সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার সঙ্গে আরও কিছু ভিডিওর তথ্যে গড়মিল পাওয়া গেছে।
কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি নীলা নামে কোনো এক নেত্রীর বাসায় মরিয়ম বেগম নামের ওই তরুণীকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুকে মরিময়কে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় শ্বশুরের অফিসে ভিডিওটি তারই গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা গোপনে ধারণ করেছেন।
তবে নতুন ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে , যারা নজরুল ইসলামকে জেরা করছেন তারা নীলা নামের এক নারীর কথা বলছেন। এভাবে তাদের কথা বলতে শোনা যায়, ‘এই যে এইটা নীলার বাসা। আগে আওয়ামী লীগ করত। এখন দেহ ব্যবসার জন্য বাড়ি ভাড়া দেয়।’
ওই যুবকদের প্রশ্ন করতে শোনা যায়, ‘আগে কয়বার এসেছেন? সত্যি করে বলেন, কয়বার এসেছেন। আমরা কয়েক দিন দেখেছি আপনি এখানে আসেন। ধরতে পারছিলাম না।’
এসময় নজরুল ইসলামকে হাতজোড় করে ক্ষমাও চাইতে দেখা যায়। তিনি বলছেন, আমাদের ছেড়ে দেন। আমরা অন্যায় করেছি। তবে মরিয়ম বেগম বেশ স্থির ছিলেন। তিনি ওই যুবকদের সঙ্গে চড়াও সুরে কথা বলছিলেন।
ভিডিওতে নীলা নামে যে নেত্রীর কথা বলা হচ্ছে, তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেনি কালবেলা। তবে ভিডিওর কথোপকথন থেকে বোঝা গেছে এটি ঢাকায়।
মাগুরায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দুই শিশুরা হলো- মৌশা গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে রাইসা (২) ও আলীনূর রহমানের মেয়ে রাফিয়া (৩)। আমিনুর ও আলীনূর ভাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চাচাতো দুই বোন রাইসা ও রাবিয়া বাড়ির বাইরে খেলতে বের হয়। কিছুক্ষণ পর তাদের খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গিয়ে দুই শিশুকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
মহম্মদপুর থানার ওসি শামীম আহমেদ বলেন, হাসপাতাল থেকে আমাদের ফোনে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে নাফ নদী সাঁতরে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের সময় দেশটির জান্তা বাহিনীর এক সেনাসদস্য ও দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালতের মাধ্যমে তাদের কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকা সংলগ্ন নাফ নদী সীমান্ত থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাচাইবাছাই শেষে বিজিবি তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে।
আটকরা হলেন- মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হেউন ডে টে (৩৮), এবং পুলিশ সদস্য ক্যায়াউ নাইং (৩৫) ও থেইন জ (৩৩)। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও মংডু এলাকায়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটকরা দীর্ঘদিন ধরে রাখাইন রাজ্যে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রিত ক্যাম্পে জিম্মি অবস্থায় বন্দি ছিলেন। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে তারা প্লাস্টিকের জারিকেন বা পানির জারের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করেন। সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের দেখতে পেয়ে আটক করেন।
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। রাখাইনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি।’
তিনি জানান, নাফ নদী অতিক্রম করে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবির টহল দল তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ ক্রসিং ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি আরও তীব্র করা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিজিবির পক্ষ থেকে আটক মিয়ানমার নাগরিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাদের কঠোর নিরাপত্তায় কক্সবাজার আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে থাকা তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও বিয়ের তারিখ, সিসিটিভি ফুটেজের সময় এবং বিভিন্ন নথিপত্রে অসঙ্গতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ভিডিও ভাইরালের পর গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, মরিয়ম বেগম নামের ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে ২০২৬ সালের ১৭ জুন। তার দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে পারিবারিকভাবে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর বাসভবনে বিয়ে হয়।
তবে ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ছড়িয়ে পড়া মূল ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ধারণ করা। ফলে এমপির দাবি করা ২০২৬ সালের বিয়ের তারিখের সঙ্গে ফুটেজের সময়ের প্রায় তিন বছরের ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম দ্য ডিসেন্টকে বলেছেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের কাবিন আছে কিনা জিজ্ঞেস করলে গাজী নজরুল জানান, তাদের কাছে কাবিন নেই। তবে যিনি বিয়ে নিবন্ধ করেছেন তার কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া যাবে।
‘ওইটা আছে বিবাহ যিনি রেজিস্ট্রি করেছেন তার খাতায়। ওটা নিয়ে দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে’, বলেন তিনি।
এদিকে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ ডিসেন্টকে বলেন, ‘৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন আমার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয় গাজী নজরুল ইসলামের। ওইদিন উনারা আমার অফিসে (মগবাজার) এলে রেস্ট নিচ্ছিলেন ওখানেই। সেখান থেকে ভিডিওটি ধারণ হয়। এর সঙ্গে আমার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত। সে আমার অফিসে সহকারী হিসেবে কাজ করতো।’
জামায়াতের এ সংসদ সদস্যের নির্বাচনী হলফনামা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জমা দেওয়া এমপির হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না বলে জানা গেছে। এ ছাড়া জামায়াতের স্থানীয় নেতারাও জানিয়েছেন, এমপি তাদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানালেও বিয়ের নির্দিষ্ট তারিখ বা কোনো নথি সম্পর্কে দলীয়ভাবে আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত কাবিননামা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ওই নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এই নথির সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভাইরাল বায়োডাটায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ জুন গাজী নজরুল ইসলাম সবুজ কালিতে ‘জোর সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু সেখানে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থার ঘরে ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ রয়েছে। এমপির দাবি অনুযায়ী বিয়ে যদি ১৭ জুন হয়ে থাকে, তাহলে বিয়ের পাঁচ দিন পরও কেন ওই নথিতে তাকে অবিবাহিত দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে গাজী নজরুল ইসলাম লিখিত বিবৃতিতে দাবি করেছেন, ঘটনাটি মগবাজারের একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ের। তার দাবি, ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই তিনি প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে ওই কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানের সময় চালক পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।
এমপির অভিযোগ, পরে ওই ব্যক্তিরা তাদের পরিচয় জানতে চেয়ে হয়রানি করেন এবং একপর্যায়ে নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা দেওয়ার পর তারা মুক্ত হন।
গাজী নজরুল ইসলামের দাবি, পুরো ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেছেন, পূর্বশত্রুতার জেরে চালক সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তিনি এটিকে তার ও পরিবারের বিরুদ্ধে ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ এবং ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে ভিডিও, বিয়ের তারিখ, হলফনামা ও বিভিন্ন নথিতে থাকা অসংগতিগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত বা আইনগতভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেছেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।’
দ্বিতীয় বিয়ে কবে হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার ‘কথিত’ দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, মামলায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় নেজাম উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরবর্তীতে ওই হোটেল কক্ষ থেকেই শাহনাজ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এরপর ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সড়ক সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নির্মাণের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা, পরিকল্পিত পরিবেশ ও বাসিন্দাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিকল্প রুটে সড়ক নির্মাণের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সিলিমপুর আবাসিক এলাকায় প্লট মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তাবিত সড়কের সম্ভাব্য রুট সরেজমিন পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী সম্ভাব্য রুটগুলো ঘুরে দেখে কারিগরি ও বাস্তবসম্মত বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করা হয়।
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরকে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ এলাকার সঙ্গে একটি পরিকল্পিত ও শান্ত আবাসিক এলাকার সরাসরি সড়ক সংযোগ স্থাপন করলে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও আবাসিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি সামনে রেখে স্থানীয় প্লট মালিকদের মতামত গ্রহণের পর বিকল্প রুটে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সড়ক মূল আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। স্থায়ীভাবে আবাসিক এলাকার মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণ সমীচীন হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খালের পাড় ঘেঁষে সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী পথ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। প্লট মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে সম্ভাব্য বিকল্প রুট দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত রুটের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণের পর সেনাবাহিনী বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি সিডিএকে জানাবে।
মতবিনিময় সভায় সিলিমপুর আবাসিক এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস ও পানি সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, দ্রুত পানির সংযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওয়াসা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে এলাকার নাগরিক সেবা সংক্রান্ত বিদ্যমান সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় সিডিএ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিলিমপুর আবাসিক এলাকার প্লট মালিক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।