ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

দেশি অ্যাভিয়েশন বাজারের ৭০% বিদেশি এয়ারলাইন্সের দখলে: ইউএস-বাংলা এমডি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

‘বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অ্যাভিয়েশন মার্কেটগুলোর মধ্যে একটি। তবুও বর্তমানে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের ৩০ শতাংশেরও কম সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছ থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা) রাজস্ব আয় করছে।’

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আয়োজিত ‘বিয়ন্ড দ্য বোয়িং’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ লিজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা যে প্রতিটি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করছি, তা আমাদের জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ইউরোপ, ওশেনিয়া ও উত্তর আমেরিকার প্রধান গন্তব্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে সরাসরি সংযুক্ত করতে আমরা অতিরিক্ত ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে।’

বিজ্ঞাপন

জনবলের ওপর বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনবলের ওপর বিনিয়োগ করতেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ জন মেধাবী তরুণ বাংলাদেশিকে দক্ষ পাইলট এবং ১০০ জন তরুণকে প্রত্যয়িত বিমান প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ স্পন্সরশিপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি প্রশিক্ষণ উদ্যোগ নয়, দেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। দক্ষ অ্যাভিয়েশন পেশাজীবী গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছি। এর ফলে ক্রমবর্ধমান অ্যাভিয়েশন শিল্প থেকে সৃষ্ট মূল্যের আরও বড় অংশ দেশের নিজস্ব অর্থনীতিতেই থাকবে।’

এমএমএ/এমএএইচ/

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী খবর

ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ঢামেক প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হলের বিপরীত পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় (৪০) এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান জানান, বিকেলের দিকে খবর পেয়ে ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের বিপরীত পাশের ফুটপাতে অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখি। পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসআই নাজমুল আরও জানান, ওই ব্যক্তি ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই থাকতেন। মাদক সেবন করতেন তিনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তার পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিনকে খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

কেএজেডআইএ/এমএমকে

পরবর্তী খবর

বোয়িংয়ে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪৮ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করবে। এর ফলে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভ্রমণসেবা উন্নত হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে দেশের বেসরকারি উড়োজাহাজ সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আয়োজিত ‘বিয়ন্ড দ্য বোয়িং’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ লিজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল তৈরির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জনবল তৈরির জন্য বগুড়ায় একটি পাইলট ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে ইউএস-বাংলার এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।

তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের যৌথ উদ্যোগের সফলতা কামনা করে বলেন, সরকার বেসরকারি খাতের পাশে রয়েছে এবং দেশের অ্যাভিয়েশন শিল্পের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এমএমএ/এমএমকে

পরবর্তী খবর

খাবারে তেলাপোকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি, তিন রেস্তোরাঁকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, খাবারে তেলাপোকা, পোড়া তেল ব্যবহার এবং বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে তিনটি রেস্তোরাঁকে জরিমানা করা হয়েছে। নগরের ওয়াসা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব রেস্তোরাঁকে মোট এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে নগরের ওয়াসা এলাকার বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে হান্ডি রেস্টুরেন্টে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং খাবারে তেলাপোকা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া পোড়া তেল ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে সিপি ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি জামান রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বাসি খাবার ও পুরাতন বেগুনি বিক্রি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্লাহ বলেন, অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। এজন্য মোট এক লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

এমআরএএইচ/কেএসআর

পরবর্তী খবর

বাড্ডায় লেকপাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার

ঢামেক প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:৩৭ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর বাড্ডায় লেকপাড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির (৫০) মরদেহ পাওয়া গেছে। তিনি ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুদারাঘাট এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে গুদারাঘাট লেকপাড় এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখি। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের মুখে জানতে পারি, ওই ব্যক্তি ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। অসুস্থতার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তারপরও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আমরা সিআইডিকে খবর দিয়েছি। প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় সনাক্ত করা হবে। মরদেহ ঢামেক জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা আছে।’

কেএজেডআইএ/একিউএফ/জেআইএম

পরবর্তী খবর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

সাম্য হত্যা থেকে রাজীব শাহর নামাজের স্থান, ঢাকার ফুসফুসে ‘মাদকের ক্ষত’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল | প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬

হঠাৎ করেই আলোচনায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বানানো ‘নামাজের জায়গা’সহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘিরেই আলোচনার সূত্রপাত। বিষয়টিকে অনেকে সাধুবাদ জানালেও বিরোধিতা করছে একপক্ষ।

তবে এই বাদানুবাদের মধ্যে মূল বিষয়টি আড়ালে চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন পরিবেশবাদীরা। রাজধানী ঢাকার ফুসফুস খ্যাত এ উদ্যান যে ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের স্থায়ী আস্তানায় পরিণত হয়েছে— সে বিষয়টিই এতে চাপা পড়ে গেছে বলে মনে করছেন তারা। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় গত বছর ছাত্রদলের এক নেতাকে মাদকসেবীরা হত্যা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

jagonews24.com

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনেক জায়গায় দেখা যায় ময়লার স্তূপ/ ছবি- জাগো নিউজ

ছয় বছর আগে ২০২০ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সাতটি পয়েন্টে খাবারের রেস্তোরাঁর জন্য তৈরি করা হয় অবকাঠামো। পরিবেশবাদীদের বাধা ও মামলার কারণে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। সেসব অবকাঠামো এখন হয়ে উঠেছে ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের স্থায়ী আস্তানা। এমনকি কেউ কেউ সেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব ভবঘুরেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি এবং সেবন করে। এদের কেউ কেউ ছিনতাইয়ের সঙ্গেও জড়িত। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে একটু খোলামেলা পরিবেশে উদ্যানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা প্রায়ই এই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খোয়াচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, উদ্যানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য ইট, বালু ও পাথরসহ যেসব মালামাল এনে মজুত রাখা হয়- সেগুলো চুরি করে বিক্রি করছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী আটক ও গ্রেফতার হয়েছেন। গত বছরের ১৩ মে দিনগত রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) নিহত হন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায় তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

এরপরও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক বিক্রি-সেবন ও ভবঘুরেদের অবাধ বিচরণ কমেনি। এমনকি উদ্যানের কোথাও কোথাও অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে দখলেও অভিযোগ রয়েছে।

jagonews24.com

ময়লা-আবর্জনার কারণে উদ্যানে ঘুরতে আসা মানুষদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়/ ছবি- জাগো নিউজ

সম্প্রতি উদ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ‘নামাজের জায়গা’ উচ্ছেদ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, ‘নামাজের জায়গা’ নির্মাণের নামে রাজীব শাহ নামের এক মাদকাসক্ত যুবক উদ্যানের জমি দখলের পাঁয়তারা করছিলেন। উদ্যানে নাট্যশালা নির্মাণের জন্য যেসব ইট ও বালু মজুত রাখা হয়েছিল, সেগুলো এনেই তৈরি করা হচ্ছিল কথিত ওই ‘নামাজের জায়গা’। প্রশাসনিক উদ্যোগে স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হলেও বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছে উদ্যানের ভেতরে শিকড় গেড়ে বসা ভবঘুরেদের আস্তানা।

গত বছরের ১৩ মে দিনগত রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য নিহত হন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায় তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা স্থান ফাঁকা পড়ে থাকলেও চারপাশে মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। তাদের অবাধ বিচরণ ও অসামাজিক কার্যকলাপ নষ্ট করছে উদ্যানের পরিবেশ। উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের বস্তা, ময়লা-আবর্জনা এবং পরিত্যক্ত জিনিসপত্রের স্তূপ রয়েছে, যা এ উদ্যানের সৌন্দর্য ম্লান করে দিচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর উদাসীনতার সুযোগে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ অস্থায়ী খুপরি ও আবর্জনার ডিপো।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন চত্বর, গাছের তলা এবং কংক্রিটের বসার জায়গাগুলো ঘুরে দেখা যায় নৈরাজ্যকর পরিবেশ। উদ্যানের ভেতরের বিভিন্ন শেড ও উন্মুক্ত চত্বরে দিন-দুপুরেই ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে।

উদ্যানের নিরাপত্তায় রয়েছে একটি আনসার ক্যাম্প। তবে তাদের কার্যক্রম সেভাবে চোখে পড়েনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনসার ক্যাম্পের একাধিক সদস্য জানান, তারা প্রায়শই মাদক বিক্রেতাদের ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে মাদক কারবারিতে জড়িতদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক থাকায় অনেক সময় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া মাদকসেবীদের বেশিরভাগই প্রাণের মায়া করে না। তারা ছুরি ও লাঠি নিয়ে হামলা চালান।

সবমিলিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবেশ এখন এমন হয়েছে যে, সন্ধ্যা নামলে তো বটেই— দিন-দুপুরেও উদ্যানে বসে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের আসর। এসব চক্রের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী, গবেষক ও পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়।

jagonews24.com

উদ্যানের অভ্যন্তরে গড়ে তোলা বেশকিছু অবৈধ স্থাপনা সম্প্রতি উচ্ছেদ করে প্রশাসন/ ছবি- জাগো নিউজ

কথা হয় লালবাগের লোকমান হোসেনের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি জানান, একসময় নিয়মিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের অবাধ বিচরণের কারণে ভয়ে আর আসতে পারেন না।

হাতিরপুলের বাসিন্দা আতাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। উন্নয়নের নামে বিগত সরকারের আমলে কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এখন উদ্যানের রাস্তায় হাঁটতে গেলে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়। ভবঘুরেরা যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে। এদের কিছু বলতে গেলে জোটবদ্ধ হয়ে মারতে আসে।

মগবাজারের প্রবীণ বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, শুনেছি পরিবেশবাদীদের বাধা ও মামলার কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতটি খাবারের রেস্তোরাঁ চালু হয়নি। বর্তমানে সেগুলোই ভবঘুরেদের নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যে কোনো স্থাপনা বা উদ্যান যে উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে, সেটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে। এখন সোহরাওয়াদী উদ্যানে যা চলছে, তা উদ্যানের পরিবেশের জন্য মোটেও ভালো নয়।— বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উদ্যানের ভেতরে শত শত দোকানপাটের মেলা বসতো। অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের আমলে ভেতরের এসব দোকানপাট বসতে দেওয়া হচ্ছে না।

তার মতে, উদ্যানের ভেতরের রেস্তোরাঁর পরিত্যক্ত অবকাঠামো থেকে ভবঘুরেদের সরিয়ে দিতে পারলেই উদ্যানে মাদক কেনাবেচা কমবে এবং পরিবেশের উন্নতি হবে।

এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান জাগো নিউজকে বলেন, যে কোনো স্থাপনা বা উদ্যান যে উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে— সেটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি নিশ্চিত করা গেলে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়বে। এখন সোহরাওয়াদী উদ্যানে যা চলছে, তা উদ্যানের পরিবেশের জন্য মোটেও ভালো নয়।

তিনি বলেন, এই বিশাল উদ্যানকে জনসাধারণের উপযোগী করতে হবে। জনসাধারণের জন্য যেখানে যে স্থাপনা তথা মসজিদ, রেস্তোরাঁ বা অন্যান্য স্থাপনা করা দরকার— সেটি যাতে সেভাবেই করা হয়। এটা করা গেলে উদ্যানের পরিবেশ আরও সুন্দর হবে।

এমইউ/কেএসআর

News Hub
Icon
টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে মানতে হবে ১১ নির্দেশনা