ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘বংশ রক্ষায়’ জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ২৯ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন দাবি করেছেন, নিজের উপার্জনের টাকায় এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন (৫০) ঢাকার মতিঝিলে আলফা গ্রুপের একটি শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়াশসন গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হন। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সি একটি মেয়ে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ৭ নভেম্বর আব্দুল মতিন ও মমতাজ বেগমের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর চলতি বছরের ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন। এরপর থেকেই পরিবারে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘বংশ রক্ষায়’ জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। গুলি তার ডান চোখের পাশ দিয়ে মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ থেকে ৭ লাখ টাকা কাবিন এবং প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কিনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানার পর গত ২ জুন মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিনকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে নির্বৃত্ত করেন।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, শহীদ শাহরিয়ারের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার সঙ্গেও আব্দুল মতিন জড়িত ছিলেন। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

‘বংশ রক্ষায়’ জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা

বিজ্ঞাপন

শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতেই পারিনি। এর মধ্যেই আমার অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তিনি দাবি করছেন আমি সম্মতি দিয়েছি, কিন্তু সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার জানামতে, তার নিজের সামর্থ্যে এত দামি স্বর্ণালংকার কেনা সম্ভব নয়। আমার শহীদ ছেলের জন্য পাওয়া সরকারি অনুদানের টাকার ওপর ভর করেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে তার স্বাক্ষর জাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এছাড়া শহীদ ছেলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ারও চেষ্টা করেছেন আব্দুল মতিন।’

তবে সব অভিযোগ নাকচ করে মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, ‘বংশ রক্ষার স্বার্থে এবং আমার মায়ের অনুরোধে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিয়ের আগে আমার প্রথম স্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। এখন তিনি তা অস্বীকার করছেন। আমি চাকরি করি এবং নিজের উপার্জনের টাকায় বিয়ে করেছি। শহীদ ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করেছি, এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

বিজ্ঞাপন

‘বংশ রক্ষায়’ জুলাই শহীদ ছেলের ‘অনুদানের টাকায়’ দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের পর পাঁচবার প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাইনি। বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে জুলাই সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল নাকিব বলেন, ‘আইন ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একজন পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারেন। তবে এমন সিদ্ধান্ত এমনভাবে নেওয়া উচিত, যাতে পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকে এবং কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। বিশেষ করে একজন জুলাই শহীদের পরিবারের ক্ষেত্রে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে শহীদদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়।’

বিজ্ঞাপন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ময়মনসিংহের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘একজন জুলাই শহীদের বাবা হিসেবে মতিন সাহেবের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যথিত করেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত মোটেও সমীচীন হয়নি। শহীদ পরিবারের প্রতি মানুষের যে সম্মান ও প্রত্যাশা রয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী (শহীদ ও আহত সেল) আল নূর আয়াস বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তাকে নিয়েই সংসার পরিচালনা করা সম্ভব ছিল। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শহীদ পরিবারের মর্যাদা ও মানুষের অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

হোসাইন সুলভ/এফএ/এমএস

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে ঘুমন্ত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি | ফরিদপুর | প্রকাশিত: ১১:১১ এএম, ২৯ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী হানিফ শেখের (২৩) বিশেষ অঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের (২২) বিরুদ্ধে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল আটটার দিকে উপজেলার পৌরসদরের হোগলাডাঙ্গী সদরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হানিফ শেখ উপজেলার পুখুরিয়া এলাকার রফিক শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের বাবার বাড়ি ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া এলাকায়। তবে সম্প্রতি তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাস দেড়েক আগে তারা পৌরসভার হোগলাডাঙ্গী সদরদী এলাকায় বদিউজ্জামানের বাড়িতে বাসা ভাড়া নেন। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত। রোববার রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। সোমবার সকালে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামী হানিফ শেখের বিশেষ অঙ্গ কেটে দেন তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। এ সময় হানিফ শেখের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে। পরে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করা হয়। তবে রোগীর বিশেষ অঙ্গ সামান্য একটু ঝুলে ছিল। সেক্ষেত্রে জোড়া লাগানোর সম্ভাবনা খুবই কম। এ ক্ষেত্রে প্রচুর রক্তক্ষরণ বন্ধ করা না গেলে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত সুমাইয়া আক্তারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এফএ/এমএস

পরবর্তী খবর

ভারত থেকে আমদানির পর রপ্তানি হয় ‘সিলেটের সাতকরা’ নামে

আহমেদ জামিল | সিলেট | প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২৯ জুন ২০২৬

লেবু জাতীয় ফল সাতকরা। আলাদা সুগন্ধ ও স্বাদের কারণে ভোজন রসিকদের কাছে এটি খুবই প্রিয়। গরু বা খাসির মাংস রান্নায় সাতকরার কোনো তুলনা চলে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যারাই সিলেটে আসেন, তাদের খাবারের তালিকায় পছন্দের শীর্ষে থাকে সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস ভুনা।

সাতকরাকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ফল বলা হলেও এটি মূলত সারা বছরই ভারত থেকে আমদানি করা হয়। আবার সিলেট থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। যে কারণে এটিকে সিলেটের সাতকরা বলা হয়ে থাকে।

সিলেট অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষি বিভাগের অর্ধশতাধিক ফলের তালিকায় সাতকরার অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভাগের চার জেলার মধ্যে শুধুমাত্র সিলেট জেলায় মাত্র ১ হেক্টর জমিতে সাতকরার আবাদ হয়েছে। আর ফলন হয়েছে মাত্র ১ মেট্রিক টন।

অবশ্য একসময় সিলেট অঞ্চলে সাতকরা দেখা গেলেও এখন সেই চিত্র প্রায় বিলীন। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ‘সাতকরাকান্দি’ গ্রামও একসময় সাতকরার জন্য পরিচিত ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখন সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি গাছ ছাড়া আর তেমন উৎপাদন নেই।

ভারত থেকে আমদানি করে রপ্তানি হয় ‘সিলেটের সাতকরা’ নামে

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই ও চাষাবাদে অনাগ্রহের কারণে সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে সাতকরা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দেশে সাতকরার বাজার এখন ভারত থেকে আমদানিনির্ভর।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি হওয়া সাতকরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি করা হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর সাতকরা ব্যবসায় লোকসানের কারণে এবার ভারত থেকে আমদানিও কম হয়েছে। সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও কদমতলী এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে সাতকরার সরবরাহ খুবই কম। যে কয়েকটি দোকানে সাতকরা পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো আকারে এখনও ছোট ও পুরোপুরি পরিপক্ব নয়। মানভেদে প্রতিপিস সাতকরা ৪০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু দোকানে আরও বেশি দামও চাওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত কোরবানির ঈদের আগে ভারতীয় সীমান্তবর্তী আসাম ও মেঘালয় থেকে প্রচুর সাতকরা আসে। কিন্তু এবার আমদানি কম হওয়ায় বাজারে সংকট রয়েছে।

বন্দরবাজারের সাতকরা বিক্রেতা মোসাইদ আলী বলেন, ‘ঈদের সময় সাতকরার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রবাসীরা দেশে এলে বেশি কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার বাজারে সাতকরা কম।’

ভারত থেকে আমদানি করে রপ্তানি হয় ‘সিলেটের সাতকরা’ নামে

নগরীর কদমতলী ফল বাজারের সাতকরার পাইকারি বিক্রেতা সুজন মিয়া বলেন, সিলেটে সাতকরার ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমদানিকারকরা বর্তমানে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভারত থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বস্তা সাতকরা আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিকেজি সাতকরায় সরকারকে কর দিতে হয় ৭৬ টাকা। অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে বর্তমান বিক্রয়মূল্যে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। লোকসান হওয়া সত্ত্বেও কেবল সিলেটের ঐতিহ্য ধরে রাখার খাতিরে ব্যবসায়ীরা এই পণ্যটি আমদানি অব্যাহত রেখেছেন।

সাতকরা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. নাজমুল আলম লিজন বলেন, সাতকরা সিলেটের এখন আর নেই বললেই চলে। ভারতের আসাম, মিজোরাম ও মেঘালয় লাজ্যের উঁচু পাহাড়ে সাতকড়া জন্মায়। আমরা ভারত থেকেই সাতকরা আমদানি করে থাকি।

তিনি বলেন, এখন সতকরা আমদানি কমে গেছে। একসময় সিলেটের ৪-৫ জন ব্যবসায়ী সাতকরা আমদানি করতেন। লোকসান গুণতে গুণতে এখন এক-দুইজন ছাড়া সবাই এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

সিলেটের খাদিমনগর এলাকার হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. রকিবুল ইসলাম রুমন বলেন, সিলেটে যে সাতকরা পাওয়া যায়, তা মূলত সিলেটের নিজস্ব পণ্য নয়। এটি ভারত থেকে আমদানি করা হয়। জকিগঞ্জ সীমান্তের ওপারে ভারতের করিমগঞ্জ এলাকায় প্রচুর সাতকরার বাগান থাকলেও আমাদের সিলেটে এ ধরনের কোনো বাগান দেখা যায় না। সাতকরাকে সিলেটের নিজস্ব ব্র্যান্ড বা পণ্য হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিলেটের জৈন্তাপুরে অবস্থিত সাইট্রাস রিসার্চ ইনস্টিটিউট এটি নিয়ে গবেষণা করছে, তবে সিলেটে এর উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু সাতকরা গাছ লাগিয়েছি। কিন্তু সেগুলোর বৃদ্ধি খুবই ধীর। দীর্ঘ সময় পার হলেও তাতে এখনো ফল ধরেনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, একসময় সাতকরা সিলেটের গর্ব ছিল। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক উৎপাদন প্রায় নেই বললেই চলে। বর্তমানে বাজারের চাহিদা ভারতীয় সাতকরার ওপর নির্ভরশীল। এসব সাতকরার একটি অংশ আবার ‘সিলেটি সাতকরা’ নামে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

এফএ/জেআইএম

পরবর্তী খবর

মমেক হাসপাতালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি | ময়মনসিংহ | প্রকাশিত: ১০:৫৪ এএম, ২৯ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মারা যাওয়া শিশুটি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার নয় মাস বয়সি এক ছেলে। গত ২৭ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২৮ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৭ শিশু।

গত ১৭ মার্চ থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২ হাজার ৪২৭ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ২৭২ জন। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৫ শিশু।

হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে রোগীর চাপ ধীরে ধীরে কমছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাও কমেছে এবং অনেক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।’ তাই শিশুদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক এনআইসিইউ সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে। শিগ্‌গিরই এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে পূর্ণাঙ্গভাবে সেবা চালু করা হবে। এনআইসিইউ চালু হলে সংকটাপন্ন নবজাতকদের আরও আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে, যা শিশু মৃত্যুহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

হোসাইন সুলভ/এফএ/জেআইএম

পরবর্তী খবর

তিস্তায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

জেলা প্রতিনিধি | লালমনিরহাট | প্রকাশিত: ১০:২৩ এএম, ২৯ জুন ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার সকাল ৬টায় পানি বিপৎসীমার সমান অবস্থানে থাকলেও পরবর্তীতে আবারও তা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর বা আশপাশে অবস্থান করছে।

এর আগে গত ২৩ জুন একবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে উঠলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এবার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এরই মধ্যে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। রাতের মধ্যে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে অনেকে বসতবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। চরাঞ্চলে তেমন আবাদ না থাকলেও মৎস্য চাষিদের পুকুরের মাছ পানির সঙ্গে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং বিকেল ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। তবে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

তিস্তায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পাটগ্রামের গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারী, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল।

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল ইসলাম বলেন, কাল রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। এবার বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমরা এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছি, তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি।

গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা তানজিলা আক্তার বলেন, গত রাতেই আমাদের বাড়িতে পানি উঠে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছি। টানা বৃষ্টির মধ্যে খুব কষ্টে দিন কাটছে। তিস্তা আমাদের শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার পাশাপাশি পানি কমে যাওয়ার পর নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তার ডান তীর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

মহসীন ইসলাম শাওন/এফএ/জেআইএম

পরবর্তী খবর

বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে দুধকুমার, বন্যার শঙ্কা

জেলা প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম | প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ২৯ জুন ২০২৬

বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগু‌লো পানি বৃদ্ধি পে‌য়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদীর পানি বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি সকাল ৯টায় ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। এসময় ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সকাল থে‌কে এ প‌য়ে‌ন্টে ৭ সে‌ন্টি‌মিটার পা‌নি বৃ‌দ্ধি পে‌য়েছে।

এছাড়া ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ২৫ দশমিক ৪৫ মিটার। যা বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে। তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি ৩০ দশমিক ৪৭ মিটার। যা বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। কুড়িগ্রামে ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে দুধকুমার, বন্যার শঙ্কা

পা‌নি উন্নয়ন বোর্ড বল‌ছে, সোমবার সকাল ৬টা থে‌কে ৯টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পা‌নি নুনখাওয়া প‌য়েন্টে ২ সে‌ন্টি‌মিটার, হাতিয়া প‌য়ে‌ন্টে ২ সে‌ন্টি‌মিটার ও চিলমারী প‌য়ে‌ন্টে ১৩ সে‌ন্টি‌মিটার বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে বিপৎসীমার নিচ দি‌য়ে প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে। চিলমারীতে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বেড়ে সকাল ৯টায় ২৯ দশমিক ২৫ মিটারে পৌঁছেছে। যা সকাল ৬টা থে‌কে ২৫ সে‌ন্টি‌মিটার বৃ‌দ্ধি পে‌য়ে বিপৎসীমার মাত্র ৬ সেন্টিমিটার নিচ দি‌য়ে প্রবা‌হিত হ‌চ্ছে। সেখানে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজা‌নের ঢ‌লে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে‌ছে। অন‌্য নদীগু‌লোর পা‌নিও বৃ‌দ্ধি পা‌চ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

রোকনুজ্জামান মানু/এফএ/জেআইএম

News Hub
Icon
‘ধৈর্য হারিয়ে’ মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির, অস্থির শিক্ষাঙ্গন