প্রিন্ট: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ডিবি কার্যালয়ে সমন্বয়কদের খাওয়ার ছবি
‘আমি নাই স্যার’ কাদেরকে বলেছিলেন ডিবির সেই হারুন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অডিও কথোপকথনে এই তথ্য উঠে এসেছে। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-কে এ তথ্য জানান প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন।
ওই কথোপকথনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিজের বদলি ঠেকানোর অনুরোধ করে হারুন বলেছিলেন, ‘স্যার, এটা (তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা) যদি অহন স্যার না করেন, তাহলে কিন্তু অর্ডার এহন করে দিবে স্যার। আমি নাই স্যার। ডিবিতে নাই স্যার। অর্ডার করে দিবে।’ অবশ্য ওই ঘটনার পর ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই হারুনকে ডিবি থেকে বদলি করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) দায়িত্ব দেওয়া হয়।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। এ সময় তিনি গণ-অভ্যুত্থানে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে অন্যদের ফোনে কথা বলার কথোপকথন তুলে ধরেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মধ্যে ফোনে একটি কথোপকথন হয়। সেখানে কাদের বলেন, ‘হারুনকে কি সরায়ে দিচ্ছেন?’ জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উনি (শেখ হাসিনা) তো খুব অ্যাডামেন্ট (অনমনীয়)। আমরা সরাই নাই। উনি বলছিলেন অন্য খানে দিতে। আমি ডিএমপিতেই রেখে দিছি। মানে ড্রেসটা পরিবর্তন করে দিচ্ছি।’ একপর্যায়ে আসাদুজ্জামান বলেন, আপনি একটু বলেন, বলতে বলতে আমি টায়ার্ড হয়ে গেছি। আপনি একটু না বললে আমি আর সাহস পাচ্ছি না। পরে কাদের বলেন, একটু ওয়েট করেন। একটু পর আসাদুজ্জামান বলেন, সব ‘ডিমোরালাইজড’ হয়ে যাবে। তখন কাদের বলেন, এটা আপনি নেত্রীকে বলে দিবেন। এ সময় আইজিপির (তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন কাদের।
সম্পর্কিত খবর
ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ বললেন চিফ প্রসিকিউটর
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ফাইল ছবি
জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘রাজনৈতিক জোকার’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে যুক্তিতর্কের সময় তিনি এ কথা বলেন।
পরে এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল, তখনই নিজেদের প্রথম শ্রেণির এবং অন্যদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবতো। এছাড়া দেশের ইতিহাসে একজন রাজনৈতিক ‘জোকার’ বা পলিটিক্যাল ক্লাউন হলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কারণ তার বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তা কোনও রাজনৈতিক নেতাসুলভ বক্তব্য নয়।’
পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল
তিনি আরও বলেন, ‘একজন টিকটকার হিসেবে তাকে সবাই অভিহিত করেন। তার বক্তব্যকে টিকটকাররা ব্যবহার করেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য-কর্মকাণ্ডের কারণে জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।’
এ মামলায় ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী অন্য আসামিদের প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘তারাও এরকমই দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ছদ্মবরণে তারা ছিলেন দুর্বৃত্তপরায়ণ, দুর্নীতিবাজ ও দুষ্কৃতকারী। তারা প্রত্যেকেই মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত দায় ও সুপিরিয়র কমান্ডের দায় রয়েছে। এ কারণে আমরা সাত আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। কেননা মামলার সব অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে প্রসিকিউশন।’
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এমন দুর্বৃত্তপরায়ণ রাজনীতিবিদ ভবিষ্যতে আবারও জন্ম নেবে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশে তাদের মতো এমন দুষ্কৃতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ আর ফিরে না আসুক। এরকম কোনও ব্যক্তি যেন বাংলাদেশে আর কখনোই রাজনীতি করার সাহস না পান। এসব কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।’
ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। এরপর গত ৪ আগস্ট এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।
সম্পর্কিত খবর
রাজধানীতে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন। মিছিল চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চারজনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করে মোটরসাইকেলযোগে কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। মিছিলটি টার্মিনাল এলাকার সামনে দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে।
তারা হলেন- সরকারি বাংলা কলেজ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) কর্মী আসলাম মিয়া (২৫) ও আশিকুল ইসলাম (২৪) এবং আওয়ামী লীগের কর্মী মাহফুজুর রহমান সিয়াম (১৯) ও মনির হোসেন (৪৮)।
ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করার জন্য জড়ো হচ্ছিলেন। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা পালিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সম্পর্কিত খবর
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেতু ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় যারা আগুন দিয়েছিল, তাদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, ‘ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে, তো তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে। এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে। এখন অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।’
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে ফোনে আলাপের সময় শেখ হাসিনা এ কথা বলেছিলেন বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সোমবার শেখ হাসিনার এই কথোপকথনের লিখিত সংস্করণ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় সোমবার চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। সে সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদেরের একাধিক কথোপকথনের লিখিত সংস্করণ তুলে ধরেন।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে অন্যদের মোবাইলে আলাপ সরকারি সংস্থায় রেকর্ড হয়েছিল। সেগুলো ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা সংগ্রহ করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিকে দেখা গেছে, রেকর্ড করা এসব অডিও কথোপকথন সত্য।
ওই রেকর্ড অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওরা কিন্তু সব ওই জায়গায় আবার তৈরি হচ্ছে, শুধু আগুন দিয়ে পুড়াবে সব।’ ‘হ্যাঁ’ বলে জবাব দেন হাছান মাহমুদ। পরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘না, আমাদের লোক থাকতে বলো ...। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে, এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পুড়াবে আর কী করবে।’ ‘জি জি’ জবাব দেন হাছান মাহমুদ। তখন শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন অন্য কিছু করে লাভ নাই। তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।’