প্রিন্ট: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
‘আপনার বহু আগে আমি ছাত্রদল করেছি’ ছাত্রদল নেতাকে এসপি
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠুর মধ্যে পালটা-পালটি বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করেছি। এটা পলিটিক্স মঞ্চ না’।
বৃহস্পতিবার জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় জেলার লাকসামে জুলাই শহীদ জিসানের বাবা নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক তাকে হত্যার হুমকি প্রদানের অভিযোগ করা হয়।
শহীদ জিসানের বাবার বক্তব্যের সূত্র ধরে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি কুমিল্লায় আসার পরে ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লায় চলে এসেছে। জিসানের বাবাকে হুমকির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে।
এমন বক্তব্যের জবাবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এটা পলিটিক্সের মঞ্চ না, একটা বাহিনী সম্পর্কে আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না। ছাত্রদল আমি নিজেও করেছি, আপনার বহু আগে আমি ছাত্রদল করে আসছি ঢাকায়। আপনি যখন একটা মিটিংয়ে কথা বলবেন তখন তথ্য নিয়ে কথা বলবেন।
এ প্রসঙ্গে আবারও মাইক নিয়ে ছাত্রদল নেতা ফখরুল ইসলাম মিঠু বলেন, আমরা যখন আপনাদের তথ্য দেই তখন আপনারা গ্রেফতার করেন না।
এর জবাবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আপনারা নিজের শত্রুকেই এখন ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিচ্ছেন। যাকে আপনাদের পছন্দ হয় না তাদেরই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিচ্ছেন।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে দেশে কোনো পুলিশ ছিল না। এই পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখনো ফ্যাসিস্টের লোকজন তো আছেই পুলিশে। গত ১৭ বছর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টগুলোকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র চার মাস এই সরকারের বয়স। সরকারকে সময় দিতে হবে একটা বাচ্চাও খাওয়া শিখতে ৯-১০ মাস লাগে।
পুলিশ সুপার বলেন, দেশে বিচার হচ্ছে; ইতোমধ্যেই হাসিনার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ পুলিশের হাবিবের ফাঁসির রায় হয়েছে। একটু অপেক্ষা করেন। আমি নিজেই অনেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে এসেছি ঢাকায়।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সম্পর্কিত খবর
শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিলেন সাবেক ডিসি সারোয়ার আলম
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারোয়ার আলম। তার দাবি, দানবাক্সের বিপুল অর্থ, মানতের পশু ও বিভিন্ন খাতের আয় সংঘবদ্ধভাবে লুটপাট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স সিলগালা ও অর্থ গণনার পর সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা মাজারকেন্দ্রিক এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসন দানবাক্স সিলগালা করে সিসিটিভির নজরদারিতে তা খোলার পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র; মাত্র ২৫ দিনেই মেলে ৬৪ লাখ টাকারও বেশি নগদ, সঙ্গে ১২ দেশের মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও ৬৫টি ছাগল। মাজার জিম্মি করে রাখা এই সিন্ডিকেটের অন্ধকার সাম্রাজ্য উন্মোচিত হয়েছে যুগান্তরের অনুসন্ধানে।
জানা যায়, প্রায় ৭০০ বছর ধরে চলা মাজারের দানবাক্সগুলোতে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ছিল না। এই সুযোগে দানের অর্থ সরাসরি বস্তায় ভরে মাজারের প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। এ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হলে ১৮ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসন মাজারের তিনটি ডেক ও চারটি দানবাক্স সিলগালা করে দেয়।
এমনকি সাধারণ ভক্তদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, দানের টাকায় সুদের ব্যবসা ও পকেটমার চক্রের মাধ্যমে মাজারের ভেতরের পরিবেশকে রীতিমতো নরক গুলজার (মন্দ লোকের আখড়া) বানিয়ে রেখেছে খাদেম ও তাদের সহযোগীদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মাজারে দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব রাখার নিয়ম ছিল না। টাকা কোথায় যাচ্ছে বা কত জমা হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে কেউ বলতে পারতেন না। এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার জন্য সম্প্রতি দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয়েছে।
২২ জুন ইতিহাসে প্রথমবার মাজারের ডেক ও দানবাক্স সর্বসাধারণের সামনে, সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে খোলা হয়। এতে ৪ দিনের সংগ্রহ দাঁড়ায় নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। প্রথম গণনার ১৯ দিন পর ১১ জুলাই পুনরায় দানবাক্স ও ডেকগুলো খুলে অর্থ গণনা করা হয়। এবার পাওয়া যায় নগদ ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এছাড়াও ১২টি দেশের বিপুল পরিমাণ মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, চমকপ্রদ চিঠি ও রহস্যময় চিরকুট পাওয়া যায় দানবাক্সে। শুধু তাই নয়, মাজারে আসে মানতের ৬৫টি ছাগলসহ গবাদিপশু।
স্থানীয় আহমেদ ফয়সাল জানান, দুদফায় ২৫ দিনের দানের টাকার হিসাবই বলে দেয়, যুগের পর যুগ ধরে এখানে কী পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে। তিনি বলেন, ডেক ও দানবাক্সগুলো সিলগালা করার পর দানের টাকা কম দেখাতে অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন মাজারসংশ্লিষ্টরা। দানবাক্সে যাতে মহিলারা টাকা ফেলতে না পারেন সেজন্য মাজারের কেরানি সামুন মাহমুদ খানের ইশারায় মহিলা ইবাদতখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা থেকে আসা শাহেরা খাতুন জানান, দানবাক্সে টাকা কম দেখাতে দরগার দেওয়ান নামধারী কেরানি জহুর উদ্দির রশীদ দানের টাকা হাতে হাতে নিচ্ছেন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে আসা রিনা খানম জেবা বলেন, মাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে খুবই প্রভাবশালী। মাজারের দানের টাকার স্বচ্ছতা আনা এবং দখলদারত্ব ও অপকর্ম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমকে সিলেট ছাড়তে হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, আমরা যখন প্রথমবার (২২ জুন) দানের টাকা গুনছিলাম, তখনো হয়তো ৪০-৪৫ ভাগ টাকা পেয়েছি। বাকি টাকা তারা (মাজারের লোকজন) নগদ হাতে হাতে নিয়েছেন। আর ১১ জুলাই ২০-২৫ ভাগ টাকা পাওয়া গেছে। বাকি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। তিনি বলেন, মূলত টাকাটা ওঠে কবরস্থানের পাশের ঝরনা এলাকা থেকে। সেখানে তারা হাতে হাতে টাকা নেন। যারা টাকা নেন তারা ভক্তদের স্পষ্টই বলেন, ‘আপনারা যদি মাজারকে দিতে চান তাহলে আমাদের কাছে দেন, আর যদি সরকারকে দিতে চান তাহলে এই বক্সের মধ্যে ফেলেন।’ এই কারণে দানবাক্স ও ডেকে টাকাটা কম এসেছে।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোতাওয়াল্লি ও খাদেমদের আয়ের মূল উৎস মাজারের সম্পত্তি (মার্কেট, দোকানপাট ও পুকুর) ও ডেক-দানবাক্সের টাকা। এর বাইরে বড় অঙ্কের লেনদেন হয় ব্যক্তিগত নজরানায়। শীর্ষস্থানীয় ভিআইপি ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ; বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধপ্রাচ্য প্রবাসী ভক্তরা যখন মাজারে আসেন, তারা মাজারের জন্য খাদেমদের হাতে লাখ টাকা বা বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণ তুলে দেন। কিন্তু এসব টাকা বা স্বর্ণালংকার তারা মাজারে না দিয়ে নিজেরাই আত্মসাৎ করেন। বাৎসরিক ওরশের সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্তদের কাছ থেকে গরু, মহিষ ও বিপুল নগদ অর্থ আদায় হয়। এগুলোও খাদেমদের বিভিন্ন উপ-গ্রুপের মধ্যে বণ্টন করা হয়। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের নামে দানবাক্স চালু আছে।
এসব দানবাক্স থেকে যেসব টাকা উঠছে সেগুলোও ভাগবাঁটোয়ারা হচ্ছে সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে। এছাড়া পশু মানতের উদ্দেশে মাজারে এসে কেউ কেরানি সামুন বা তার সহযোগীদের সহায়তা চাইলে নিয়ে যাওয়া হয় সামুনের গোয়ালঘরে। সেখানে মূলত মানতের গরু-ছাগল থাকে, যেগুলো আগে থেকেই ভক্তরা দান করেছেন। সেখান থেকেই বিক্রি করা হয় নতুন মানতের পশু। এভাবে একটি গরু বা ছাগল সাতবার পর্যন্ত বিক্রি করা হয়।
জানা গেছে, মাজারে প্রায় ৫০০ খাদেমের একটি বড় অংশ গড়ে তুলেছে অপরাধ নেটওয়ার্ক। খাদেমের মধ্যে মুরুব্বি হলেন ৩০ জন। কেরানি সামুন মাহমুদ খান ও খোকন ওরফে বকরি খোকনের আশীর্বাদে এই ৩০ জন মাজারের দৈনিক আয়ের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। প্রতিদিন ফজর থেকে পরবর্তী ফজর পর্যন্ত নির্দিষ্ট একজন খাদেমের ‘বারি’ বা ডিউটি নির্ধারণ করা থাকে। এই ২৪ ঘণ্টার বারি চলাকালে মাজারের বিভিন্ন খাত থেকে গড়ে ৪-৫ লাখ টাকা নগদ সংগৃহীত হয়।
বৃহস্পতিবার, শুক্রবার কিংবা ছুটির দিনে ভক্তদের ঢল নামলে দৈনিক আয় ১০ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এই আয়ের সিংহভাগ বারি পাওয়া খাদেম ও সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ভাগ করে নেন। কোনো সাধারণ খাদেম যদি সাময়িক অর্থকষ্টে ভোগেন, তবে খোকন তার ফান্ড থেকে দানের টাকা ধার দেন, যা পরবর্তী বারি পাওয়ার পর চড়া সুদে কেটে নেওয়া হয়। এই চক্রের মাধ্যমে সাধারণ খাদেমদেরও একপ্রকার দাসত্বে বন্দি করে রাখা হয়।
সামুন ও খোকন সিন্ডিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত ৪ জন দুর্ধর্ষ অপরাধী রয়েছে। তারাই মাজারের সার্বিক অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে। এরা হলেন-মনি, কুতুব, বাবুল ও মিলন। এদের নেতৃত্বে মাজার প্রাঙ্গণে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও জুতাচোর সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। মাজারের ভেতর সংঘটিত চুরি, ছিনতাই ও পকেটমার থেকে দৈনিক যে লাখ লাখ টাকা আয় হয়, তার একটি বড় অংশ সরাসরি সামুন ও খোকনের পকেটে চলে যায় পার্সেন্টেজ হিসাবে।
মাজারে রয়েছে জোরপূর্বক অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের এক রোমহর্ষক অধ্যায়। এই নির্যাতন প্রক্রিয়ার মূল হোতা মাজারের প্রভাবশালী হেড বাবুর্চি সোহেল। তার অধীনে রয়েছে ফয়েজসহ কয়েকজন। মাজারে আসা কোনো সাধারণ মানুষ যদি এই সিন্ডিকেটের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, তবে তাকে ‘জুতাচোর’ বা ‘মোবাইল চোর’ সাব্যস্ত করে চক্রের সদস্যরা। পরে ওই ব্যক্তির পরিবারকে খবর দিয়ে থানা-পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
মানতের গরু জবাইয়ের পর মাংস রান্না করা বাবদ বাবুর্চির বিল দুই হাজার টাকা এবং খাসির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু গরুতে ১০ থেকে ১৮ হাজার টাকা এবং খাসিতে নেওয়া হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এছাড়া গরু-খাসির মাংস, মাথা, ভুঁড়ি, চামড়া ও পা নিয়ে যান বাবুর্চিরা।
পশুর চামড়া ছাড়ানোর সময় সিন্ডিকেটের কসাইরা সুকৌশলে চামড়ার গায়ে ১০ থেকে ১৫ কেজি আস্ত মাংস রেখে দেন। এছাড়াও কয়েকটি ধাপে মাংস গায়েব করা হয়। ফলে একটি গরুর তিন ভাগের এক ভাগও রান্না করা হয় না। এছাড়া শিন্নি পাকের পর অর্ধেকই নিয়ে যান বাবুর্চিরা।
মাজারের ভক্তরা গভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে দামি গিলাফ ও গোলাপজল কিনে আনেন। ভক্তরা মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পরপরই খাদেমরা তা সরিয়ে ফেলেন। পরে সেই একই গিলাফ ও গোলাপজল পুনরায় মাজারের সামনের নির্দিষ্ট দোকান কিংবা অন্য ভক্তের কাছে নতুন করে চড়া দামে বিক্রি করা হয়।
মাজারের মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান যুগান্তরকে বলেন, মাজারে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে ‘যুদ্ধংদেহী মনোভাব’ নিয়ে যেভাবে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে বা ডেক ও দানবাক্স সিলগালা করা হয়েছে, তা অনভিপ্রেত।
তিনি বলেন, মাজারের নিজস্ব শৃঙ্খলা রক্ষায় চৌকিদাররা সব সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। পকেটমার ও প্রতারকদের সব সময় প্রতিহত করা হচ্ছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে দুদকে কমিশন (চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার) নেই। কমিশনের অনুমোদন ছাড়া আমরা বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত করতে পারি না। মাজারের বিষয়টি নিয়ে আমরা আন-অফিশিয়াল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। কমিশন গঠনের পর অনুমতি পাওয়া গেলে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করা যাবে।
সিলেটের নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, আমি জেলা প্রশাসক হিসাবে রোববার (১৩ জুলাই) যোগদান করেছি। মাজারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার আগে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
সম্পর্কিত খবর
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল টপকে পালালেন আসামি
যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর ও কোনাবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার
গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এক আসামি কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে গেছে। পালিয়ে যাওয়া ওই আসামিকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে৷
পলায়নকারী বন্দির নাম মোছা. রিম্পা (২১) মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বন্দি।
কারা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত হতে রিম্পা নামে ওই আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। মহিলা কারাগারের কর্মকর্তা ও কারারক্ষীরা কারাগারের ভিতরে বহুবার তল্লাশি চালিয়েও এখন পর্যন্ত তাকে খুঁজে পায়নি।
কাশিমপুর মহিলা কারাগারের কয়েকজন মহিলা কারারক্ষী, মেট্রনসহ কয়েকজন কারাগার নিয়ন্ত্রণ করেন। এদের সঙ্গ দেন তিন আসামি। কারা নিয়ম অনুযায়ী বিকাল ৫টার মধ্যে আসামিদের লকআপ করার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে নিয়ম মানেননি। এ সুযোগে তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত রিম্পা নামের আসামি দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয় জানতে চাইলে কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার বলেন, আমরা এই মুহূর্তে ব্যস্ত রয়েছি। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব।
কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কারাগার হতে একজন আসামি দেয়াল টপকে পালিয়েছেন বুধবার রাতে। বিকালে কোনাবাড়ী থানায় কারা কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করেন।
কুষ্টিয়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
প্রতীকী ছবি
কুষ্টিয়ার খোকসায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামের ব্রিক ফিল্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ওই ইউনিয়নের দেবীনগর এলাকার মৃত চাঁদ আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪৫) ও আতিয়ার শেখের ছেলে আব্দুল শেখ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় মাদক বিক্রয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা মো. ছালিম হোসেন এবং খানপুর গ্রামের মো. হাসান শেখের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জেরে ১৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর বাজার থেকে ভ্যানে করে বাড়ি ফেরার পথে হিজলাবট মাঠ এলাকায় কয়েকজন লোক হাসান শেখের পথ আটকে তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। পরে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় ঘাতকরা। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে সামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৮০ থেকে ১০০ জনের একটি দল ছালিম হোসেনের বাড়িতে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফারুক হোসেন ও মো. আব্দুল শেখকে হত্যা এবং মুল্লুক মন্ডলকে আহত করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আহত মুল্লুক মন্ডলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুজনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
খোকসা থানার ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুজন হত্যার শিকার হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সম্পর্কিত খবর
মনিরামপুরের ১৭ ইউনিয়ন
প্রার্থিতা চান বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা জামায়াতের একক
গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনি হাওয়া
মোতাহার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন ইউপি নির্বাচন ঘিরে যশোরের মনিরামপুরের ১৭ ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। অনেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রচারপত্র বিলি করছেন। জামায়াত চারটি ছাড়া বাকিগুলোতে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা অর্ধশতাধিক। জাতীয় নাগরিক পার্টির কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। শিগগিরই একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা বিএনপি। ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতারা ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মিসভা শুরু করেছেন। এসব সভায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীকে কাজ করতে শপথ করানো হচ্ছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেতারা প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত বিশাল উপজেলা মনিরামপুর। এখানে ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
প্রার্থী হতে মাঠে-ময়দানে ছুটছেন যারা : রোহিতা ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম ও আতিয়ার রহমান। এখানে জামায়াতের ঘোষিত একক প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। কাশিমনগর ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী তাজউদ্দীন আহম্মেদ। আর বিএনপির আব্দুর রাজ্জাক, ইদ্রিস আলী, ইয়াকুব হোসেন ও কামাল হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। ভোজগাতি ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী মো. শামীম হোসেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মাঠে আছেন ওলিয়ার রহমান, সাত্তার দফাদার, ফিরোজ আহম্মেদ লাল্টু ও আব্দুল মান্নান। ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মিজানুর রহমান, মাস্টার মতিয়ার রহমান ও মফিজুর রহমান। হরিদাসকাটি ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে মাঠে আছেন সিরাজুল ইসলাম, নবীরুজ্জামান আজাদ, হারুন অর রশিদ ও আলমগীর হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। মনিরামপুর সদর ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী অধ্যাপক আহসান হাবীব লিটন। এখানে বিএপির একক প্রার্থী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক। খেদাপাড়ার ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী গোলাম আজম। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শামসুজ্জামান শান্ত, আজিবর রহমান ও আসাদুজ্জামান আসাদ।
হরিহরনগর ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী আব্দুল ফাত্তাহ। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গাজী আব্দুস সাত্তার ও রবিউল ইসলাম। ঝাঁপা ইউনিয়নে জামায়াতের ঘোষিত একক প্রার্থী হলেন সেলিম রেজা রাজু। এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মফিজ, হুমায়ুন কবীর ও আহসান হাবিব রিপন।
মশ্মিমনগর ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল খালেক মোড়ল, আসাদুজ্জামান আসাদ ও সেলিম রেজা। চালুয়াহাটি ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রয়াত বিএনপি নেতা মো. মুছার ছেলে মইনুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা রবিউল ইসলামের নাম শোনা যাচ্ছে।
শ্যামকুড় ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী ডা. মনিরুজ্জামান মনি। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম শোনা যাচ্ছে মোমিন হোসেন, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, বুলবুল হোসেন, হাফিজুর রহমান ও আনিছুর রহমান লিটন। খানপুর ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী রবিউল ইসলাম। বিএনপির প্রার্থী হতে চান আইয়ুব হোসেন, মাহবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম, বিল্লাল হোসেন, খান শফিয়ার রহমান ও আব্দুল মান্নান মনা।
দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের ঘোষিত একক প্রার্থী হলেন আজিজুর রহমান। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মো. আলতাফ হোসেন, নাজমুল হক লিটন, হারুন অর রশীদ ও আব্দুল মান্নান। কুলটিয়া ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নাজমুল হক লিটন, হামিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদও মিজানুর রহমান মিজান। জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। নেহালপুর ইউনিয়নে জামায়াতের একক প্রার্থী আবু তালহা। বিএনপি থেকে প্রার্থী হতে কাজ করছেন শফিকুল ইসলাম শফি, আফজাল হোসেন ও হরিচাঁদ মল্লিক। মনোহরপুর ইউনিয়নে জামায়াতের ঘোষিত একক প্রার্থী আবু সাইদ শাহীন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু ও আসাদুজ্জামান আসাদ।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, প্রতি ইউনিয়নে কর্মিসভা করে একক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। জামায়াত ইসলামীর উপজেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি এইচএম শামীম হোসেন জানান, দলীয় সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম চারটি ছাড়া বাকি ইউনিয়নে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এনসিপির জেলা সমন্বয়ক মো. আহাদ হুসাইন জানান, ইউপি নির্বাচনের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সম্পর্কিত খবর
শেরপুরের ৫২ ইউনিয়ন
জনসমর্থন পেতে ৩ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ
গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনি হাওয়া
রফিক মজিদ, শেরপুর
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের (্ইউপি) নির্বাচন আগামী অক্টোবর থেকে শুরুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে-গঞ্জে বইছে ভোটের হাওয়া। অন্যান্য জেলার মতো শেরপুরেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ জেলার ৫২টি ইউনিয়নে ৩ শতাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রচারে মাঠে নেমেছেন। এছাড়া সাধারণ ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মিলিয়ে সম্ভাব্য পাঁচ হাজার জন প্রার্থী হতে কাজ করছেন। তাদের কেউ আগাম শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন, উঠান বৈঠক করছেন, কেউ বা জনসংযোগে ব্যস্ত। অনেকেই পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে এবং স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসমর্থন পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শেরপুরের সদর উপজেলায় ইউনিয়ন রয়েছে ১৪টি, নকলায় ৯টি, নালিতাবাড়ীতে ১২টি, ঝিনাইগাতীতে ৭টি ও শ্রীবরদীতে ১০টি। এসব ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭ জন প্রার্থী হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বেশির ভাগ ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী একজন করে প্রার্থী দিচ্ছে।
সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে কাজ করছেন বুলবুল আহমেদ। তিনি বলেন, আমি একসময় ছাত্রদল করলেও আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করছি। এই ইউনিয়নে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক থাকায় গত ১৭ বছর এখানে তেমন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তাই আমি নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।
নালিতাবাড়ীর ননী ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান রিটন বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় স্থানীয়রা আশায় বুক বেঁধেছেন যে, এবার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদ (মেম্বার) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ওয়ার্ডটা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি জনপদের সীমান্তঘেঁষা। এখানে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই। নেই রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎসহ অনেক কিছুই। আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।
শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, আমাকে ১১ দলীয় জোট থেকে একক প্রার্থী করা হয়েছে। আমি বিজয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়ব।
শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ পলাশ এবং শেরপুর শহর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রতি ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিয়নে দল কাউকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী বাছাই শুরু হবে।
জেলা জামায়াতের সূত্রে জানা যায়, ৫২ ইউনিয়নের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি ১৮টিতে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ উদ্দিন বলেন, আমরা তৃণমূলের সব নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থিতাও চূড়ান্ত করেছি। তবে তফসিল হলে মাঠে দলীয়ভাবে কাজ শুরু করা হবে।
তবে এবার কোনো ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীকে জনসংযোগ অথবা নির্বাচনের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া এনসিপিসহ কয়েকটি দল এখনো প্রার্থী বাছাই নিয়ে চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। তবে অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠিপত্র না পেলেও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন কাজ শুরু করেছি। ইসি থেকে চিঠি পেলে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
সম্পর্কিত খবর
শেরপুরের ৫২ ইউনিয়ন
জনসমর্থন পেতে ৩ শতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ
গ্রামে-গঞ্জে নির্বাচনি হাওয়া
রফিক মজিদ, শেরপুর
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদের (্ইউপি) নির্বাচন আগামী অক্টোবর থেকে শুরুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে-গঞ্জে বইছে ভোটের হাওয়া। অন্যান্য জেলার মতো শেরপুরেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ জেলার ৫২টি ইউনিয়নে ৩ শতাধিক সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রচারে মাঠে নেমেছেন। এছাড়া সাধারণ ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মিলিয়ে সম্ভাব্য পাঁচ হাজার জন প্রার্থী হতে কাজ করছেন। তাদের কেউ আগাম শুভেচ্ছা বার্তা দিচ্ছেন, উঠান বৈঠক করছেন, কেউ বা জনসংযোগে ব্যস্ত। অনেকেই পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে এবং স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসমর্থন পেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শেরপুরের সদর উপজেলায় ইউনিয়ন রয়েছে ১৪টি, নকলায় ৯টি, নালিতাবাড়ীতে ১২টি, ঝিনাইগাতীতে ৭টি ও শ্রীবরদীতে ১০টি। এসব ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭ জন প্রার্থী হতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বেশির ভাগ ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামী একজন করে প্রার্থী দিচ্ছে।
সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে কাজ করছেন বুলবুল আহমেদ। তিনি বলেন, আমি একসময় ছাত্রদল করলেও আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করছি। এই ইউনিয়নে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক থাকায় গত ১৭ বছর এখানে তেমন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তাই আমি নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।
নালিতাবাড়ীর ননী ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান রিটন বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় স্থানীয়রা আশায় বুক বেঁধেছেন যে, এবার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদ (মেম্বার) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, এই ওয়ার্ডটা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি জনপদের সীমান্তঘেঁষা। এখানে নাগরিক সুবিধা বলতে কিছুই নেই। নেই রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎসহ অনেক কিছুই। আমি নির্বাচিত হলে সবার আগে নাগরিক সুবিধা প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।
শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী মিজানুর রহমান বলেন, আমাকে ১১ দলীয় জোট থেকে একক প্রার্থী করা হয়েছে। আমি বিজয়ী হলে ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়ব।
শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ পলাশ এবং শেরপুর শহর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান বলেন, ইউপি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রতি ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিয়নে দল কাউকে চূড়ান্ত সমর্থন দেয়নি। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী বাছাই শুরু হবে।
জেলা জামায়াতের সূত্রে জানা যায়, ৫২ ইউনিয়নের মধ্যে ইতোমধ্যে ২৮টিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি ১৮টিতে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ উদ্দিন বলেন, আমরা তৃণমূলের সব নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থিতাও চূড়ান্ত করেছি। তবে তফসিল হলে মাঠে দলীয়ভাবে কাজ শুরু করা হবে।
তবে এবার কোনো ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীকে জনসংযোগ অথবা নির্বাচনের মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া এনসিপিসহ কয়েকটি দল এখনো প্রার্থী বাছাই নিয়ে চিন্তা করছে বলে জানা গেছে। তবে অনেকেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠিপত্র না পেলেও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর প্রাথমিক পরিদর্শন কাজ শুরু করেছি। ইসি থেকে চিঠি পেলে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।