বেতন সংক্রান্ত বিরোধ এবং অন্য বিভাগে বদলির ক্ষোভের জেরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে (৩৮) তারই বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলুর রহমান নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
সূত্রমতে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বেতনবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধ এবং অন্য বিভাগে বদলি করায় ক্ষোভের কারণে ফজলুর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ফজলুর সমাজকল্যাণ বিভাগের একজন থোক বরাদ্দপ্রাপ্ত ডে-লেবার ছিলেন। তিনি কয়েক বছর ধরে বিভাগের সুপারিশে ডে-লেবার ভিত্তিতে বেতন পেয়ে আসছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে সভাপতির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষোভ থেকেই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
ঘটনার সময় সমাজকল্যাণ বিভাগে ইফতার মাহফিল চলছিল। বিকেল ৪টার দিকে সভাপতির কক্ষ থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীও কক্ষের সামনে উপস্থিত হন।
পরে শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যরা দরজা ভেঙে প্রবেশ করেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় আসমা সাদিয়ার দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ফজলুরকে নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও আনসার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি এবং ইবি থানাকে খবর দেন। তারা দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শিক্ষিকার অবস্থা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সংকটাপন্ন ছিল। পরে ইসিজি পরীক্ষায় নিশ্চিত হন তিনি মারা গেছেন।
গলায়, হাতে এবং পায়ে অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এদিকে, আহত ফজলুরের শ্বাসনালি কেটে গেছে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসকরা।
ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, অপরজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন