জিয়ার কোর্ট মার্শাল থেকে বিএনপির আগুন-সন্ত্রাস, বিচার মিলবে কবে?
স্বজন হারানোর বেদনায় কেটেছে প্রায় পাঁচ দশক। তবুও ভীষণ তাজা বুকের ভেতরে লুকিয়ে থাকা তীব্র বেদনার স্মৃতি। কোনো বিশেষ দিন এলে একান্ত নির্জনে এখনও ঝরে চোখের জল।
জিয়াউর রহমানের আমলে বিদ্রোহ দমনের নামে অসংখ্য সেনা সদস্যকে হত্যার অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৯ মিনিটে পড়ুন
পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আরোহণের পর ১৯৭৭ সালের অক্টোবরে জিয়াউর রহমান তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে হত্যা করেন সশস্ত্র বাহিনীর বহু সদস্যকে। পরিবারের সদস্যরা বুঝে পাননি মরদেহ। এমনকি হত্যার খবরটি নিশ্চিত হতেও তাদের লেগেছে বিশ বছর। এত বছর পর এসেও তাদের তাড়িয়ে বেড়ায় স্বজন হারানোর ভয়াল স্মৃতি।
১৯৭৭-এ বিনা দোষে যারা প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন তাদের স্বজনরা বুধবার (১২ জুলাই) দুপুরে বিচারের দাবিতে জড়ো হন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। উপস্থিত ছিলেন ২০১৩ থেকে ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের আগুন-সন্ত্রাসে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও।
‘অগ্নিসন্ত্রাসের আর্তনাদ’ ও ১৯৭৭ সালে সামরিক জান্তার হাতে নির্যাতিতদের সংগঠন ‘মায়ের কান্না’ এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
ভুক্তভোগীদের সহমর্মিতা জানাতে আয়োজনে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। এ সময় তিনি বলেন, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, যারা জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন তাদের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয়, বোমা হামলা হয়। এই নির্মমতার জন্য দায়ী বিএনপিই এখন জনগণের অধিকার আদায়ের নামে আবারও ষড়যন্ত্র করছে।
রাজনীতির নামে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের ঘটনা আর যেন না ঘটে সেই প্রত্যাশার কথাও জানান মন্ত্রী।
জিয়ার হাত দিয়ে হত্যার শুরু
১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা, সেনা ও বিমানবাহিনীর শত শত সদস্যকে ফাঁসি দেন।
ভুক্তভোগী সেনা সদস্যদের স্বজনদের অভিযোগ, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১৪০০ জনকে ফাঁসি এবং ফায়ারিং স্কোয়াডের নামে হত্যা করে লাশ গুম করেন।
একদিনের সামরিক আদালতে বিচারের নামে সেই রাতেই ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি সম্পন্ন করা হয়। রাতে কারফিউর মধ্যে কোনো ধরনের ধর্মীয় সৎকার ছাড়াই লাশগুলো আজিমপুর কবরস্থান এবং কুমিল্লার টিক্কারচর কবরস্থানে মাটিচাপার ব্যবস্থা করেন জিয়া।
মূলত নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য জিয়ার নির্দেশে তখন বেছে বেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়। একই সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সদস্য ও কর্মকর্তাদের কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং চাকরিচ্যুতও করা হয়।
অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘অ্যা লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭৭ সালে মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১ হাজার ১৪৩ জনকে হত্যা করেন জেনারেল জিয়া। এছাড়া কয়েকশ’ সেনা সদস্যকে ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়।
ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের ভয়ঙ্কর বর্ণনা দিয়ে মাসকারেনহাস লিখেছেন, ‘তিন-চারজনকে একসঙ্গে ডেকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হতো। পরে জিয়াউর রহমান বসে বসে সে সবের অনুমোদন দিতেন। এর পরপরই তাদের ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হতো। আর এ সবই হতো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।’
তবে এখনও সেসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। জিয়ার শাসনামলকে অবৈধ উল্লেখ করে বিচারপতি মানিক বলেন, জিয়া যেদিন রাষ্ট্রপতি হয়েছেন, সেদিনও তিনি সরকারি চাকরিতে ছিলেন। অর্থাৎ সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। সুতরাং তার শাসনের কোনো বৈধতা ছিল না। সংবিধান লঙ্ঘনের জন্য বিচারপতি সায়েম, খন্দকার মোশতাক ও জিয়া তিন জনেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে অপরাধী। তাদের বিচার হওয়া উচিত। জাতির উচিত তাদের ধিক্কার জানানো। জীবিত থাকলে তো জিয়ার ফাঁসি হতো। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতো।’
২০০১ থেকে বিএনপির বর্বরতার শুরু
২০০১ সালে নির্বাচনপরবর্তী সময়ে বিএনপি ও তার সহযোগী জামায়াত সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার মধ্য দিয়ে ভীতির রাজনীতির প্রদর্শনী শুরু করে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বানচাল করতে তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যা করে বিএনপির সহযোগী জামায়াত। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে বানচাল করতে আগুন-সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যায় মেতে ওঠে বিএনপি-জামায়াত।
এ অবস্থায় ফেরা যাক ২২ বছর আগের এক নির্বাচন পরবর্তী সময়ে, চোখে ধরা দেয় ভয়াবহ তাণ্ডবলীলার নারকীয় চিত্র।
পূর্ণিমা রানী। ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচনে কাজ করেছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট হিসেবে। সেই দায়ে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার জীবনে নেমে আসে ঘোর অমানিশার নরক। বিএনপি কর্মীরা তাকে বাড়ি থেকে তুলে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। তবে স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন পূর্ণিমা। পড়াশোনা করে শক্তি সঞ্চয় করে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে।
আন্দোলনের নামে বিএনপির আগুন সন্ত্রাস ও পুড়িয়ে হত্যার বর্বরতা দেখেছে পুরো বিশ্ব (সময় সংবাদের ফাইল ছবি)
তবে সবাই কি আর উদাহরণযোগ্য হতে পারেন? পারেন না বলেই বাংলার বাতাসে কান পাতলে এখনও কানে আসে, দুই দশক আগের ভয়াবহ নির্যাতনের বোবাকান্না।
তথ্য বলছে, ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে ১৮ হাজারের বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হামলায় জড়িত ২৬ হাজার ৩৫২ জনের মধ্যে বিএনপির অনেক মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য জড়িত ছিলেন।
বিএনপির বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাতো হামলা নির্যাতনের শিকার হনই, তবে সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন-নির্যাতন নেমে আসে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর। ধর্ষণ, বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, আগুন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, ধ্বংস করা, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ নানা রকম জুলুম নির্যাতন হয় তাদের ওপর।
বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলে নির্যাতনের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। ভোলা জেলার শুধু একটি উপজেলা চরফ্যাশনেই ৩০০ হিন্দু পরিবার হামলা নির্যাতনের শিকার হয়। বরিশালের বানারিপাড়া ও উজিরপুর এবং পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে কয়েকশ’ হিন্দু পরিবার বসত বাড়ি ছেড়ে গোপালগঞ্জের রামশীলে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়।
তবে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের এমন দুর্দশার পরও উদ্বেগহীন ছিলেন বিএনপির তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বরং সেই এলাকার ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারে উড়ে এসে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ‘কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।’
২০০২ সালেও চলে বিএনপির বর্বরতা
শুধু ২০০১ নয়, পরের বছর ২০০২ সালেও অব্যাহত ছিল বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ধর্ষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন। ২০০১ সালে বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হন ৫৬৬ জন। ২০০২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯১।
এসব ঘটনার তদন্তে ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সাবেক জেলা জজ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করে। এই কমিটি ২০১১ সালের ২৪ এপিল ৫ খণ্ডে ১ হাজার ১০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় সরকারের কাছে।
কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ঢাকায় ২৭৬টি, চট্টগ্রামে ৪৯৭টি, সিলেটে ১৭টি, খুলনায় ৪৭৮টি, রাজশাহীতে ১৭০টি এবং বৃহত্তর বরিশালে সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ২২৭টি ঘটনার প্রমাণ মেলে।
এরমধ্যে ঢাকায়, ৯২টি হত্যা, ১৮৪টি ধর্ষণ এবং দলবদ্ধ ধর্ষণ, আগুন দেয়া ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়। চট্টগ্রামে হত্যা করা হয় ৯৭ জনকে। অন্যান্য গুরুতর অপরাধ হয় ৩৫০টি। রাজশাহীতে ৫০টি হত্যাকাণ্ড এবং ১১৭টি গুরুতর অপরাধ হয়। খুলনাতে ৭৩ জনকে হত্যা এবং ৪০৫টি গুরুতর অপরাধ হয়।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনের পরে সবচেয়ে কম সহিংসতা হয়েছে ২০০৮ এর ভোটের পর।২০০১ নির্বাচনের পর বিএনপির যত অপকর্ম
২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও সহিংসতা
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশের অভ্যন্তরে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী বিচার বন্ধে বিএনপির সমর্থন নিয়ে জামায়াত-শিবির দেশব্যাপী তাণ্ডব চালায়। ওই সময় সহিংসতার ৪১৯টি ঘটনা ঘটে।
গণমাধ্যমের হিসাব মতে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরবর্তী দুদিনেই জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন প্রাণ হারান। এদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
দশম জাতীয় নির্বাচনে তাণ্ডব
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরোধিতা করে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা শত শত যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই ঘটনায় পেট্রোল বোমা, হাতে বানানো বোমা এবং অন্যান্য সহিংসতায় কয়েকশ’ মানুষ প্রাণ হারান। সহিংসতার সময় রাস্তার পাশে থাকা হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এছাড়া ছোট দোকান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও আগুন দেয়া হয়।
সহিংসতার কারণে নির্বাচনের দিন প্রিসাইডিং অফিসারসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। সারা দেশে ৫৮২টি স্কুলের ভোটকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
নির্বাচন ঘিরে শতাধিক প্রাণহানি
২০১৫ সালের ৪ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন আবারও জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বিএনপি-জামায়াত জোট, ঘটে প্রাণহানি। এদের বেশিরভাগই পেট্রোল বোমা এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় আহত হন সহস্রাধিক। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সে সময় ২ হাজার ৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি রেলগাড়ি এবং ৮টি যাত্রীবাহী জাহাজে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় সরকারি নানা দফতর।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং বিএনপি নেত্রীর আদালতে হাজিরায় অনুপস্থিত থাকার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াত অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সারা দেশে তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পেট্রোলবোমায় ২৩১ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান এবং ১ হাজার ১৮০ জন আহত হন। ২ হাজার ৯০৩টি গাড়ি, ১৮টি রেলগাড়ি ও ৮টি লঞ্চে আগুন দেয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাঙচুর এবং ৬টি ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেয়া হয়।
আবারও আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে পুলিশের জমা দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত দেশের ২১ জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায়। আর ওই সময় মোট ১৬০টি হামলা ও অত্যাচারের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগ একটি সুয়োমোটো রুল জারি করেন, যার মধ্যে বিভিন্ন পুলিশ রেঞ্জের কর্মকর্তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, শেরপুর, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, জয়পুরহাট, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, রংপুর, গাইবান্ধা নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও জেলায় হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা উঠে আসে।
মায়ের ডাকের ব্যানারে বিএনপির রাজনীতি
এদিকে বিভিন্ন সময় গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর সহানুভূতি ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতে কাজ করছে বিএনপি। এ ধারাবাহিকতায় ‘মায়ের ডাক’ প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। একটি প্রতিবেদনে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি পরিবারের বরাত দিয়ে এমনটাই জানানো হয়েছে।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন যোগাতে নিখোঁজদের স্বজনদের আবেগকে পুঁজি করছে ‘মায়ের ডাক’।
২০১৩-১৪ সালে বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডব থেকে বাঁচেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জানা যায়, মায়ের ডাক আর্জেন্টিনার ‘মাদার্স অব দ্য মায়ো'র আদলে প্রতিষ্ঠিত, যা আর্জেন্টিনার মায়েদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যাদের সন্তানরা ১৯৭৬ এবং ১৯৮৩ সালের মধ্যে সামরিক স্বৈরশাসনের সময় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ‘নিখোঁজ’ হয়েছিলেন।
বর্তমানে এ সংগঠনটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার উৎখাতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে বিরোধীদের সমাবেশে নিয়ে আসছে।
ইন্ডিয়া টুডেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আবেগকে পুঁজি করে সংগঠনটি সরকার পরিবর্তনের এজেন্ডা বাস্তয়াবয়নে কাজ করছে, যা তাদের কর্মকাণ্ড দেখলেই স্পষ্ট।
দেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মীদের মতে, একটি গুমের ঘটনাও দুঃখজনক। তবে অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন কারণে কেউ আত্মগোপন করে থাকেন। যারা পরে আবার ফিরে আসছেন। অনেক সময় এসব ঘটনাকে বিরোধীরা সরকারবিরোধী প্রচারণায় ব্যবহার করছে।
বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈরি মায়ের ডাক প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা হাজেরা খাতুন। তার ছেলে সাজেদুল ইসলাম সুমন ঢাকার একজন সুপরিচিত বিএনপি নেতা ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হন। সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম এই প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ক। মায়ের ডাক ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন প্রায় ভুক্তভোগী ৮০টি পরিবার এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলেও বর্তমানে মাত্র ১৯টি পরিবার এ সংগঠনের ব্যানারে রয়েছে। জনসাধারণের নজরে আনতে বাংলাদেশের বিরোধী দলের সমাবেশগুলোতে প্রায়ই তাদের সামনে রাখা হয়।