নৌকাকে বিজয়ী করতে না পারলে দেশ আবার পাকিস্তানপন্থী হবে: সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় উৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় উৎসবের উদ্বোধন করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর
ছবি: সাজিদ হোসেন

আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নির্বাচিত না হলে দেশ আবার পাকিস্তানপন্থী হয়ে যাবে বলে মনে করছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সে কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আবার বিজয়ী করে আনতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় উৎসব ২০২৩–এর উদ্বোধন করেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। ‘আমার দেশ সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া চার দিনের এ বিজয় উৎসব শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন পরিস্থিতিতে হচ্ছে। এতে খেলা দেখাচ্ছে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সমর্থন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনা দেখলেই বোঝা যায় নির্বাচন বানচালের জন্য দেশে নাশকতা চলছে। ক্ষমতায় যাওয়া রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলে মানুষ হত্যা স্বাভাবিক ঘটনা হয়। এ কারণে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করার বিকল্প নেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস। তিনি বলেন, ‘আমরাই (সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট) একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিলাম। এখন তা চাই না, কেননা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূলনীতি নষ্ট করেছে বিএনপি–জামায়াত জোট সরকার।’  

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখে মন্তব্য করে সংস্কৃতিবান্ধব বর্তমান সরকারকে সমর্থনের আহ্বান জানান গোলাম কুদ্দুস।

জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা সংবিধানে নেই। ফলে নির্বাচিত সরকারের হাত দিয়েই নির্বাচন হোক, তাই চাই আমরা।’

স্বাগত বক্তব্যে জোটের সাধারণ সম্পাদক আহকামউল্লাহ বলেন, ‘৭৫–এর ১৫ আগস্ট যারা ঘটিয়েছিল, তাদের পরম্পরা আছে। এর প্রমাণ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, উদীচীর বোমা হামলার মতো অনেক ঘটনা। এরাই সামনের নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

আহকামউল্লাহ বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিকল্প আমাদের কাছে নেই। নৌকাকে বিজয়ী করতে না পারলে দেশ আবার পাকিস্তানপন্থী হবে।’

বুধবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দুই পর্বে আরও ছিল শহীদবেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন, মুক্তিযুদ্ধের গান, আবৃত্তি এবং নৃত্যের সঙ্গে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী। চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও রায়ের বাজার বৃদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ মঞ্চে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।