজেন্সি দূয়ুফুর রহমান ট্রাভেলস। বিষয়টি নিয়ে এজেন্সিটির কর্ণধার আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, সকল প্রমাণ তাদের কাছে আছে। কারো যদি জিজ্ঞাসা থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা সেটা দেখাবো। কিন্তু একজন একজন করে তো দেখানো সম্ভব না…মন্ত্রণালয় করতে চাইলে তাদেরকে দিবো," বলেন মি. রহমান। সরকারের নির্দেশনা থাকার পরও নুসুক অ্যাপে কোরবানির তথ্য কেন দেওয়া হয়নি?

জবাবে দেশের অন্যতম বড় হজ এজেন্সি এই মালিক বলেন, "হঠাৎ করে নতুন নিয়ম করায় এটা সম্ভব হয়নি। এটার জন্য যে আইটি ম্যান লাগবে, সেটা এখন নাই। দ্রুতই নিয়োগ দিবো, তখন পরের বার থেকে আর সমস্যা হবে না। এছাড়া ২২০০ হজযাত্রীর মধ্যে সাড়ে আটশ' জনের কোরবানি না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মি. রহমান দাবি করেন, ওই হাজিরা তাদের কাছে কোরবানির টাকা দেননি।

"তারা হয়তো নিজেরাই আলাদাভাবে কোরবানি দিতে চেয়েছে। কিন্তু যেহেতু সৌদি সরকারের কাছে তাদেরকে একটা ক্যাটাগরিতে দেখাতে হবে, সেজন্য আমরা কোরবানি ছাড়াই দেখিয়েছি," বলেন মি. রহমান। তবে ঠিক কারা কোরবানি দেননি, তাদের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি তিনি। ধর্ম মন্ত্রণালয় চাইলে তথ্য দিবেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সির সংখ্যা সাড়ে সাতশ'রও বেশি। এসব এজেন্সির মাধ্যমেই প্রতিবছর বেশিরভাগই মানুষ হজে যান। চলতি বছর যে সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব গিয়েছেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৭৪ হাজারই গেছেন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে।

কিন্তু তাদের মধ্যে ঠিক কতজন কোরবানির অর্থ জমা দিয়েছেন এবং তাদের সবার কোরবানি ঠিকঠাক হয়েছে কি-না, এখন পর্যন্ত সেটির সঠিক তথ্য নেই মন্ত্রণালয়ের কাছে। ফলে একটি বিকল্প উপায় ছিল সৌদি সরকারের নুসুক অ্যাপ। কিন্তু এজেন্সেগুলোর সবাই সরকারি নির্দেশ মেনে কোরবানির তথ্য সেখানে সংযুক্ত না করায় হাজিদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এক্ষেত্রে যেসব এজেন্সি সরকারি নির্দেশ মানেনি, তাদের বিষয়ে কী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নির্দেশনা না মানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম।

কিন্তু কোন এজেন্সি এই নির্দেশনা মানেনি, সেটা বের করার কার্যকর কোনো উপায় এখন পর্যন্ত সরকারের কাছে নেই। আপাতত আমরা হাজিদের অভিযোগের ভিত্তিতেই কাজ করছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে," বলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মি. ইসলাম।


ইংল্যান্ডে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ১ জনের; আহত প্রায় ৯০

এবিসি নিউজ: ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড এলাকায় দুইটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন যাত্রী। শনিবার (২০ জুন) সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাজ্যের রেল, সামুদ্রিক ও পরিবহন শ্রমিকদের জাতীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিটি একটি ট্রেনের চালক ছিলেন।

ইস্ট অফ ইংল্যান্ড অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, আহত ৯০ জনের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজের জন্য সেখানে ২০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশের ডেপুটি চিফ কনস্টেবল স্টুয়ার্ট কান্ডি জানান, পরিস্থিতি বিবেচনা করে এটিকে একটি ‘বড় ধরনের দুর্ঘটনা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে-র দুইটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে হয়েছে। রেলওয়ের একজন মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, করবি থেকে লন্ডনগামী একটি ট্রেনের সঙ্গে নটিংহাম থেকে লন্ডনগামী আরেকটি ট্রেনের এই সংঘর্ষ ঘটে। ঠিক কী কারণে দুটি ট্রেন একই লাইনে চলে এলো বা সংঘর্ষ ঘটল, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

এই দুর্ঘটনার রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আপাতত লন্ডনের ভেতরে বা বাইরে কোনো ট্রেন চালাতে পারছে না। দিনের বাকি সময়ের জন্য এই রুটের সব শিডিউল বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Politics