পিরোজপুরের নেছারাবাদ শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে ভুয়া (ফেক) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অনৈতিক প্রস্তাব (সমকামিতা) দেওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মাহমুদকাঠি বাজারের একটি রেন্ট-এ-কার অফিসে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে সব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মোল্লা।
লিখিত বক্তব্যে কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো. ফারদিন ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদল সভাপতি আরিফুল ইসলাম মোল্লা মেয়েদের নামে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণামূলক যোগাযোগ করতেন। পরে তাদের সমকামিতার প্রস্তাব দিতেন।
তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীর সঙ্গে জোরপূর্বক সমকামিতার চেষ্টাও করা হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তারা সভাপতিকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলেও অভিযোগ করেন ফারদিন।
সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রদল নেতা মো. ইশতিয়াক অভিযোগ করেন, আরিফুল ইসলাম মোল্লা বিভিন্ন ভুয়া আইডির মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তিকে সমকামিতার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত মেসেঞ্জারে কথোপকথনের স্ক্রিনশট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অপর এক ছাত্রনেতা মো. আরিফুল ইসলাম মুবিন অভিযোগ করেন, একটি ফেসবুক আইডি থেকে আরিফুল ইসলাম মোল্লার ছবি ব্যবহার করে তাকে সমকামিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, ওই আইডিটি আরিফুল ইসলাম মোল্লার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম মোল্লা।
তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কথিত স্ক্রিনশট ও অন্যান্য উপকরণ এআই বা প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো. জিয়াউল হক সজীব বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। ছাত্রদলের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করি না। অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা সিটি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ভূগোল প্রথম পত্র পরীক্ষায় ভুলবশত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ওই প্রশ্নপত্র ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রথম পত্রের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হয়েছেন কেন্দ্র সচিব।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে ভূগোল প্রথম পত্রের পরিবর্তে দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট তারা ওই প্রশ্নেই উত্তর লেখা শুরু করেন। পরে কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারেন ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এরপর প্রশ্নপত্রগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়। প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র আনতে কিছুটা সময় লাগায় শিক্ষার্থীদের আগে সৃজনশীল অংশের প্রশ্ন দেওয়া হয়। কিন্তু সেটিও ২০২৫ সালের প্রশ্ন হওয়ায় কয়েক মিনিটের মধ্যে তা পরিবর্তন করে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। সবশেষে সঠিক প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০ মিনিট সময় দেওয়া হয় বলে জানান পরীক্ষার্থীরা।
সাতক্ষীরা সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, ভুলবশত প্রশ্নের খাম (প্যাকেট) পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ২-৩ জন পরীক্ষার্থীর কাছে ভুল প্রশ্নপত্র চলে গিয়েছিল। বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরে নির্ধারিত প্রশ্নেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের কারণে পরীক্ষার ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) রিপন বিশ্বাস বলেন, প্রশ্নপত্র বাছাই (সর্টিং) করার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে। পরে সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ভবিষ্যতে ব্যবহার হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত শিক্ষা বোর্ড নেবে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মো. আব্দুস ছালাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বোর্ড থেকেও তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই নির্ধারিত দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ কেন্দ্রটিতে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ, ঝাউডাঙ্গা কলেজ ও শহীদ স্মৃতি কলেজের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রশ্নপত্র বিতরণে এমন ভুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও পরে সংশোধিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।