প্রিন্ট: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
সাংবাদিকদের হেয় করে বেকায়দায় যুবদল নেতা সালাম
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালামের একটি বক্তব্যের ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করে যে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন তিনি, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে এবার খোদ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আব্দুস সালাম দৌলতপুরের সাংবাদিকদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন, দৌলতপুরে সাংবাদিকদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে বিএনপির মাধ্যমে তা পরিচালনা করতে হবে। সেই সঙ্গে দৌলতপুরে কেউ সাংবাদিক নয়, সবাই রিপোর্টার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার এ বক্তব্য স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতার এমন মন্তব্য শুধু অনভিপ্রেতই নয়; এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি দৌলতপুরে ড্রেজার বাণিজ্য এবং উপজেলা প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টার অভিযোগ তুলে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওইসব সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রদর্শন করতে শুরু করেন। সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বলে দাবি তাদের।
ঘটনার পর দৌলতপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদকর্মীরা কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশনায় নয়, পেশাগত দায়িত্ব ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কাজ করেন। একজন রাজনৈতিক নেতার মুখে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের ভাষা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া ওই বক্তব্যে শুধু সাংবাদিক সমাজই নয়, ক্ষুব্ধ হয়েছে তার নিজের সংগঠনও। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি বিষয়টিকে আমলে নিয়ে আব্দুস সালামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালনকারী সংবাদকর্মীদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু যুগান্তরকে জানান, দৌলতপুরের যুবদল সদস্য সচিবের যে ভিডিওিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িছে এটা মোটেও কাম্য নয়।
শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, দল ইতোমধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে উপস্থিত হয়ে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সম্পর্কিত খবর
মেহেন্দীগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুজনের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা ও মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চুয়াডাঙ্গা সদরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার নবীননগর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তানিশা খাতুন ওই গ্রামের শাহিন আলীর মেয়ে।ইজিবাইকে দেওয়া চার্জের তারে স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় তানিশা।
জানা যায় প্রতিবেশীর ইজিবাইক চার্জে দেওয়া ছিল। সেখানে খেলছিল তানিশা। চার্জারের তারে লিকেজ থাকায় তানিশা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তানিশাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মেহেন্দীগঞ্জের কাজীরহাট থানায় কম্পনযন্ত্রে বিদ্যুতায়িত হয়ে আনোয়ার ব্যাপারী (৪০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের চরসোনাপুর গ্রামের মনির বিশ্বাসের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আনোয়ার ব্যাপারী চরসন্তোষপুর গ্রামের সোবাহান ব্যাপারীর ছেলে। তিনি চুক্তিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ করতেন। প্রত্যক্ষদর্শী ফরিদ খান জানান, বুধবার সকালে একটি বাড়ির ছাদ ঢালাই কাজ চলছিল। আনোয়ার ব্যাপারী ভাইব্রেটর যন্ত্র চালু করার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতায়িত হন। আনোয়ারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সম্পর্কিত খবর
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মধুপুরে ফের মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসার এক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত মাওলানা হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়ি গোলাবাড়ী ইউনিয়নের লোকদেও গ্রামে ও মধুপুর পৌর শহরের মালাউড়ীস্থ সৈয়দা জাহানারা মাদানি নেসাব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। জানা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন। এসব অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালায়। এদিকে মাত্র এক সপ্তাহ আগে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের মহিষবাথান এলাকার দারুল উলুম নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক সোহেলও একই ধরনের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হন। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, এক মাসের মধ্যে একই ধরনের একাধিক ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ওসি একেএম ফজলুল হক বলেন, হঠাৎ করে মধুপুরে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া উদ্বেগের বিষয়। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে।