প্রিন্ট: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
‘নেইমার এখনও কিংবদন্তি’
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
বিশ্বকাপের চলতি আসরে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটায় নরওয়ে। রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল নরওয়ে।
সেই ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়ান নিয়ল্যান্ড। তার দল জয় পেলেও প্রতিপক্ষ ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দেন ওরিয়ান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে নিয়ল্যান্ড বলেন, ‘আমি কখনোই সেই ম্যাচটি ভুলব না। ব্রাজিল ছিল আমাদের বিপক্ষে খেলা অন্যতম সেরা দল। নেইমার এখনও আমার কাছে একজন কিংবদন্তি, আর আমি আশা করি তিনি আমাকে ক্ষমা করবেন।’
যদিও নিয়ল্যান্ড তার পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করেননি, তবে ‘ক্ষমা’ চাওয়ার বিষয়টি ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল জাগিয়েছে। অনেকের ধারণা, ম্যাচের উত্তেজনার মুহূর্তে কোনো বিশেষ ঘটনার রেশ থেকেই নরওয়ের গোলরক্ষক হয়তো এমনটি অনুভব করছেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ব্রাজিলকে বিদায় করা ছিল নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন। অথচ সেই জয়ের নায়ক হয়েও বিজয়ের অহংকারে ভেসে না গিয়ে নেইমারের মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া—নিয়ল্যান্ডের এই মানসিকতা ক্রীড়াসুলভ আচরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়ল্যান্ডের এই বার্তাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ব্রাজিল ও নেইমারের ভক্তরা যেমন পোস্টটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন, তেমনি ফুটবল মহলেও নিয়ল্যান্ডের বিনয়ী মনোভাবের প্রশংসা করছেন।
ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
আরও পড়ুন
সম্পর্কিত খবর
বাংলাদেশকে আনন্দ উপহার দিতে চান আর্জেন্টিনার কোচ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
লিওনেল স্কালোনি। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ থেকে আর্জেন্টিনার দূরত্ব আকাশপথে প্রায় ১৬ হাজার ৭৮০ কিলোমিটার। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই দূরত্ব যেন অনেকটাই কমে আসে। আর্জেন্টিনা মাঠে নামলেই বাংলাদেশের অসংখ্য সমর্থক গলা মেলান আলবিসেলেস্তাদের পক্ষে।
বাংলাদেশের এই নিঃস্বার্থ সমর্থন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও মুগ্ধ করেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সমর্থকদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে তার দল।
স্কালোনি বলেন, আশা করি আজ এমন একটি ফল এনে দিতে পারব, যা তাদের আনন্দ দেবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন কোচ আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সব সময়ই আমাদের বিস্মিত করে। এত দূরে থেকেও তারা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে, যা সত্যিই অসাধারণ। নিজের দেশের বাইরে অন্য দেশের মানুষকে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে দেখতে দারুণ লাগে। এজন্য তাদের ধন্যবাদ।
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজও বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং সেখানকার সমর্থকদের আমি ভালোবাসি। তারা আমাদের জন্য পাগল। সেখানে গিয়ে আমি নিজেই সেটা দেখেছি। আমার মনে হয়, কোনো না কোনোভাবে তারা সবাই আর্জেন্টাইন।
আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে স্কালোনি ও মার্তিনেজের এই মন্তব্য বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাপ্রবাহ: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
আরও পড়ুন
সম্পর্কিত খবর
কারাতের লড়াইয়ে ঢাকায় ছয় দেশ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
ম্যাটে লড়াই হবে পদকের। প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল ও ভুটান। স্বাগতিক বাংলাদেশের কারাতেকারাও নামবেন নিজেদের মাটিতে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে। ছয় দেশের প্রায় ৯০০ কারাতেকা, রেফারি, কোচ ও কর্মকর্তার পদচারণায় আজ আন্তর্জাতিক কারাতের মিলনমেলায় পরিণত হচ্ছে ঢাকা।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দশম ক্যাডেট, অনূর্ধ্ব-২১ ও সিনিয়র সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ। একই সঙ্গে বসছে দ্বিতীয় অনূর্ধ্ব-১৪ সাউথ এশিয়া কারাতে কাপ। প্রতিযোগিতার মূল লড়াই ১৮ ও ১৯ জুলাই মিরপুরের শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে।
পদকের লড়াইয়ের আগেই শুরু হচ্ছে আরেক পরীক্ষা। বেইলি রোডের পার্বত্য কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে ১৫০ জন রেফারি ও ৩০ জন কোচের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক কারাতে ফেডারেশনের এই কোর্সে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের বিভিন্ন দেশের রেফারিরাও অংশ নেবেন।
বুধবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচ্-বাংলা অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজনের বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু। এ সময় ফেডারেশনের সভাপতি শাহজাদা আলমসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মালদ্বীপ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ছয় দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান ও স্বাগতিক বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে প্রতিযোগিতায়। ক্যাডেট ও সিনিয়র বিভাগে ১৯২টি এবং জুনিয়র বিভাগে ৩৮৪টি পদকের লড়াই হবে।
পদকের এত বড় ভান্ডার থেকে বাংলাদেশের ঝুলিতে জমা হবে কতটি? ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাস্তবতার কথাই তুলে ধরলেন , ‘শ্রীলংকায় গত আসরে আমরা অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগে দুটি স্বর্ণ এবং সিনিয়র বিভাগে চারটি রুপা ও ছয়টি ব্রোঞ্জ জিতেছিলাম। এখানে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। সেরা কারাতেকারাই অংশ নেন। তাই আমাদের খুব বেশি পদক জেতার সুযোগ থাকে না। এবার যেহেতু নিজেদের দেশে আসর, তাই আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও বেশি পদক জেতার জন্য লড়বে।’
সম্পর্কিত খবর
ইংল্যান্ডকে বধ করতে কুসংস্কারের আশ্রয় নিচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে লিওনেল মেসিরা কোনো খামতি রাখছেন না ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাইরে আর্জেন্টাইন সমর্থকরাও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের আগে ম্যাচ নিজেদের পক্ষে আনতে ও ইংলিশ তারকাদের স্তব্ধ করতে বিচিত্র সব কুসংস্কার ও রীতিনীতির আশ্রয় নিচ্ছেন আলবিসেলেস্তে ভক্তরা।
এই রীতিনীতিগুলো আর্জেন্টিনায় ‘কাবালা’ নামে পরিচিত, যা ফুটবলার ও সমর্থকদের মধ্যে এক গভীর লোকবিশ্বাস হিসেবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভক্তরা এমন সব অদ্ভুত নিয়ম মেনে চলছেন, যা অতীতে দলকে জয় এনে দিয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস।
এই যেমন, জয়ের ধারা বজায় রাখতে অনেকে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নাম মুখে নেন না, বছরের পর বছর না ধুয়ে রাখা একই জার্সি গায়ে চাপান, খেলা দেখার সময় একই আসনে বসেন এবং প্রতি ম্যাচে একই খাবার খান।
তারা বিশ্বাস করেন, এর সামান্যতম পরিবর্তনও দলের কপাল পুড়িয়ে দিতে পারে!
আর্জেন্টিনার ১৩ বছর বয়সি কিশোরী সমর্থক ইনেস মুত্রি তার বন্ধুদের সঙ্গে এক বিশেষ কাবালা মেনে চলে। সে জানায়, ‘আমার ও আমার বন্ধুদের একটা নিজস্ব নিয়ম আছে। আমরা প্রতিপক্ষ দলের মূল তারকা খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষকের নাম একটা কাগজে লিখে তা ডিপ ফ্রিজে জমিয়ে রাখি। এবার আমরা হ্যারি কেইনের নাম ফ্রিজে জমাতে যাচ্ছি, কারণ ও ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা।’
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এই লোকবিশ্বাস এখন ডিজিটাল রূপও নিয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এমন অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের বরফের ব্লকের ভেতর জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—যাতে মাঠে প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড়রা নড়াচড়া করতে না পারেন, গোল করতে না পারেন বা গোল ঠেকাতে না পারেন!
১৮ বছর বয়সি শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভো যেমন জানান, তিনি ইংল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের নাম কাগজে লিখে ফ্রিজে জমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিলার্দো থেকে স্কালোনি: কুসংস্কারের গভীর শিকড়
আর্জেন্টিনায় ফুটবল এক প্রকার ধর্মের মতো, আর এই ধরনের অন্ধবিশ্বাস তাদের ম্যাচ নিয়ে মানসিক স্বস্তি দেয়। এই ঐতিহ্যের শিকড় অনেক গভীরে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী কোচ কার্লোস বিলার্দো তার বিচিত্র সব কুসংস্কারের জন্য কুখ্যাত ছিলেন—যেমন মাঠে কে কোন ক্রমানুসারে পা রাখবে, তা তিনি কঠোরভাবে ঠিক করে দিতেন।
এমনকি বর্তমান বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনিও নিজের এক ‘কাবালা’র কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ‘আমি সবসময় ডান পা দিয়ে মাঠে প্রবেশ করি এবং বুকে ক্রুশ চিহ্ন আঁকি।’
এদিকে, ইংরেজদের বিপক্ষে এই ম্যাচের মাধ্যমে আবারও পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এক দ্বৈরথ—যা ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে বহু ঐতিহাসিক নকআউট লড়াইয়ের স্মৃতি বহন করে।
সেমিফাইনালের এই ম্যাচে তাই ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের আদলে তৈরি রেপ্লিকা জার্সি পরেই খেলা দেখতে বসবেন কালভো। তার মতে, ‘মেসি তার ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব ট্রফি জিতলেও, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই স্তরে (সেমিফাইনালে) আগে কখনো মুখোমুখি হননি। তাই এটি একটি অনন্য ম্যাচ।’
সমর্থকদের মতে, ‘কাবালা’র মূল চাবিকাঠি হলো হুবহু পুনরাবৃত্তি করা। একবার আর্জেন্টিনা জিতে গেলে পরবর্তী ম্যাচের দিন আগের ম্যাচের প্রতিটি নিখুঁত বিষয় পুনরায় ফিরিয়ে আনতে হয়—একই মানুষ, একই আসন, একই জামা এবং সম্ভব হলে একই দুপুরের খাবার।
কিশোরী মুত্রি তার আট বন্ধুর সঙ্গে মাথায় একই টুপি পরে এবং একই জায়গায় বসে সেমিফাইনাল উপভোগ করার অপেক্ষায় আছে। হাসিমুখে সে বলে, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তীব্র স্নায়ুচাপের হবে জানি, তবে আমরা আমাদের নিয়ম মেনেই আনন্দ নিয়ে খেলা দেখব।’
সূত্র: রয়টার্স