সারাবিশ্ব

নেপালে ছোট বোনকে পিঠে বেঁধে বাবা-মাকে খুঁজছে খুদে বালক, যেন নাগাসাকির সেই স্মৃতি


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম

নেপালে ছোট বোনকে পিঠে বেঁধে বাবা-মাকে খুঁজছে খুদে বালক, যেন নাগাসাকির সেই স্মৃতি
ছবি: সংগৃহীত

পিঠে দুধের শিশুকে কাপড় দিয়ে বেঁধে কাদামাখা পথে হেঁটে চলেছে এক খুদে বালক। শরীরজুড়ে কাদা, চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। তবু থামার কোনো সুযোগ নেই। পিঠে থাকা ছোট বোনটি কাঁদছে, আর চারপাশে তাকিয়ে মা-বাবাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে শিশুটি। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি অনেকের মনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে ধারণ করা ঐতিহাসিক সেই ছবিটির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে এক খুদে বালক তার মৃত ছোট বোনকে পিঠে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অল্প বয়সী একটি ছেলে তার ছোট বোনকে পিঠে বেঁধে নিয়ে কাদামাখা পথ ধরে হাঁটছে। পিঠে থাকা শিশুটিকে দেখে বোঝা যায়, সে এখনও দুধের শিশু। ভিডিওতে তাকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। ক্ষুধা, ভয়, অসুস্থতা কিংবা বিপর্যয়ের আতঙ্ক-কোন কারণে শিশুটি কাঁদছে, তা ভিডিও থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বালকটির শরীর ও পোশাকে কাদা লেগে রয়েছে। মুখেও স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ। দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটার কারণে সে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও ছোট ছোট পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে। কখনো সামনে, কখনো ডানে-বাঁয়ে তাকাচ্ছে। তার চলাফেরা দেখে মনে হচ্ছে, মানুষের ভিড় কিংবা ধ্বংসস্তূপের কোথাও হয়তো মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশায় পথ চলছে সে।

ভিডিওটি গত রবিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। @JeetN25 নামের এক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভিডিওটি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘নেপালের হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একটি ছোট ছেলে তার বোনকে পিঠে নিয়ে মা-বাবাকে খুঁজছে।’ পোস্টে শিশু দুটির মুখের কষ্ট ও শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্নের কথাও উল্লেখ করা হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তাদের মা-বাবার সঙ্গে দ্রুত পুনর্মিলন কামনা করে প্রার্থনা করেছেন। আবার অনেকে এত অল্প বয়সে একটি শিশুকে এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে-এ নিয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এত অল্প বয়সে জীবনের বোঝা এত ভারী হয়ে যায় কেন?’ আরেকজন বালকটির সাহসের প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘শক্ত থেকো ছোট্ট নায়ক। নেপালের জন্য প্রার্থনা করছি।’

তবে আবেগঘন এই ভিডিওটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। ভিডিওটি নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়েরই দৃশ্য কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওটির সুনির্দিষ্ট স্থান, ধারণের সময় এবং শিশু দুটির পরিচয়ও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা না করে সতর্কতার সঙ্গে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তারপরও ভিডিওটির দৃশ্য মানুষের মনে গভীর দাগ ফেলেছে। বিশেষ করে পিঠে ছোট বোনকে বহন করে এক শিশুর অসহায়ভাবে পথ চলার দৃশ্য অনেকের মনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

নাগাসাকির ঐতিহাসিক ছবির সঙ্গে তুলনা

ভিডিওটি ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকিতে ধারণ করা একটি ঐতিহাসিক ছবির সঙ্গে এর দৃশ্যগত মিল। ১৯৪৫ সালের পারমাণবিক বোমা হামলার পর আমেরিকান আলোকচিত্রী ও সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জো ও’ডনেল জাপানে যুদ্ধের ভয়াবহতার বিভিন্ন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। তাঁর তোলা একটি বিখ্যাত ছবিতে দেখা যায়, এক কিশোর তার মৃত ছোট ভাইকে পিঠে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শিশুটির মুখে ছিল দৃঢ়তা, আর চারপাশে ছিল যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ।

পরবর্তী সময়ে ছবিটি যুদ্ধের নির্মমতা ও মানবিক বিপর্যয়ের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও একটি শিশুর অসহায় দায়িত্ববোধ ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম ছবিটিকে বিশেষ তাৎপর্য দেয়।

নেপালের ভাইরাল ভিডিওতে থাকা শিশুটির পরিস্থিতি অবশ্য সেই ঐতিহাসিক ছবির সঙ্গে এক নয়। নাগাসাকির ছবিতে শিশুটির পিঠে ছিল মৃত ছোট ভাই, আর নেপালের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জীবিত দুধের শিশুকে। তবে দুই দৃশ্যের মধ্যে একটি গভীর মানবিক মিল রয়েছে-দুর্যোগের মধ্যে অল্প বয়সী একটি শিশু নিজের ছোট ভাই-বোনকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর সেই কারণেই অনেকের মনে পুরোনো সেই ছবির স্মৃতি ফিরে এসেছে।

‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর কথাও মনে করছেন অনেকে

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইস’-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে ভাই সেতা ও তার ছোট বোন সেতসুকোর বেঁচে থাকার সংগ্রাম ও যুদ্ধের নির্মমতার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।

চলচ্চিত্রটির অন্যতম প্রধান বিষয় হলো-যুদ্ধ ও বিপর্যয়ের সময় শিশুদের জীবনে নেমে আসা অসহায়ত্ব এবং একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা। নেপালের ভিডিওতে দেখা দুই শিশুর দৃশ্যের সঙ্গে সেই গল্পের আবেগগত মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই।

একদিকে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, অন্যদিকে দৃশ্যটি যে মানুষের মনে গভীর আবেগ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট। পিঠে ছোট বোনকে নিয়ে কাদামাখা পথে হাঁটা শিশুটির ক্লান্ত মুখ, চারপাশে মা-বাবাকে খুঁজে বেড়ানোর দৃশ্য এবং শিশুটির কান্না-সব মিলিয়ে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওটি সত্যিই নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তবে দুর্যোগের মধ্যে একটি শিশুর এমন অসহায় পথচলার দৃশ্য যে মানুষের বিবেক ও আবেগকে নাড়া দিয়েছে, সেটিই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।



জাতীয়

আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
ছবি: সংগৃহীত

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও বদলি এবং কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদক সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে বেআইনি কাজ করিয়ে দিতে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার এবং বিদেশে অর্থপাচারের মতো বিষয় রয়েছে। এছাড়া বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র আরও জানায়, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই চার সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান দল কাজ শুরু করেছে।



জাতীয়

জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

জ্বালানিমন্ত্রী টুকুকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত

শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের কাছে জ্বালানিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।



সারাবিশ্ব

আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, গেরুয়া রং লাগানো হলো ফটকে


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে হিন্দুত্ববাদীদের হামলা, গেরুয়া রং লাগানো হলো ফটকে
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার চাঁদনী চক এলাকার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একদল সমর্থক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গেরুয়া বসন ও পাগড়ি পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী পত্রিকা কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ফটকের ওপর গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেন এবং প্রবেশদ্বারের পাশের দুটি থামে গেরুয়া রং লাগিয়ে দেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও বিক্ষোভকারীদের এ কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেনি। পরে ‘আনন্দবাজার হায় হায়’ স্লোগান দিতে দিতে তারা স্থান ত্যাগ করেন।

গত ২০ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পরদিন আনন্দবাজার পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ওই শিরোনাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তা না হলে গেরুয়া বসন পরে এর প্রতিবাদ করা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এরপর ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, আনন্দবাজার পত্রিকা সরকারের সমালোচনা করতে পারে, মুখ্যমন্ত্রীরও সমালোচনা করতে পারে। তবে গেরুয়া রংকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। পুলিশের কথা মেনে তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছেন বলেও দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিবাদ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটসের পক্ষ থেকে রঞ্জিত শূর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আনন্দবাজার কার্যালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে গেরুয়া বাহিনী পত্রিকাটির ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনামকে সঠিক প্রমাণ করেছে।

ঘটনার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। পত্রিকাটির সম্পাদক ঈশানী দত্ত রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, গেরুয়া রং লাগানো দেয়ালটি আবার সাদা রঙে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ছবির সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে ‘উচ্চ যেথা শির’ কথাটি উল্লেখ করেন।



ক্যাম্পাস

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, কুবি শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, কুবি শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সনদ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকের পাঠানো বার্তায় ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন ও অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফল প্রকাশের পর তিনি শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠান। পরে শিক্ষক ওই বার্তার জবাব দিলে তিনি তাতে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এ ঘটনাকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগ থেকে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি বিভাগীয় প্রধানকে জানান। পরে বিষয়টি একাডেমিক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তা রেজিস্ট্রারকে অবহিত করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ওই শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমে যথাযথ মনোযোগ ও আন্তরিকতা দেখাননি। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তিনি ইন্টার্নশিপ প্রতিবেদন জমা দেন। এরপরও শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয়। প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রতিবেদনের মান অনুযায়ী তাকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ফল প্রকাশের পর মুজিবুর রহমান শিক্ষককে জানান যে তিনি ইন্টার্নশিপে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ও শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান এবং তাকে মনে রাখবেন বলে মন্তব্য করেন। পরে শিক্ষক ওই বক্তব্যের জবাব দিলে শিক্ষার্থী তাতে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। অভিযোগপত্রে এ প্রতিক্রিয়াকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার যথাযথভাবে জানানোর প্রয়োজন ছিল। সে অনুযায়ী তিনি বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর বিষয়টি জানিয়েছেন। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে।

তিনি বলেন, তার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানানো উচিত মনে হয়েছে। তাই সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এর পরবর্তী কোনো বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সনদ নিতে বিভাগে যাওয়ার পর শ্রেণি প্রতিনিধির মাধ্যমে দপ্তর থেকে তাকে ফোন করে সনদ না তুলতে বলা হয়। বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সনদ দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি বিভাগে গেলেও চেয়ারম্যানকে পাননি। পরে ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, রেজিস্ট্রার দপ্তরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি শেষ হলে সনদ নেওয়ার ক্ষেত্রে কী করতে হবে, তা জানানো হবে।

‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে অশোভন আচরণ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না এমন প্রশ্ন তুলে মুজিবুর রহমান বলেন, তিনি শিক্ষককে একটি বার্তায় ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং শিক্ষক সেটির জবাব দেন। ওই জবাবে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দিয়েছেন। তার প্রশ্ন, শুধু এ কারণে তার সনদ আটকে রাখা যায় কি না।

তিনি আরও বলেন, ইন্টার্নশিপে তাকে কম নম্বর দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। এটি শিক্ষকের মূল্যায়নের বিষয়। তবে সনদ নিতে এসে তাকে জানানো হয়েছে যে সেটি দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোর্স শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। কী ঘটেছিল, তা সংশ্লিষ্ট কোর্স শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে সনদ আটকে রাখার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও অবগত নন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সনদ আটকে রাখা যায় না। তবে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে তারা সাময়িকভাবে সনদ আটকে রাখার সুপারিশ করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, তারা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।