লিফটে ‘ব্রো’ ডাকা নিয়ে শেকৃবিতে সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে ছাত্রদল নেতার রুম ভাঙচুর

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৯

Thumbnail
শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও ছাত্রদল নেতার রুম ভাঙচুর © ঢাকা ডায়েরি

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়র হিসেবে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করায় শরীফ ক্ষিপ্ত হন এবং রুম্মানকে লিফটে উঠতে বাধা দেন। একপর্যায়ে বিষয়টি রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে গড়ায়।

জানা যায়, রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফের অনুসারী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। এ সময় শরীফকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সহপাঠীরা ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে জিব্রাইল শরীফকে ধাওয়া করেন।

আরও পড়ুন

পরে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে।

রুম্মানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে শরীফের দাবি, রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালান। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

শরীফ অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান। এ সময় তাকে গালাগালি করার পাশাপাশি ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া এবং মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ। তিনি বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”