প্রিন্ট: ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
হান্নান মাসউদের কাছে পরাজিত সেই বিএনপি নেতা হলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
মাহবুবের রহমান শামীম
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে নির্বাচন করে এনসিপির হান্নান মাসউদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি।
জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এর ধারা ৮২ ক(১) মোতাবেক মাহবুবের রহমান শামীমকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
রোববার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব খোন্দকার ফরহাদ আহমদের স্বাক্ষরে তার নিয়োগ আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাত থেকে শামীম তার নিয়োগপত্র গ্রহণ করেছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা অন্তত ৯ জন নেতা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে নানাভাবে চেষ্টা তদবির করেছেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত চট্টগ্রামের বাইরের একজন বিএনপি নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়োগ দেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করলেও কেন্দ্রের বিরাগভাজন হওয়ার শঙ্কায় মুখ খুলছেন না।
বিগত সরকারের আমলে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সর্বশেষ প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের একাধিক বিএনপি নেতা যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক নিয়োগ হলেও চট্টগ্রামের বাইরের কেউ কখনো জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পায়নি। এবারই প্রথম বাইরের কোনো বিএনপি নেতাকে নিয়োগ দেওয়া হলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল দক্ষিণ জেলা বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেবে বিএনপি সরকার; কিন্তু মাহবুবের রহমান শামীমের নিয়োগের পর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।
সম্পর্কিত খবর
বন্যার পানি নামতেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর দাপট
১৯ দিনে আক্রান্ত ২৬০ জন, ৮ ওয়ার্ড হটস্পট * পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা
এম এ কাউসার, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্টি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শুকিয়ে গেছে জলাবদ্ধ এলাকার রাস্তাঘাট, বাড়িঘর থেকে নেমেছে পানি। তবে দিন দিন মশাবাহিত রোগটির প্রকোপ বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের ১৯ দিনেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬০ জন রোগী। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরীতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমের এই সময়ে এমনিতেই ডেঙ্গুর বংশবিস্তার ঘটে। কোথাও তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখান থেকে জন্ম নেবে ডেঙ্গুবাহক মশা। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। যদিও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এক দিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৬ রোগী। পরদিন শনিবার ১২ জন এবং রোববার তা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এভাবে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর তালিকা।
হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন, জুনে ১২২ জন এবং চলতি ১৯ জুলাই পর্যন্ত ২৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই হিসাবে চলতি মাসের ১৯ দিনেই রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ জন এখনো চিকিৎসাধীন।
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বন্যার পানিতে ডেঙ্গুর পুরোনো লার্ভা ধুয়ে গেছে, এটা স্বস্তির বিষয়। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার কমে যাওয়ার কথা। তবে বৃষ্টির পর তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি উলটো হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত কিংবা জলাবদ্ধ এলাকায় কোথাও তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা পানি জমে থাকলেই ডেঙ্গুবাহক মশার জন্ম হবে। তখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এরই মধ্যে ডেঙ্গু চোখ রাঙ্গাচ্ছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরই নগরীর আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর হটস্পট (উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা) হিসাবে চিহ্নিত করেছে চসিক। ওয়ার্ডগুলো হলো-নগরীর জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, উত্তর কাট্টলী, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, পাথরঘাটা, দক্ষিণ হালিশহর ও দক্ষিণ পতেঙ্গা।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় চসিকের প্রস্তুতি সম্পর্কে ম্যালেরিয়া ও মশক নিধন কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘আগে ডেঙ্গু রোগী বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন সারা বছরই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে ছয় মাসের মশাবাহিত কীটনাশক মজুত রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধনে ৩০৫ জনের টিম কাজ করছে। এছাড়া আটটি হটস্পটে মাঠে আছে সাতজনের প্রশিক্ষিত টিম।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘মৌসুম অনুযায়ী এখন ডেঙ্গুর বংশবিস্তারের সময়। তাই জুন মাসের জরিপ অনুযায়ী ডেঙ্গুর হটস্পট এলাকায় বেশি বেশি ফগিং করা হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। বাসাবাড়ির ছাদবাগান ও ফুলের টব পরিষ্কারসহ নানা দিকনির্দেশনা মাইকিং ও লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত খবর
চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে অফিসে সশস্ত্র হামলা
সব আসামি শনাক্ত গ্রেফতার আরও ৯
হামলার আগে সন্ত্রাসীদের ব্রিফিং * আক্রান্ত হলে পালটা প্রস্তুতি ছিল আক্রমণের * ডেভিড ইমনও গ্রেফতারের কাছাকাছি
আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটের (ডিডিএন) কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সব আসামিকে শনাক্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া অন্যতম অভিযুক্ত মাইকেলসহ আরও নয়জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭। এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। র্যাব জানিয়েছে, হামলার আগে সন্ত্রাসীদের ব্রিফিং দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এলে তাদের প্রতিরোধে পালটা হামলার প্রস্তুতিও ছিল। বর্তমানে চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ নামে কোনো সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব নেই। তবে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন গ্রেফতারের খুব কাছাকাছি আছে। বহদ্দারহাটে র্যাব-৭ মিডিয়া সেন্টারে রোববার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, শনিবার বিকাল থেকে রোববার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইকেল রোহেন মিয়া ওরফে মাইকেল, মো. তুহিন, আকবর হোসেন, আবদুল মুমিন, মাসাদ মিয়া, দিদার মিয়া, সানজাত হাসান, সৈকত হোসেন ও মো. সাইফুদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত চারটি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। তিনি জানান, এর আগে ১৪ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ ছয়জন এবং র্যাব দুজনকে গ্রেফতার করে। পরে চকবাজার থানা পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ নয়জন গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এ মামলায় মোট ২১ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, হামলার মূলহোতা তিনজন-মাইকেল, সানি ও রাজু। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন গ্রেফতার মাইকেল। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ছিঁচকে সন্ত্রাসী সংগ্রহ করে। ডেভিড ইমনের নির্দেশে তারা চকবাজার, বহদ্দারহাট ও রাউজান থেকে লোকজন এনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন সন্ত্রাসীরা তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। একটি দল সরাসরি ভবনের তৃতীয় তলায় উঠে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। দ্বিতীয় দল বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে সশস্ত্র অবস্থানে ছিল। তৃতীয় দল ভবনের আশপাশে অবস্থান নেয়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে এলে তাদের মোকাবিলা করা যায়। গ্রেফতার মাইকেলের মোবাইল ফোন থেকে হামলার আগে ছিঁচকে সন্ত্রাসীদের ব্রিফিংয়ের একটি ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে আরও দুজনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বড় সাজ্জাদ নামে কোনো সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব নেই : সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ নামে কোনো সন্ত্রাসীর অস্তিত্ব নেই। বড় সাজ্জাদের নাম শোনা যায় শুধু। কেউ বলে ভারতে আছে, আবার কেউ বলে দুবাইয়ে আছে। অনেকটা জুজুর ভয় দেখানোর মতো হয়ে গেছে। ছোট সাজ্জাদকে ঢাকায় গ্রেফতার কারা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
ডেভিড ইমনও গ্রেফতারের কাছাকাছি : ডেভিড ইমন সম্পর্কে র্যাব অধিনায়ক বলেন, তার সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য নেই এমন নয়। তবে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত বলা ঠিক হবে না। তাকে গ্রেফতারের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে র্যাব।
১১ জুলাই ডিডিএন-এর স্বত্বাধিকারীর কাছে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে দুদিনের সময় বেঁধে দেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ১৩ জুলাই দুপুরে চকবাজার থানার চন্দনপুরা বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডের ‘মরিয়ম হাইটস’ ভবনের তৃতীয় তলায় ডিডিএন-এর কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের সশস্ত্র দল হামলা চালায়। এ সময় তারা ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লুট করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
সম্পর্কিত খবর
সংস্কার না হলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
বক্তব্য রাখছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
আরও পড়ুন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস বন্ধ এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। যারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন তা থেকে সরে এসেছে, তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগ আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।
রোববার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের তেঁতুলতলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচনের পর যারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারা এখন অবস্থান বদলেছেন। যারা আবু সাঈদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সংস্কারের কথা বলেছিলেন, তারা এখন বলছেন সংস্কারের প্রয়োজন নেই। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণ তাদের রেডকার্ড দেখাবে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যদি এই সরকারকে আমরা সংস্কার করতে না পারি, তাহলে পাথরশ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে পারব না। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর সংস্কৃতিও বন্ধ করা যাবে না।
এ সময় পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব এবং রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদ প্রমুখ।
সম্পর্কিত খবর
হেফাজতকে নীতিগতভাবে সমর্থন করি, কারণ তারা ইসলামের কথা বলে: মীর হেলাল
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।
আরও পড়ুন
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল বলেছেন, আমরা দলগতভাবে ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে। ধর্মকে ব্যবহার করে যারা রাজনীতি করে, তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই তা করে। তবে হেফাজতে ইসলামকে নীতিগতভাবে পছন্দ করি, কারণ তারা ইসলামের কথা বলে, ন্যায়ের কথা বলে।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মীর হেলাল বলেন, হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমার কাছে হেফাজত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। বাংলাদেশে ইসলামকে সুরক্ষিত রাখা এবং সঠিক পথে পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ করা একটি ধর্মীয় সংগঠন হিসেবেই আমি হেফাজতকে দেখি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তবে নির্বাচন চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে করা যায় না। একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নির্বাচন ও রাজনীতি মানুষের বেঁচে থাকার পরের বিষয়; আগে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে ব্যাপক বন্যা হয়েছে। মানুষ স্বস্তিতে ফিরলে যেসব নির্বাচন বাকি রয়েছে, সেগুলো যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত হবে। তবে শুধু রাস্তা প্রশস্ত করলেই দুর্ঘটনা কমবে না। দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
নবগঠিত দেশের ৫০১তম উপজেলা ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রসঙ্গে মীর হেলাল বলেন, ফটিকছড়ি একটি বড় উপজেলা ছিল। এটিকে বিভক্ত করা প্রয়োজন ছিল। নতুন উপজেলা হওয়ায় উন্নয়ন বরাদ্দও বাড়বে। সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে যে আন্দোলন চলছে, সে বিষয়ে সরকার জনগণের মতামত ও সার্বিক সুবিধা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে বৈঠকে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু তালেব, মাওলানা ইয়াহিয়া, নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক এজাহার মিয়াসহ বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সম্পর্কিত খবর
কুমিল্লায় মহাসড়কে ৫ কিলোমিটার যানজট
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ভোর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা দেয়।
আরও পড়ুন
কুমিল্লায় মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই পথ অতিক্রম করতে প্রতিটি যানবাহনের কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
চালক ও যাত্রীরা জানান, ভোর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা দেয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত একই অবস্থা বিরাজ করে। তবে এ পথে কোনো সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই যানজটের সৃষ্টি হয়।
একাধিক বাসচালক জানান, ঢাকামুখী বেশ কয়েকটি মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। এর ফলে গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী এশিয়া বাসের যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, ভোরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই। গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত যেতে দুই ঘণ্টা লেগেছে। সড়কের পাশে অবৈধভাবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পার্কিং করার কারণেই আজকের যানজটের সূত্রপাত হয়েছে।
তিশা পরিবহণের চালক হুমায়ুন কবির বলেন, এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দুই ঘণ্টা লেগেছে। সকাল থেকে হাইওয়ে পুলিশের তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। এতে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। মহাসড়কের পাশে কেউ অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত খবর
কুমিল্লায় মহাসড়কে ৫ কিলোমিটার যানজট
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ এএম
ভোর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা দেয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই পথ অতিক্রম করতে প্রতিটি যানবাহনের কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) ভোর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে এ যানজটের সৃষ্টি হয়।
চালক ও যাত্রীরা জানান, ভোর থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত তীব্র যানজট দেখা দেয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত একই অবস্থা বিরাজ করে। তবে এ পথে কোনো সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই যানজটের সৃষ্টি হয়।
একাধিক বাসচালক জানান, ঢাকামুখী বেশ কয়েকটি মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করে রাখা হয়। এর ফলে গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী এশিয়া বাসের যাত্রী জাকির হোসেন বলেন, ভোরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই। গৌরীপুর থেকে দাউদকান্দি টোল প্লাজা পর্যন্ত যেতে দুই ঘণ্টা লেগেছে। সড়কের পাশে অবৈধভাবে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পার্কিং করার কারণেই আজকের যানজটের সূত্রপাত হয়েছে।
তিশা পরিবহণের চালক হুমায়ুন কবির বলেন, এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে দুই ঘণ্টা লেগেছে। সকাল থেকে হাইওয়ে পুলিশের তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। এতে কিছুটা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন। মহাসড়কের পাশে কেউ অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।