ভারত এখন কেন ‘দালাল’ হতে চায়?
কূটনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ভারতের অবস্থান পরিবর্তন যেন এই চিরন্তন সত্যকে আবারও প্রমাণ করল। গত মার্চ মাসে এক সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাফ জানিয়েছিলেন, ভারত কোনো দেশের ‘দালাল’ হতে চায় না। তবে আগস্টের শুরুতে এসে সেই অবস্থান থেকে নাটকীয়ভাবে সরে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি।
গত ৩১ জুলাই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ করেন জয়শঙ্কর। এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের উত্তাপ কমাতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ভারত।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এই প্রস্তাবের পরেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ভারত এখন কেন আচমকা মধ্যস্থতাকারী বা জয়শঙ্করের ভাষায় ‘দালাল’ হতে চাইছে?
ইরানের কাছে ভারতের প্রস্তাব
ভারত ও ইরানের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই ফোনালাপ ছিল মূলত কৌশলগত। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। নয়াদিল্লি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত ও উত্তেজনা কমানোর সপক্ষে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এস জয়শঙ্কর/ ফাইল ছবি: ফেসবুক
হরমুজ প্রণালিসহ আঞ্চলিক সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও ক্রুদের ওপর হামলা বন্ধে ইরানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন নৌ-অবরোধকে দায়ী করেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আলোচনার দরজা খোলা রাখার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মার্চের সেই অনড় অবস্থান এবং ইউ-টার্ন
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত ও বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়। এ অবস্থায় গত ২৫ মার্চ ভারতকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ জানান ইরানি রাষ্ট্রদূত ।
কিন্তু এর ঠিক পরেরদিনই, অর্থাৎ ২৬ মার্চ এক সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিরোধী দলগুলোর চাপের মুখে স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘ভারত কোনো দালাল রাষ্ট্র হতে পারে না’।
ভারত তখন নিষ্ক্রিয় ‘ধীরস্থির নীতি’ বা ‘ওয়েট-অ্যান্ড-সি পলিসি’ অবলম্বন করেছিল। অথচ সেই অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে ভারত এখন নিজেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত থামাতে উদ্যোগী হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের দ্রুত পরিবর্তনই ভারতকে এই ইউ-টার্ন নিতে বাধ্য করেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়া
মার্চ মাসে ভারতের অনীহার সুযোগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সেতু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল পাকিস্তান। এপ্রিল মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ বা দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পরে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় জুনে ৬০ দিনের আরও একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সমঝোতা হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
তবে সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য আবারও চরম অস্থিতিশীলতার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে পাকিস্তান যখন দৃশ্যপট থেকে প্রায় ছিটকে গেছে, ঠিক তখন ভারত সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদকে পাশ কাটিয়ে এ অঞ্চলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এটিই মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করছে মোদী সরকার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদী/ ফাইল ছবি: ফেসবুক
বিজ্ঞাপন
ভারতের অর্থনৈতিক সংকট ও মূল স্বার্থ
ভারত কেন এখন মধ্যস্থতা করতে চাইছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্বার্থ।
- জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন: যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি আংশিক অবরুদ্ধ থাকায় ভারতের জ্বালানি তেল ও এলপিজি আমদানি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই রুট দিয়ে আসত। জ্বালানি সংকট ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে।
- প্রবাসীদের নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ ভারতীয় নাগরিক কাজ করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ ভারতীয়কে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিশাল রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধ থামানো ভারতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বৈশ্বিক নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা ও ট্রাম্প ফ্যাক্টর
ভারত নিজেকে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে এবং ওয়াশিংটনের চোখে নিজের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ধরে রাখতে এই মধ্যস্থতা ভারতের জন্য একটি বড় কার্ড।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেশ গভীর।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গেও রয়েছে ভারতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।
নয়াদিল্লি মনে করছে, পাকিস্তান বা কাতারের চেয়ে ভারত অনেক বেশি শক্তিশালী বৈশ্বিক অংশীদার। দুই চিরবৈরী দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—উভয়ের সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রেখে কথা বলার মতো গ্রহণযোগ্যতা এই মুহূর্তে কেবল ভারতেরই রয়েছে।
এ কারণেই মার্চের ‘নিষ্ক্রিয়’ ভারত আগস্টে এসে ‘সক্রিয়’ মধ্যস্থতাকারীর রূপ ধারণ করেছে। নিজের অর্থনীতিকে বাঁচানো এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে পাকিস্তানকে টেক্কা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে নিজেদের জাহির করতেই নয়াদিল্লি এখন তথাকথিত এই ‘দালালির’ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাইছে না।
সূত্র: দ্য ওয়ার, ইন্ডিয়া টুডে, মেহর নিউজ
কেএএ/
বিজ্ঞাপন
মরুভূমিতে তৃষ্ণায় ১৯ আফগান নাগরিকের মৃত্যু
অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রতিকূল মরুভূমি অঞ্চলে তৃষ্ণা ও তীব্র গরমে ১৯ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নিমরোজ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল রিগ লালো মরুভূমি থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর কয়েক দিন আগে কাছাকাছি অবস্থিত দাশত-ই মারগো বা ‘মৃত্যুর মরুভূমি’ থেকে আরও পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিমরোজের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক হাবিবুল্লাহ এলহাম জানান, শুষ্ক মরুভূমি অতিক্রমের সময় পানি ফুরিয়ে যাওয়ায় চরম তাপদাহ ও পানিশূন্যতায় ভুক্তভোগীরা মারা যান।
কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের পর নিখোঁজ দলের বাকি সদস্যদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়। পরে আরও ১৪টি মরদেহ উদ্ধার হলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ইরানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ওই ১৯ জনই যাত্রাপথে প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রাদেশিক মুখপাত্র আবদুল মুতাওয়াকিল তাওহিদি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রশাসন মরুভূমির দুর্গম এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও আফগান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সবাই উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তানের বাদগিস প্রদেশের একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। উন্নত কর্মসংস্থান ও ভালো অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় তারা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। তবে ইরান সীমান্তসংলগ্ন মরুভূমিতে তারা আটকা পড়েন।
সীমান্তবর্তী নিমরোজ প্রদেশ আফগানিস্তান থেকে দেশত্যাগে ইচ্ছুকদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত। বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি, অনুর্বর ভূপ্রকৃতি এবং গ্রীষ্মকালে প্রায়ই ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার কারণে এ অঞ্চলে পায়ে হেঁটে সীমান্ত অতিক্রম করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এ পথ দিয়ে যাত্রা করা অভিবাসীরা পানিশূন্যতা, তীব্র তাপদাহ এবং শারীরিক অবসাদসহ প্রাণঘাতী ঝুঁকির মুখে পড়েন।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ
এমএসএম
তুরস্ক-পাকিস্তানকে সতর্ক করল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী’ পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
রোববার (২ আগস্ট) পৃথক দুটি ফোনালাপে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতার সঙ্গে আলাপে মধ্যপ্রাচ্যের সবশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন আব্বাস আরাগচি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে অঞ্চলে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা–সংকট আরও বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আলাপের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে কোনো ধরনের ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপ’ না নেওয়ার আহ্বান জানান ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রয়োজনে ‘কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে।
সূত্র: মেহর নিউজ
কেএএ/
আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে সৌদি যুবরাজ ও ট্রাম্পের ফোনালাপ
সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেলিফোনে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, আলাপচারিতায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
যুবরাজ আরও বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, বৃহত্তর সংঘাতে অঞ্চলকে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি হতে পারে।
এ ফোনালাপ এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তিনি দেশটির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করেছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ জবাবে ইরান ‘দৃঢ় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ’ প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এদিকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে ভোর থেকে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র: গাল্ফ নিউজ
এমএসএম
সেভেন সিস্টার্স ছাড়াই ভারতের মানচিত্র ছাপাল ব্রিটিশ-ভারতীয় রেস্তোরাঁ
কমনওয়েলথ গেমসে সফল অভিযান শেষে ভারতীয় দলের সদস্যদের আপ্যায়নের সময় ‘বিশেষভাবে ছাপানো ন্যাপকিন’ ব্যবহার করে বিতর্কের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বক্সার লাভলিনা বোরগোহাইন খেয়াল করেন, ন্যাপকিনে ছাপানো মানচিত্রটিতে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে খ্যাত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া- দ্য হোম অব কারি’ নামক ওই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লাভলিনা বলেন, ন্যাপকিনের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বাদ পড়েছে। ভারতের প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিকভাবে তার প্রতিনিধিত্ব করা উচিত।
স্টার বক্সারের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বক্সিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (বিএফআই) সভাপতি অজয় সিং কাগজের ন্যাপকিনের সেই মানচিত্রে আরও কিছু বড় ধরনের ভুল তুলে ধরেন। যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের অসম্পূর্ণ চিত্রায়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অজয় সিং ভারতের সম্পূর্ণ আঞ্চলিক অখণ্ডতা ফুটিয়ে তুলতে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ওই ভুল ন্যাপকিনগুলো বাজারজাতকরণ থেকে তুলে নেওয়া ও মানচিত্রটি সংশোধন করার আহ্বান জানান।
গ্লাসগোর অত্যন্ত পরিচিত এই রন্ধনশিল্প প্রতিষ্ঠানটি ক্রীড়া দল ওবিশিষ্ট ব্যক্তিদের সফরসূচির অন্যতম আকর্ষণ হলেও, এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া’ পাঞ্জাবি ঐতিহ্য ও স্কটিশ আমেজকে একসঙ্গে পরিবেশন করে গ্লাসগোতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে।
সিং পরিবারের চার প্রজন্ম ধরে পরিচালিত এই রেস্তোরাঁটি খাবার, আতিথেয়তা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পাঞ্জাবের রন্ধনশৈলীকে স্কটিশ প্রভাবের সঙ্গে মিশিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে, যা গত তিন দশক ধরে শহরের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে সমৃদ্ধ করেছে।
উল্লেখ্য, গ্লাসগোতে আয়োজিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সিং দল ৭টি স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস রচনা করেছে, যা এই প্রতিযোগিতায় দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড।
বক্সিং প্রতিযোগিতায় ১০টি পদক জিতে ভারত আধিপত্য বিস্তার করে; যেখানে প্রীতি, জাসমিন, সাক্ষী, প্রিয়া, অরুন্ধতী, শচীন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাঙ্গাল স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পাশাপাশি জাদুমণি সিং, লাভলিনা বোরগোহাইন ও নরেন্দর রৌপ্য পদক নিশ্চিত করেন।
কমনওয়েলথ গেমসের বক্সিং ইতিহাসে এটিই ভারতের সেরা পারফরম্যান্স। গ্লাসগো ২০২৬ আসরের আগে পর্যন্ত সার্বিকভাবে ভারত মোট ৪৪টি পদক জিতেছিল, যার মধ্যে ১১টি স্বর্ণ, ১৩টি রৌপ্য ও ২০টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ
৬ মাসে সোনার দাম কমেছে ৬৭ হাজার টাকা, সামনে কী হবে?
বছরের শুরুতে অনেকটাই লাগামহীনভাবে ছুটছিল সোনার দাম। একের পর এক রেকর্ড গড়ে জানুয়ারিতে প্রতি ট্রয় আউন্সের দাম উঠে যায় ৫ হাজার ৫০০ ডলারেরও বেশি। তখন অনেকের ধারণা ছিল, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা আরও দীর্ঘ হবে।
কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে বদলে গেছে পুরো চিত্র। জুলাইয়ের শেষ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৪৪ ডলারে। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি ট্রয় আউন্সে সোনার দাম কমেছে ১ হাজার ৪০০ ডলারের বেশি। অর্থাৎ এই সময়ে সোনার দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
সোনা কিনে লাভবান হওয়ার উপায়
এখন প্রশ্ন, এটি কি আরও বড় পতনের ইঙ্গিত, নাকি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ?
সোনার দাম কতটা কমলো
গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ইতিহাসে প্রথমবার ৫ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।
বিশ্ববাজারে সোনা-রূপার মতো মূল্যবান ধাতু বেচাকেনা হয় ট্রয় আউন্সের হিসাবে। এখানে মনে রাখা দরকার, এটি সাধারণ আউন্স নয়। সাধারণ আউন্স সমান ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম।
তবে সোনা-রুপা বেচাকেনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০ গ্রাম প্রায়। ভরিতে হিসাব করলে এক ট্রয় আউন্স দাঁড়ায় ২ দশমিক ৬৭ ভরির কাছাকাছি।
সেই হিসাবে, বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম উঠেছিল প্রতি ভরি রেকর্ড ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ওপর।
আর জুলাইয়ের শেষে এর দাম নেমে এসেছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়।
অর্থাৎ, প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমেছে প্রতি ভরিতে প্রায় ৬৭ হাজার টাকা।
সোনার গহনা/ ফাইল ছবি
সোনার দাম কমার কারণ কী
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আচরণের পরিবর্তন এই পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এআইস্টকওয়্যার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড হ্যান মানিওয়াইজকে বলেন, মার্চ মাসে তুরস্ক ৬০ টন সোনা বিক্রি করায় বাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। এতে অনেকের ধারণা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা থেমে গেছে।
তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও মাসে প্রায় ৫০ হাজার কেজি (৫০ টন) করে সোনা কিনছে।
ডেভিড হ্যানের মতে, বহু বছর ধরে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যে কৌশল নিয়েছে, একটি ত্রৈমাসিকের পরিস্থিতি সেই পরিকল্পনা বদলে দেয় না।
যুদ্ধের সময়ও কেন বাড়ল না সোনার দাম
সাধারণভাবে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। তবে এবার চিত্রটি ছিল কিছুটা ভিন্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই জানুয়ারিতে সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে ঝুঁকি এড়াতে আগ্রহী অনেক বিনিয়োগকারী আগেই সোনা কিনে ফেলেছিলেন।
পরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উঁচু পর্যায়ে ধরে রাখে।
উচ্চ সুদের কারণে ট্রেজারি বিলের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে চার শতাংশের বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী সোনার পরিবর্তে সুদভিত্তিক সম্পদে অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন।
সোনা ও রুপার বার/ ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
সামনে কী হতে পারে
বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেক বিশেষজ্ঞ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
ডেভিড হ্যানের ভাষ্যমতে, ২০১১ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর টানা চার বছর ৪০ শতাংশের বেশি কমেছিল। অনেক বিনিয়োগকারী তখন বাজার ছেড়ে চলে যান।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে সোনার দাম আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছিল।
সোনা কেন কিনে রাখবেন?
তার মতে, জানুয়ারির সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এখন প্রায় ২২ শতাংশ কম দামে সোনা কেনা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।
তবে দ্রুত মুনাফার আশা করা উচিত নয়।
দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি
মিয়ামিভিত্তিক আইআরএ ফিন্যান্সিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম বার্গম্যানও দীর্ঘমেয়াদে সোনার প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সোনাকে কয়েক দিনের বা কয়েক মাসের বিনিয়োগ হিসেবে না দেখে ১০ থেকে ২০ বছরের সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।
তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে সম্পদ গঠনের কৌশলে সোনা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের একটি মাধ্যম।
সূত্র: গোল্ড প্রাইস, ফোর্বস, এওএল
কেএএ/
সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক
- ১ ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ-এর বাবার সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের দাবি
- ২ প্রবাসে বছরের পর বছর সংগ্রাম, এক লটারিতেই বদলে গেল জীবন
- ৩ একজন ইসরায়েলির বদলে কোটি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা উচিত: ইহুদি আইনজীবী
- ৪ ওয়াশিংটনে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল
- ৫ ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের উৎকণ্ঠা!