এইমাত্র
  • ঈশ্বরদীতে হত্যাচেষ্টার বিচার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ
  • উত্তরখানের নরকযন্ত্রণা: কলম ছেড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষকের প্রতিবাদ
  • বান্দরবানে ফাটা কাপে চা দেওয়া নিয়ে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ
  • সোনারগাঁয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার ২
  • ১৮ কোটি টাকার হাসপাতালে টিভি-এসি সবই আছে, নেই শুধু রোগী ও চিকিৎসক
  • পুঠিয়ায় ট্রাক-ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দই ব্যবসায়ী নিহত, আহত ১
  • আলফাডাঙ্গায় চলছে ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট
  • ৪ বছরের শিশুকে স্টেশনে ফেলে রেখে ট্রেনের নিচে মায়ের ঝাঁপ!
  • এস আলমের শিল্প সাম্রাজ্যে নেমেছে নীরবতা, বেকার ১৩ হাজারের বেশি শ্রমিক!
  • মৌসুমের শেষ সময়ে আমের বাজার জমজমাট, আম্রপালির মণ ২৫ হাজার টাকা
  • আজ শনিবার, ১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১ আগস্ট, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    দরিদ্র তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছাত্রদল নেত্রীর বিরুদ্ধে

    হোসাইন সিপাহী, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম
    হোসাইন সিপাহী, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম

    দরিদ্র তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছাত্রদল নেত্রীর বিরুদ্ধে

    হোসাইন সিপাহী, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ এএম

    সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদল নেত্রী ফাহমিদা জুইয়ের বিরুদ্ধে।

    নিজ বিভাগের অসহায় শিক্ষার্থীদের ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে কলেজ প্রশাসন থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করার ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেত্রী বিষয়টিকে 'রাজনৈতিক চক্রান্ত' বলে দাবি করেছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহমিদা জুই নিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছে দরিদ্র তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার কথা বলে ফরম বিতরণ করেন। শিক্ষার্থীরা ফরম পূরণ করে তার কাছে জমা দিলে তিনি সেগুলো কলেজ প্রশাসনের কাছে জমা দেন। পরবর্তীতে কলেজ প্রশাসন আবেদনকারীদের নামে টাকা বরাদ্দ দেয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই টাকা তাদের না দিয়ে জুই নিজে রেখে দেন। অন্যদিকে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জানানো হয় যে তাদের আবেদনের বিপরীতে কোনো টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। জুইয়ের এমন অনিয়মের বিষয়টি সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ পেলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, "আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বাধ্য হয়েই সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি, আমাদের নামে অর্থ উত্তোলন করা হলেও তা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।"

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফাহমিদা জুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এগুলো আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ। আমার বিরোধী একটি রাজনৈতিক চক্র আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। দ্রুতই এ বিষয়ে সত্য ঘটনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সবার সামনে উপস্থাপন করব।"

    তবে এ বিষয়ে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, "বর্তমানে বিএম কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন মাত্র দুজন—সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এর বাইরে বর্তমানে কোনো পদে প্রতিনিধি নেই। বিএম কলেজ ছাত্রদলের কোনো কর্মী যদি নিজের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য কোনো অন্যায় করে থাকে, তবে তার দায়ভার সংগঠন বহন করবে না।"

    ঘটনার সত্যতার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। সকালে ভুক্তভোগীরা আমার কাছে এসে অভিযোগ করলে আমি কলেজের হিসাব শাখায় গিয়ে তথ্যের সত্যতা ও প্রমাণ পেয়েছি। এরপর কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়কে এর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা স্যারকে আশ্বস্ত করেছি, কোনো অন্যায়কারীর পক্ষে আমরা দাঁড়াব না। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আমি হাইকমান্ড ও মহানগর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করব। খুব শিগগিরই হয়তো কলেজের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে, সেক্ষেত্রে কোনো অন্যায়কারীকে ওই কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে না।"

    এদিকে ঘটনাটি ঘিরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা কলেজের দরিদ্র তহবিল বণ্টন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, দরিদ্র তহবিলের টাকা দিয়ে কলেজ প্রশাসন মূলত রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোকে 'ম্যানেজ' করার চেষ্টা করে। তারা দাবি জানান, দরিদ্র তহবিলের অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকৃতপক্ষে কারা এই তহবিলের টাকা পাচ্ছেন, তাদের নাম ও পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ বা নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দিতে হবে।

    এ বিষয়ে বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাশেদ খান শাহীন জানান, নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন ফরম জমা দেওয়া এবং সরাসরি অর্থ গ্রহণ করার কথা। শিক্ষার্থীরা কেন কোনো তৃতীয় পক্ষের শরণাপন্ন হলো, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যদি কলেজ প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    ঈশ্বরদীতে হত্যাচেষ্টার বিচার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

    পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরা ও মৎস্য আহরণের জাল চুরিকে কেন্দ্র করে মো. রেজাউল ইসলাম (৫৫) নামের এক জেলেকে কুপিয়ে জখম ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচারের দাবিতে সড়কে নেমে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী জেলের পরিবার ও এলাকাবাসী।আজ শনিবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গ্রামে আহত জেলের বসতবাড়ি সংলগ্ন সড়কে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।জখমের শিকার রেজাউল ইসলাম উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন—একই গ্রামের মো. নাইম, সোহেল, রুবেল, উজ্জ্বল ও আলেপ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে নদীতে মাছ ধরা নিয়ে আহত রেজাউল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্ত নাইম ও সোহেলের বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে তাঁরা রেজাউলের মাছ ধরার জাল চুরি করে নিয়ে যান। ওই জাল পুনরায় ফেরত দেওয়ার কথা বলে গত ২৭ জুলাই বিকেলে রেজাউলকে মুঠোফোনে লক্ষীকুন্ডার ডিগ্রিরচর খাসমহল এলাকায় ডাকেন নাইম ও সোহেল। জীবিকা নির্বাহের সেই জাল আনতে গেলে সেখানে অভিযুক্ত নাইমের নেতৃত্বে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া ৫-৭ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রেজাউলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত অবস্থায় রেজাউলকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ঘটনায় আহত রেজাউলের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা খাতুন ঘটনার দিনই বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশি তৎপরতা মন্থর অভিযোগ তুলে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসী এই বিক্ষোভ করেন।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে বিচার দাবি করে বলেন, ‘অভিযুক্ত নাইম এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে যাকে-তাকে মারধর করেন। রেজাউলের জাল চুরি করে তা ফেরত দেওয়ার নাম করে ডেকে যেভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, তা অমানবিক। দরিদ্র পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তাঁর পরিবার বর্তমানে চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। আমরা অতি দ্রুত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. তরিকুল মোল্লা ও রাব্বি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা পাশের জমিতে কাজ করছিলাম। চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় রেজাউল মাটিতে পড়ে আছেন। পরে লোকজনকে ডেকে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত নাইম এলাকায় যা শুরু করেছেন, তাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। প্রশাসনকে বলব, তাঁকেসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করুন।’এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান আশাদ বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’ইখা

    উত্তরখানের নরকযন্ত্রণা: কলম ছেড়ে প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষকের প্রতিবাদ

    ‘ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হতে পাঠ দিই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে শেখাই। কিন্তু আজ যখন চোখের সামনে প্রতিদিনের নরকযন্ত্রণা দেখি, তখন আর ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। কলম ছেড়ে আজ বিবেকের তাড়নায় রাজপথে নামতে হয়েছে।’- ক্ষোভ ও আক্ষেপ নিয়ে এভাবেই নিজের প্রতিবাদের কারণ ব্যাখ্যা করছিলেন উত্তরখান মাজার রোড এলাকার এক স্থানীয় শিক্ষক।প্রতিদিনের তীব্র যানজট, গণপরিবহনে সীমাহীন ভাড়া নৈরাজ্য এবং চালক-হেলপারদের অরাজকতার বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হয়েছেন সচেতন নাগরিক ও শিক্ষকরা। আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে উত্তরখান মাজার রোড এলাকায় হাতে প্ল্যাকার্ড ও মাইক নিয়ে এই অরাজকতার প্রতিবাদে রাজপথে অবস্থান নেন ওই শিক্ষক। তাঁর এই প্রতিবাদী কণ্ঠে ধীরে ধীরে যোগ দেন ভোগান্তির শিকার সাধারণ যাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তরখান মাজার রোড এলাকায় প্রতিদিনের যানজট এখন নিত্যদিনের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ওপর যোগ হয়েছে পরিবহন খাতের লাগামহীন ভাড়া নৈরাজ্য। কিলোমিটারের হিসাব না মেনে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগ কিংবা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা।প্রতিবাদকারী শিক্ষক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ক্লাসরুমে তরুণ প্রজন্মকে সুনাগরিক হওয়ার নৈতিক শিক্ষা দিই। কিন্তু চোখের সামনে যখন প্রতিদিন শত শত মানুষ ভাড়ার নামে হয়রানির শিকার হচ্ছেন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকছেন, তখন চুপ থাকাটা নিজের বিবেকের কাছে অপরাধ মনে হয়। অন্যায় সহ্য করাও তো অপরাধের শামিল! আজ শিক্ষক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, এবার প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলদের জেগে ওঠার পালা।’প্রতিবাদের খবর পেয়ে রাজপথে সংহতি জানাতে আসেন ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরাও। নিয়মিত যাতায়াতকারী এক ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন, ‘মাজার রোডে যাতায়াত করা এখন যেন এক ধরনের শাস্তি! কিলোমিটারের হিসাব অনুযায়ী যেখানে ভাড়া হওয়া উচিত ১০-১৫ টাকা, সেখানে ইচ্ছেমতো ২০-৩০ টাকা হাঁকানো হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে চালক ও হেলপারদের অশালীন আচরণ সহ্য করতে হয়। কোনো তালিকা বা নির্দিষ্ট স্টপেজ নেই, যার যেমন ইচ্ছা ভাড়া নিচ্ছে। আমরা এই অরাজকতার অবসান চাই।’স্থানীয় এক স্থায়ী বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা উত্তরখানের বাসিন্দা, কিন্তু বাসা থেকে বের হলেই মাজার রোডের মুখে এসে আটকে যেতে হয়। একদিকে অমূল্য সময় নষ্ট, অন্যদিকে পকেটের টাকা খালি হচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনকে সব ধরনের ট্যাক্স দিচ্ছি, অথচ যাতায়াতের ন্যূনতম সুব্যবস্থা নেই। একজন শিক্ষকের এমন রাজপথে নামা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, এখন থেকে আমরাও চুপ থাকব না।’আন্দোলনস্থল থেকে সকল নাগরিককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিবাদী শিক্ষক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আজ যদি আমরা চুপ থাকি, তবে এই নৈরাজ্য আরও বাড়বে। আমাদের নীরবতাই অসৎ পরিবহন কর্মীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই নিজের অধিকার আদায়ে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। ন্যায্য ভাড়ার দাবি কোনো অন্যায় দাবি নয়, এটি আমাদের নাগরিক অধিকার।’শিক্ষকের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ডিএনসিসি ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। সংহতি জানিয়ে এক সচেতন নাগরিক বলেন, ‘একজন শিক্ষক যখন মাইক আর প্ল্যাকার্ড হাতে রাজপথে নামেন, তখন বুঝতে হবে সাধারণ মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। উত্তরখান মাজার রোডের যানজট নিরসনে অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা উচিত। নির্দিষ্ট ভাড়ার চার্ট টাঙানো ও ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’উত্তরখান মাজার রোডের যানজট নিরসনে অবিলম্বে সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযানের দাবি জানান এলাকাবাসী। শিক্ষক হিসেবে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে আরও বড় পরিসরে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।ইখা

    বান্দরবানে ফাটা কাপে চা দেওয়া নিয়ে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

    বান্দরবান পৌরসভার হাফেজ ঘোনা এলাকার ৩ নম্বর থানচি বাসস্ট্যান্ডে চায়ের কাপ ভাঙা নিয়ে এক তুচ্ছ ঘটনার জেরে দোকানে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল নয়টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চায়ের দোকানের কর্মচারী ও সাধারণ মানুষসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, থানচি বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মো. মারুফের (২৮) চায়ের দোকানে মো. বাবলু মিয়া (৩০) চা খেতে আসেন। পরিবেশন করা চায়ের কাপে সামান্য ফাটল থাকায় বাবলু মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের কর্মচারী মো. রাসেলকে (২৫) গালিগালাজ এবং এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে জখম করেন।পরবর্তীতে দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. মারুফ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বাবলু মিয়া, ইউসুফ মাফি (৬০), সাহাব উদ্দিন (৩৪), মো. রুবেল (২৭) এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা পুরুষ ও কিছু নারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দোকানে অতর্কিত হামলা চালান।হামলাকারীরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও একটি মুঠোফোনসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। দোকানমালিকের দাবি অনুযায়ী, এতে তাঁর আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।হামলায় গুরুতর আহত হন মো. রাজা মিয়া (২৭)। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলামসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। আহতরা হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে (রেজি. নং- ৫৩৫/২) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ বিষয়ে দোকানের মালিক মো. মারুফ বাদী হয়ে মো. বাবলু মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে বান্দরবান সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ওয়াহিবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।ইখা

    সোনারগাঁয়ে মাদকসহ গ্রেপ্তার ২

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৫৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তাররা হলেন— কুমিল্লার বুড়িচং থানার পাঁচোড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৩৬) এবং ব্রাহ্মণপাড়া থানার আনন্দপুর এলাকার সবুজ (২৯)।র‍্যাব-১১ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করে এয়ার ফিল্টার বক্সের ভেতর অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে র‍্যাব। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-১১।ইখা

    ১৮ কোটি টাকার হাসপাতালে টিভি-এসি সবই আছে, নেই শুধু রোগী ও চিকিৎসক

    দূর থেকে দেখলে মনে হবে আধুনিক এক স্বাস্থ্যকেন্দ্র—ঝকঝকে ভবন, সাজানো কক্ষ, ভেতরে এসি-টিভি পর্যন্ত প্রস্তুত। কিন্তু দরজায় তালা, করিডোরে নীরবতা আর চারপাশে ঝোপঝাড়। দেখতে ফিটফাট মনে হলেও মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্মিত এই হাসপাতাল যেন সেবা নয়, নিস্তব্ধতার প্রতীক।কোটি টাকার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু চিকিৎসাসেবা নেই। শুনতে অবাক লাগলেও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তালিয়া গ্রামে এমনই এক হাসপাতালের খোঁজ মিলল।এই হাসপাতাল নির্মাণে সরকারিভাবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও পূর্বাচল নতুন শহরের লাগোয়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের তালিয়া গ্রামে নির্মিত হয়েছে ২০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল।প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২.০৭৩ একর জমিতে নির্মিত এই স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে রয়েছে একটি মূল ভবন, তিনটি কোয়ার্টার, একটি জেনারেটর রুম, একটি গ্যারেজ ও পাম্প হাউস। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল ভবনটির নির্মাণ শেষ হলেও সেখানে নেই কোনো চিকিৎসাসেবা।চেয়ার-টেবিল, এসি, এলইডি টেলিভিশনসহ প্রয়োজনীয় অফিস সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ওষুধের অভাবে পুরো প্রতিষ্ঠানটি কার্যত পরিত্যক্ত।ভবনের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে, যা এখন বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, মশা-মাছি, কুকুর ও শিয়ালের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালের খোলা জায়গায় চোখে পড়েছে ছোটখাটো কৃষিখামার।মূলত আশপাশের বাসিন্দারাই পড়ে থাকা এই হাসপাতাল ‘কাজে লাগিয়ে’ এসব খামার গড়ে তুলেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি সেখানে সবজি চাষ করে অনেকেই নিজেদের পারিবারিক চাহিদা মেটাচ্ছেন।এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রায় দুই বছর কাজ শেষে ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২০ জুন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।প্রথমে ২৫টি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব থাকলেও ২০২৪ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৬টি পদ অনুমোদন দেয়। পরবর্তীতে অক্টোবর মাসে ওই ১৬টি পদ আনুষ্ঠানিকভাবে সৃষ্টি করা হয়। কাগজে-কলমে পদ সৃষ্টি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও দুজন নার্স পদায়ন করা হলেও বর্তমানে তাঁরা সবাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে কর্মরত।তবে বাকি একজনের ব্যাপারে কোনো তথ্য মেলেনি। বাকি ১২টি পদ এখনো শূন্য। সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে অর্থনৈতিক কোড না থাকায়। এই কোড না থাকায় হাসপাতালের জন্য কোনো বাজেট বরাদ্দ হয়নি।ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ওষুধ ক্রয় কিংবা প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ—কোনোটিই সম্ভব হচ্ছে না। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েও এখনো কার্যকর সমাধান মেলেনি।স্থানীয় বাসিন্দা হারুন-আর-রশিদ বলেন, ‘প্রতিবারই শুনি হাসপাতাল চালু হবে। কিন্তু বছর পার হয়ে যায়, কোনো পরিবর্তন দেখি না। চালু হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।’স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মো. ওমর কায়ছার বলেন, ‘সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে, কিন্তু সেটি চালু না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি দ্রুত চালু করা জরুরি।’একই গ্রামের শিউলি বেগমের ভাষায়, অসুস্থ হলে অনেক দূরে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের নিয়ে ঢাকায় যেতে খুব কষ্ট হয়। এই হাসপাতালটি চালু হলে আমাদের দুর্ভোগ কমত।এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ জানান, এখানে দুজন চিকিৎসক পদায়ন আছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক কোড না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ওষুধ, জনবল ও বাজেটে কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই হাসপাতালটি চালু করা যাবে।ইখা

    পুঠিয়ায় ট্রাক-ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দই ব্যবসায়ী নিহত, আহত ১

    রাজশাহীর পুঠিয়ায় ড্রাম ট্রাক ও ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক দই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধার করেছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর-চারঘাট সড়কের আমহাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মানিক চাঁদ (৬০) চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী গ্রামের মৃত শুকচাঁদের ছেলে। আহত মো. শিবলু (২৮) একই গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশ জানায়, মানিক চাঁদ ভ্যান চালিয়ে বানেশ্বর থেকে চারঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে যাত্রী হিসেবে ছিলেন শিবলু। পথে আমহাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী একটি অজ্ঞাতনামা ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষের তীব্রতায় ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক ও যাত্রী রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মানিক চাঁদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিবলু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুঠিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নম্বরপ্লেটবিহীন দুর্ঘটনাকবলিত ড্রাম ট্রাকটি রাজশাহীর বেলপুকুর থানার নর্থ বেঙ্গল ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে উদ্ধার করে। রাত পৌনে ১১টার দিকে ট্রাকটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধার করে। ট্রাকটির কোনো নম্বরপ্লেট পাওয়া যায়নি। পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।ইখা

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…