প্রিন্ট: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে আহত শিবিরকর্মীর মৃত্যু
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
সালাউদ্দিন। ফাইল ছবি
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যুবদল নেতার ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন (২৬) মারা গেছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। গত ২১ জুন বিকাল ৩টার দিকে বোনারপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার পর ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
নিহত সালাউদ্দিন সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের শিমুলতাইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক সরকার ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে সম্প্রতি বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উপজেলা চত্বরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টরা উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা চত্বরে ওই ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথা এলাকায় অবস্থান করছিলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন।
এ সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুলসহ ১০ থেকে ১৩ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। একই ঘটনায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহও গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বগুড়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে ৪৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘ ৪৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার সকালে সালাউদ্দিন মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সম্পর্কিত খবর
গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন জামায়াত আমির: রাশেদ খান
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বেইমানি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে তার নিজ গ্রাম ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ এলাকার ‘মিয়ার দালান’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, ডা. শফিকুর রহমানকে এতদিন মজলুম নেতা হিসেবে জানতাম। তবে তিনি যে মুখোশধারী ছিলেন, তা গণঅভ্যুত্থানের পরই স্পষ্ট হয়েছে। তিনি গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন- অর্থাৎ গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রথম বেইমানিটি তিনিই করেছেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার জন্য এমন কোনো অন্যায়, অপরাধ, মিথ্যাচার ও মুনাফেকি নেই যা তারা করেনি। নির্বাচনের আগে আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে।
রাশেদ খান বলেন, জনগণ এখন বুঝতে পেরেছে, এ দেশের যা কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন, তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে হয়েছে। ঠিক একইভাবে আগামীর বাংলাদেশের পরিবর্তন হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ভূমিকা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, নাহিদ ইসলাম গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত একদম সঠিক পথেই ছিলেন। কিন্তু যে মুহূর্তে তিনি জামায়াতে ইসলামীর ফাঁদে পা দিয়েছেন, ঠিক তখন থেকেই তিনি বিপথগামী হয়েছেন।
এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্কিত খবর
মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করলেন আইনমন্ত্রী
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুদদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সুতরাং যারা মজুতদারি করবেন তারা ভেবে চিন্তে করবেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ৎ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হয় আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে ন্যায্য দাম পান না। বাজারে আসার পরে কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত ২ কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপরে আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারা কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অনায্য।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব। এরই মধ্যে সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলব, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।
আইনমন্ত্রীর বাজার পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্কিত খবর
নাটোরে বাস-নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুরে যাত্রীবাহী বাস ও গরুবোঝাই নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর উপজেলার হাজিরহাট তালবাড়িয়া গ্যাসপাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—বড়াইগ্রাম পৌরসভার লক্ষীকোল এলাকার আব্দুর রহমান (৭০), ধামানিয়াপাড়া এলাকার আক্কাস আলী (৫৮) এবং তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম (৪৮)।
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতরা নছিমনে গরু নিয়ে সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা হাটে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা আরআর ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে নছিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে বাসটির সামনের কাচ ভেঙে দুমড়েমুচড়ে গেলেও বাসের কোনো যাত্রী হতাহত হননি। তবে নছিমনে থাকা তিন গরু ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন।
ওসি জানান, আব্দুর রহমান বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আক্কাস আলীকে গুরুতর আহত অবস্থায় বড়াইগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। অপরজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ ও দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি মনিরুজ্জামান।
সম্পর্কিত খবর
মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করলেন আইনমন্ত্রী
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ফাইল ছবি
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুদদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সুতরাং যারা মজুতদারি করবেন তারা ভেবে চিন্তে করবেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ৎ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হয় আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে ন্যায্য দাম পান না। বাজারে আসার পরে কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত ২ কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপরে আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারা কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অনায্য।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব। এরই মধ্যে সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলব, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।
আইনমন্ত্রীর বাজার পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পর্কিত খবর
টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং গ্রাহকের ঘাড়ে ‘ভূতুড়ে বিল’
যুগান্তর প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। মাসে মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও কারও বিল দ্বিগুণ, আবার কারও তিন-চার গুণ পর্যন্ত বাড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডাররা অনেক সময় মিটার না দেখেই মনগড়া বিল তৈরি করছেন। এমনকি ঘুস না দেওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গ্রাহকদের ভাষায়, স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ইউনিট দেখিয়ে তৈরি করা এসব বিলই ‘ভূতুড়ে বিল’। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলারঘোনা গ্রামের মো. আবু হানিফের বাড়িতে তিনটি লাইট, তিনটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ রয়েছে। তার দাবি, বেশিরভাগ সময় লোডশেডিং থাকলেও বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কাগজের কোনো মিল নেই। প্রায় ৫শ ইউনিট অতিরিক্ত দেখিয়ে বিল করা হয়েছে। আবু হানিফ বলেন, আগে সাড়ে ৩শ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ টাকা বিল আসত। এখন প্রায় দুই হাজার টাকা করে বিল আসছে। মিটার রিডাররা মিটার না দেখেই বিল করেন। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা একেএম নজরুল ইসলামেরও একই অভিযোগ। তার মিটারে ২ হাজার ৮৫৮ ইউনিট দেখালেও এরই মধ্যে তিনি ৪ হাজার ১৫০ ইউনিটের বিল পরিশোধ করেছেন। ১ হাজার ২৯২ ইউনিটের বিল পরিশোধের পরও গত মাসে ২ হাজার ২০২ টাকার আরেকটি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিডাররা কৌশলে ঘুস দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরের মাস থেকেই অতিরিক্ত বিল আসতে শুরু করে।
অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিটার রিডার বলেন, তারা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নন, মাস্টাররোলে কাজ করেন। বিভিন্ন কোম্পানির মতো তাদের ওপরও বিলের টার্গেট দেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় বাড়তি বিল করতে বাধ্য হন তারা। এ থেকে ঊর্ধ্বতন থেকে নিুপদস্থ কর্মচারীরাও ভাগ পান বলে দাবি করেন তিনি।
ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, তার বাসায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউনিট অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। মিটার রিডার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি।
জাহিদ নামে আরেক গ্রাহক বলেন, টাঙ্গাইলের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক ভূতুড়ে বিলের শিকার। কিন্তু কার কাছে অভিযোগ করলে দ্রুত সমাধান হবে, সেটিও অনেকে জানেন না। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।
সম্পর্কিত খবর
টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিং গ্রাহকের ঘাড়ে ‘ভূতুড়ে বিল’
যুগান্তর প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। মাসে মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও কারও বিল দ্বিগুণ, আবার কারও তিন-চার গুণ পর্যন্ত বাড়ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডাররা অনেক সময় মিটার না দেখেই মনগড়া বিল তৈরি করছেন। এমনকি ঘুস না দেওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। গ্রাহকদের ভাষায়, স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি ইউনিট দেখিয়ে তৈরি করা এসব বিলই ‘ভূতুড়ে বিল’। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে বারবার অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের ফৈলারঘোনা গ্রামের মো. আবু হানিফের বাড়িতে তিনটি লাইট, তিনটি ফ্যান ও একটি ফ্রিজ রয়েছে। তার দাবি, বেশিরভাগ সময় লোডশেডিং থাকলেও বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে বিলের কাগজের কোনো মিল নেই। প্রায় ৫শ ইউনিট অতিরিক্ত দেখিয়ে বিল করা হয়েছে। আবু হানিফ বলেন, আগে সাড়ে ৩শ থেকে সর্বোচ্চ ৫শ টাকা বিল আসত। এখন প্রায় দুই হাজার টাকা করে বিল আসছে। মিটার রিডাররা মিটার না দেখেই বিল করেন। বিদ্যুৎ অফিসে বারবার জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা একেএম নজরুল ইসলামেরও একই অভিযোগ। তার মিটারে ২ হাজার ৮৫৮ ইউনিট দেখালেও এরই মধ্যে তিনি ৪ হাজার ১৫০ ইউনিটের বিল পরিশোধ করেছেন। ১ হাজার ২৯২ ইউনিটের বিল পরিশোধের পরও গত মাসে ২ হাজার ২০২ টাকার আরেকটি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মিটার রিডাররা কৌশলে ঘুস দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরের মাস থেকেই অতিরিক্ত বিল আসতে শুরু করে।
অভিযোগের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিটার রিডার বলেন, তারা সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত নন, মাস্টাররোলে কাজ করেন। বিভিন্ন কোম্পানির মতো তাদের ওপরও বিলের টার্গেট দেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় বাড়তি বিল করতে বাধ্য হন তারা। এ থেকে ঊর্ধ্বতন থেকে নিুপদস্থ কর্মচারীরাও ভাগ পান বলে দাবি করেন তিনি।
ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবু সাইদ বলেন, তার বাসায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইউনিট অতিরিক্ত বিল করা হয়েছে। মিটার রিডার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ অফিসে জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি।
জাহিদ নামে আরেক গ্রাহক বলেন, টাঙ্গাইলের প্রায় ৯০ শতাংশ গ্রাহক ভূতুড়ে বিলের শিকার। কিন্তু কার কাছে অভিযোগ করলে দ্রুত সমাধান হবে, সেটিও অনেকে জানেন না। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা দ্রুত সমাধান করা হয়।