তুরাগ ট্র্যাজেডি: পুলিশের তথ্যে বড় অসঙ্গতি দেখালো 'দ্য ডিসেন্ট',
তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | আজকের কন্ঠ
তুরাগ নদে নৌকাডুবিতে নিহত সুমনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুলিশের দেওয়া তথ্যের
সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডিসেন্ট' (The Dissent)-এর
একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা দাবি এবং
বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে।
ফ্যাক্টচেক বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিক কদরুদ্দীন শিশির তার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই
রিপোর্টের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশ দাবি করেছিল সুমন বন্ধুদের সাথে পিকনিক করতে
গিয়ে পানিতে পড়ে মারা গেছেন। তবে ‘দ্য ডিসেন্ট’ বিভিন্ন অনলাইন ফুটেজ এবং তথ্য
বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে যে, পুলিশের এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া যে ট্রলারটি পালানোর চেষ্টা
করছিল, সুমন সেই ট্রলারেই ছিলেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ের একাধিক রাজনৈতিক মিছিলেও
সুমনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে 'পিকনিক'-এর তত্ত্বটি ধোপে টিকছে না বলে
মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিপোর্টে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী,
ঘটনার অন্তত দুই দিন আগেই সুমন ও আরিফের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত ছিল। অথচ
গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় পুলিশ বারবার দাবি করেছে যে, তারা এই বিষয়ে কিছুই
জানে না।
এই ধরনের তথ্যের লুকোচুরি বা মিথ্যাচার গুজব নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে
মন্তব্য করেছেন কদরুদ্দীন শিশির। তিনি বলেন, "মিথ্যাচার করে ভুয়া খবর বা গুজব
নিয়ন্ত্রণ করার পুরনো চর্চা বাদ দিতে হবে। কোনো ঘটনায় সঠিক তথ্য ও প্রমাণাদি যত
দ্রুত প্রকাশ করা যাবে, গুজব তত দ্রুত ঠেকানো সম্ভব হবে।"
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, এ ধরনের আচরণের ফলে দীর্ঘ মেয়াদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা কমতে থাকবে। যা ভবিষ্যতে প্রকৃত গুজব প্রতিরোধের
সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
তুরাগের এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি
জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনরা। সংবাদ প্রকাশের সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে পুলিশের
পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
All reactions:
7 comments
9 shares
Like
Comment
Most relevant
Muhammad Rasel Sarkar
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের রাজনীতি: পতিত ফ্যাসিস্টদের অপপ্রচার রুখতে গণমাধ্যমের সংস্কার জরুরি!?
সতর্ক বার্তা:
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে নিয়ন্ত্রিত ও সুবিধাভোগী মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে যতদিন পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হবে, ততদিন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মিথ্যা, ভিত্তিহীন সংবাদ ও গুজব ছড়ানো থামানো যাবে না। পতিত ফ্যাসিস্টরা এখনো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-জেনারেটেড (AI-generated) ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় গুজব ছড়ানোর পেছনে ৬৮ ভোট পেয়ে পরাজিত সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী তাসনিম আফরোজ ইমির নাম উঠে এসেছে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “Daily Ajker Kantho – ডেইলি আজকের কণ্ঠ” নামক একটি ফেসবুক পেজসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে “তুরাগ ট্র্যাজেডি” শিরোনামে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মূলত আশুলিয়ায় সংঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এই প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নৌকাযোগে কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী মিছিলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তারা আশুলিয়া বাজার ঘাটের কাছে পৌঁছালে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন এবং তাড়াহুড়ার মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন তুরাগ নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৭ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে নদী থেকে নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলাও দায়ের করেছেন।
অথচ এই স্বাভাবিক আইনি ও দুর্ঘটনাজনিত ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে পতিত ফ্যাসিস্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ‘ফটোকার্ড’ ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
এই বিষয়ে গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে একটি স্পষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে “তুরাগ নদীতে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসছে” শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ধরনের অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আমি আগেও বলেছি এবং এখনো বলছি—দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা এখনো ছদ্মবেশে লুকিয়ে রয়েছে। কথিত ‘সাংবাদিক সংগঠন’-এর নামে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরেরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দালাল ও নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে এই প্রোপাগাণ্ডা চলতেই থাকবে।
দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। যেকোনো খবর বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করুন।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ রাসেল সরকার
চেয়ারম্যান,
"যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলন"
তারিখ- ২৮ জুন ২২০২৬ ইং
Arafat Bhuiyan Arafat
এসব কিছু হইল ভাই লাশ দামাচাপা দেওয়ার পাইতারা
Most relevant is selected, so some comments may have been filtered out.