ভারতের মেডিকেলে ক্লাস নিচ্ছেন আ.লীগের পলাতক এমপি প্রাণ গোপাল
ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরার একটি মেডিকেল কলেজে পাঠদান করছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
সম্প্রতি ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ (Tripura Santiniketan Medical College) নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ক্লাস নিচ্ছেন বলে দেখা যায়। চ্যানেলটির একাধিক ভিডিওতে তাকে ক্লাস নিতে দেখা গেছে। তবে কতদিন ধরে তিনি সেখানে পাঠদান করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। তার পেছনের ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি নাক-কান-গলা (ইএনটি) সম্পর্কিত একটি বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে যান। দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না মিললেও, সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত নাক-কান-গলা রোগের বিশেষজ্ঞ। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়)-এর সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে স্বাধীনতা পদক পান। পরে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশে কার্যত নিষিদ্ধ ও দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী যখন পলাতক বা কারাবন্দী, তখন ভারতে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের এই শিক্ষকতা পেশায় ফেরার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সম্পর্কিত
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে যা বলল ভারত
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত আশা করে বাংলাদেশে অবাধ, সচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন তিনি।
রণধীরকে বিজনেস ইন্ডিয়ার সাংবাদিক ইয়েশি সেলি প্রশ্ন করেন, আগামী বছর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, ভারত কি এই প্রস্তাব দিচ্ছে যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত এবং আওয়ামী লীগও তাতে অংশ নেওয়া উচিত?
জবাবে রণধীর জওসয়াল বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক হবে।
আওয়ামী লীগের কার্যালয় বন্ধে বাংলাদেশের আহ্বানে যা বলল ভারত
ভারতের কলকাতা, দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে কার্যালয় খুলে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে আওয়ামী লীগের কোনো বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছে ভারত।
আজ বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ভারত সরকার অবগত নয় যে ভারতের ভূখণ্ডে আওয়ামী লীগের কোনো কথিত সদস্য বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে বা এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা ভারতীয় আইনের পরিপন্থী। ভারত সরকার অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রমকে ভারতীয় মাটি থেকে পরিচালনা করতে দেয় না।’
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উক্ত বিবৃতি তাই ভ্রান্তিপূর্ণ। ভারত আবারও প্রত্যাশা জানাচ্ছে যে, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও গণআদেশ নিরূপণের জন্য অবিলম্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বসম্মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
প্রসঙ্গত, আজ দেওয়া বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নয়াদিল্লি ও কলকাতায় দলটির রাজনৈতিক অফিস স্থাপনের খবর তারা লক্ষ্য করেছে এবং অবিলম্বে এসব কার্যালয় বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ভারতের মাটিতে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ক্রমবর্ধমানভাবে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। দলটির বহু জ্যেষ্ঠ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ভেতরে পলাতক থেকে এখনো ভারতে অবস্থান করছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেসক্লাবে একটি নামবিহীন এনজিওর আড়ালে দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেন এবং সেখানে সাংবাদিকদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিষিদ্ধ দলের কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকা মনে করে, ভারতে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশেষ করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় স্থাপন বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ। এমন কাজ বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতি করতে পারে এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে বসে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হতে পারে এবং সেখানে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।