ভুল তথ্য আর ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে মশক নিধনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনা কি ভেস্তে যাবে?
সালটা ২০১৬। আমেরিকার মিয়ামি-ডেড কাউন্টিতে যখন মারাত্মক 'জিকা ভাইরাস' ছড়িয়ে পড়ে, তখন কোনো প্রচলিত রাসায়নিক স্প্রে দিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। তখন বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ চক্র সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দিয়েছিল মার্কিন কোম্পানি ‘ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসি’ (Valent BioSciences)-এর একটি বিশেষ জৈবিক প্রযুক্তি।
ঠিক একই রকম এক জাদুকরী বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছিল আমাদের চট্টগ্রামেও! গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত (দীর্ঘ ৮ মাস) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এলাকায় এই বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানির মশার লার্ভা নিধনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। এর কার্যকারিতা ছিল ম্যাজিকের মতো—পানিতে ছিটানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি মশার লার্ভার পাকস্থলী ধ্বংস করে দেয়! সবচেয়ে বড় কথা, এটি সম্পূর্ণ জৈবিক (Biological) হওয়ায় মানুষ, মাছ বা অন্য কোনো জলজ প্রাণীর বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না।
এই অভাবনীয় সফলতার পর, প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার কেমিক্যাল আমদানির নির্ভরতা কমাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক দূরদর্শী উদ্যোগ নেন। তিনি বাংলাদেশে ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর সাথে যৌথ অংশীদারত্বের (Joint Venture) ভিত্তিতে একটি কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
এতে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে কারখানা করার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি চসিক মেয়রের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা রাজ্যে তাদের মূল কারখানা ও ল্যাব পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সফরের যাবতীয় অর্থায়ন করার কথা ছিল স্বয়ং ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস-এর। অর্থাৎ, সরকারের বা চসিকের একটি টাকাও খরচ হতো না!
কিন্তু সব প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই সফরের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে। ফলে দেশের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই যাত্রাটি এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এই কারখানাটি হলে আমরা কী পেতাম?
১.শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকা ও সারাদেশের মশার লার্ভা নিধনের কেমিক্যাল বাংলাদেশেই উৎপাদন হতো।
২.প্রতি বছর বিদেশ থেকে কেমিক্যাল আমদানির কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতো।
৩.ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত প্রাণঘাতী রোগ থেকে দেশবাসী স্থায়ী মুক্তি পেত।
ভুল তথ্য আর নোংরা রাজনীতির কারণে দেশের টাকা যেমন বিদেশে চলে যাবে, তেমনি অংকুরেই মৃত্যু হতে চলেছে একটি বিশাল সম্ভাবনার। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং দেশকে ডেঙ্গু-মুক্ত করতে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়া জরুরি।
Drshahadat Hussen
আপনার দূরদৃষ্টি এবং মেধাবী নেতৃত্বে ইনশাআল্লাহ ঘুরে এগিয়ে যাবে বীর চট্টলা।
All reactions:
8 comments
2 shares
Like
Comment
Most relevant
Mir Shahria
কোন ক্যামিকেল ফ্যাক্টরি পরিবেশের জন্য উপকারী হয় না। চট্টগ্রামে এখনো অনেক নালা আছে যে গুল্লা পরিষ্কার হয় নাই বহু বছর। মেইন রাস্তায় বড় বড় ডাস্টবিন খোলা অবস্থায় আছে, সে গুল্লা যে ক্ষতিকর সে বিষয় গুল্লা ত গতানুগতিক আগেই মতই আছে! ২নাম্বার গেইট ময়লার স্তূপের যে অবস্থান এটির কি ডিপোস্টাইল করা যা না? বিএনপি পার্টি অফিসের সামনে যে ময়লার স্তূপ সেটিও কি ডিপো করা যায় না?? বিবিরহাটের ময়লার স্তূপ
Mohammad Arfatur Rahman
যদি যেতেই হয় তবে যাবে ট্যাকনিক্যাল প্রতিনিধিরা। এখানে মেয়রের কাজটাই কি? আর সাংবাদিক সাহেব এখানে সব খরচ ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের। মানে ঠিকাদার প্রতিষ্টান সব খবর বাংলাদেশ সরকার হতে বাজেটের মাধ্যমে সমন্বয় করে নিবে। (আমার জানাতে ভুল থাকলে সংশোধন করে দিবেন)
Enam Hider
সঠিক
Nazim Uddin
গুপ্ত বট সাংবাদিকদের মাথায় তুলে রেখেছে, সময় মতো তিন হাত এভাবে ভরে দেবে। শুধু অপেক্ষায় থেকো
Muktar Ali