ঢাকা, মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৬ রমজান ১৪৪৭

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২, ০৬ রমজান ১৪৪৭

‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার ঘোষণা’
সংগৃহীত ছবি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসিন রশীদ। তিনি বলেছেন, ‘ইউনূসের কর্মকাণ্ড শুধু সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তা রাষ্ট্রদ্রোহের পর্যায়ে পড়ে। বর্তমান সরকার পদক্ষেপ না নিলে আমি নিজেই আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্র’-এ অংশ নিয়ে মোহসিন রশীদ এসব কথা বলেন।

মোহসিন রশীদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হওয়ার পর রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ছিলেন। সেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না রাখা, নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাকে অবহিত না করা এবং সাংবিধানিক শিষ্টাচার উপেক্ষা করা গুরুতর লঙ্ঘন। এটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, ইটস ট্রিজন।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি।

তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো নথিতে সই করানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা না করলে রাষ্ট্রে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারত। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রতীক, তাকে যথাযথ সম্মান না দেখানো রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল।’

মোহসিন রশীদ বলেন, “একজন সাবেক উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতিকে ‘চোর’ বলেছিলেন—যার হাতে শপথ নিয়েছেন তাকেই চোর আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রেস উইং অপসারণ, বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের চেষ্টা—এসব ছিল রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড। এসব ঘটনার সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পৃক্ততা বা নীরব সমর্থন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি বা কমিশন গঠন করা উচিত।

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও তদন্ত দাবি করেন মোহসিন রশীদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কোনো খেলার বিষয় নয়; রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা দরকার।

সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি আদালতে গিয়েছেন এবং রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করেছেন।

রায় হাতে পেলে তিনি রিভিউ করবেন। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অবৈধ বা অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

মোহসিন রশীদ বলেন, ‘সরকার যদি কোনো ইনকোয়ারি কমিটি গঠন না করে, তবে তিনি নিজেই নোটিশ দিয়ে মামলার উদ্যোগ নেবেন এবং ইউনূসকে পক্ষভুক্ত করবেন। আগেও করেছি, আবারও করব।’

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

রাষ্ট্রপতির ক্রোড়পত্রের বাণী নিয়ে কারা মিথ্যাচার করছে?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
রাষ্ট্রপতির ক্রোড়পত্রের বাণী নিয়ে কারা মিথ্যাচার করছে?
নাদিম মাহমুদ।

কালের কণ্ঠে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সাক্ষাৎকার নিয়ে দেশব্যাপী চলছে আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী প্রকাশ করতে দেয়নি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংকে অকার্যকর করে দিয়ে কোনো প্রেস রিলিজও দিতে দেওয়া হয়নি।

তার এমন বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে একটি মহল মিথ্যাচার শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ। সমালোচকদের দাবি, রাষ্ট্রপতি সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বলেছেন।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সত্যতার প্রমাণসহ নিজের ফেসবুক পেজে আলোচনা করেছেন নাদিম মাহমুদ।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ক্রোড়পত্রের বাণী নিয়ে হৈচৈ পড়ে গিয়েছে।

ফ্যাক্ট চেকাররাও দেখানোর চেষ্টা করেছে, রাষ্ট্রপতির বাণী ছাপা হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রপতি কালের কণ্ঠের সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বলেছেন। এই ধরনের ফ্যাক্ট চেকিং সত্যি পীড়াদায়ক। সত্যকে সত্য বলার শক্তি না থাকলে সেটি একপক্ষীয় হয়ে যায়।’

নাদিম মাহমুদ বলেন, “রাষ্ট্রপতির বাণী ক্রোড়পত্রে অবশ্যই এসেছে, বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসগুলোতে রাখা হয়েছে।

কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, যে দিবস উপলক্ষে ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির বাণীর পাশে প্রধান উপদেষ্টার বাণী এসেছে, ২০২৫ সালের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠাবাষির্কী/দিবসগুলোতে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে ‘রাষ্ট্রপতির’ বাণীকে একবারে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই যে ধরুন, একুশে ফেব্রুয়ারির কথা। ২০২৫ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে কেবলই অধ্যাপক ইউনূসের বাণী ছিল, সেখানে রাষ্ট্রপতির বাণীর প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করেননি। কিন্তু ২০২৬ সালে নতুন সরকার ঠিকই রাষ্ট্রপতির বাণী একুশে ফেব্রুয়ারিতে এনেছে। আবার ধরুন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে দুই জনের বাণীই ছিল, কিন্তু ২০২৫-এ রাষ্ট্রপতির বাণী নাই করে দেওয়া হয়েছে।

১ নভেম্বর পালিত জাতীয় যুব/সমবায় দিবসের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির বাণী রাখা হয়েছিল, কিন্তু ২০২৫ তাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর আন্তজার্তিক অভিবাসী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী ছিল, কিন্তু ২০২৫ সালে কেবল প্রধান উপদেষ্টার বাণী রাখা হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবসের ক্রোড়পত্র ২০২৪ রাষ্ট্রপতির বাণী রাখা হলেও ২০২৫-এ রাখা হয়নি। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৪ রাষ্ট্রপতির বাণীর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও ২০২৫ সালে রাখা হয়নি।’

একই ধরনের কাজ হয়েছে, ‘২০২৫ সালের ৭৭তম আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসে যেখানে অধ্যাপক ইউনূসের বাণীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

নাদিম বলেন, ‘সরকারি এসব দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বাণীকে উপেক্ষা করে নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে অধ্যাপক ইউনূসের বাণীকে ছাপানো হয়েছে। এই ধরনের উদাহরণ অহরহ রয়েছে।’

৪২৫৩

নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, ২০২৪ সালে যেসব দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী ছাপাতে পারলে, ২০২৫ সালের বেশির ভাগ দিবস ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতির বাণী প্রকাশ করতে দেয়নি?’

‘এইসব প্রশ্নের উত্তর একদিন আরো স্পষ্ট হবে। আপাতত যারা রাষ্ট্রপতির পদটিকে ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বিষয় ধরে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন, তাদের  কাছে মুক্তিযুদ্ধের রক্তে কেনা সংবিধান কাজের নয়। তাদের সমালোচনা কখনোই শেষ হবে না, যতদিন আর একটি বিপ্লব করে, বাংলাদেশকে জনাঙ্ক্ষার সংবিধান রচিত হয়।’

মন্তব্য

চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি, রাশেদ খান বললেন ‘সঠিক’

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি, রাশেদ খান বললেন ‘সঠিক’
সংগৃহীত ছবি

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়ে রাশেদ খান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যা বলেছেন তা অসত্য নয়, সত্য।

রাশেদ খান বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি আন্তরিক মানুষ। তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, অসত্য বলেননি, চাপে ছিলেন।

যে ঘটনাগুলো তিনি বর্ণনা করেছেন, এগুলো অসত্য নয়, এগুলো সত্য। আমি বিভিন্ন সময় এভাবে কথাবার্তা বলেছি। হয়তো আমার কথাবার্তা রাষ্ট্রপতি খেয়াল করেছেন, তার ভালো লেগেছে। সরকার তো তাকে চাপের মধ্যে রেখেছে, এটা তো সত্য।

তিনি আরো বলেছেন, “বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর জন্য বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছিল, তবে আমি ওই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অনেকগুলো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছি। বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। নুরুল হক নুরের কাছে একটি অনুষ্ঠানে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে নুরুল হক নুর গিয়েছিলেন, আমি যাইনি।

তখন তিনি নুরুল হক নুরের কাছে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘রাশেদ আসেনি?’—এটা একটি ঘটনা।”

আরেকটি ঘটনা হলো, সবার স্মরণসভায় আমরা যখন শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাই, তখন তিনি সবার সামনে আমাকে ডেকে বলেন, ‘কী খবর রাশেদ?’ অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু আমার নামটাই তিনি আলাদা করে ডাকলেন। তিনি যেহেতু এভাবে খোঁজখবর রাখেন, আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি আমাকে ভালোবাসেন।

রাশেদ খান বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে সরানোর আন্দোলনের সময় আমি বলেছিলাম, যার হাতে আপনি শপথ নিলেন, শপথ নেওয়ার আগে বলতেন তাকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু শপথ নিয়ে ফেলেছেন, ক্ষমতাকে বৈধ করে ফেলেছেন।

এখন বলছেন তাকে ভালো লাগে না, এটা তো হয় না। আপনি যে সংবিধান মেনে শপথ নিয়েছেন, সেই সংবিধানও মানতে হবে। তাকে বাদ দিতে পারবেন না, সংবিধানকেও বাদ দিতে পারবেন না। যদি বিপ্লবী সরকার করতেন, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতো। ভুল তো আপনারাই করেছেন, সেই ভুলের খেসারত রাষ্ট্রপতি দেবেন না, সংবিধানও দেবে না।’

তিনি  আরো বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক হবেই। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর তাকে নিয়ে খুব বেশি বিতর্কের সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি ভেতরের অনেক কিছু জানি। তিনি কখনোই নিজ থেকে কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেননি। এক ধরনের অসহায়ত্বের মধ্যে ছিলেন, এটা সত্য। তাকে দিয়ে কিছু করতে দেওয়া হয়নি, এটাও সত্য।’

রাশেদ খান বলেছেন, ‘সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো, তিনি তিনজন ব্যক্তিকে তিনটি সরকারে শপথ পড়িয়েছেন। একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় কিছু আর কী হতে পারে? তার যে অভিযোগ-অনুযোগ আছে যেহেতু তিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন, পরে চাকরি করেছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তারপরও গণ-অভ্যুত্থানের পর যে শূন্যতার মধ্যে তিনি দায়িত্ব সামলেছেন, কিংবা কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেননি, এ জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলো অসত্য নয়। ঘটনাগুলো তো ঘটেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে চাপের মধ্যে রেখেছিল, এটাও সত্য। সেই আক্ষেপ থেকেই তিনি সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেছেন। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেদিকে আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। বাংলাদেশের পরিবর্তনে আমাদের কাজ করতে হবে, যাতে আগামীতে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, যে পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের বিদায় ঘটে এবং রাষ্ট্রপতি চাপে থাকেন।’

মন্তব্য

রাষ্ট্রপতি দিনের পর দিন অপমানিত হয়েছেন : গোলাম মাওলা রনি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
রাষ্ট্রপতি দিনের পর দিন অপমানিত হয়েছেন : গোলাম মাওলা রনি
সংগৃহীত ছবি

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ‘গত ১৭-১৮ মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদ ও বঙ্গভবনকে যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা জাতির জন্য অপমানজনক। রাষ্ট্রপতিকে ব্যক্তি হিসেবে না দেখে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই সময়ে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠান ও প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় বারবার ব্যত্যয় ঘটেছে।’

রনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি হলেও তাকে অপমান করার অর্থ রাষ্ট্র এবং ১৮ কোটি নাগরিককে অপমান করা।

এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক আস্থার জায়গাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রটোকল অনুসরণে ঘাটতি ছিল। রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান ব্যক্তি; প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রীকে তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে কাজ করা এবং বিদেশ সফর শেষে সাক্ষাৎ করতে হয়।

এসব প্রথা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

রনি দাবি করেন, ‘বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র পেশ, শপথ অনুষ্ঠান কিংবা প্রেসিডেনশিয়াল গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) গার্ড অব অনারের মতো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের প্রচার-প্রকাশ কম হয়েছে।’ এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা গেছে বলে তার অভিমত।

কাতার সরকারের একটি চিঠি রাষ্ট্রপতির কাছে না পৌঁছানো এবং তার অজ্ঞাতে জবাব দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে রনি বলেন, ‘যদি এ ধরনের ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তবে তা গুরুতর অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

রনি মনে করেন, ‘রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন; তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এ পদকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্কতা, প্রটোকল মেনে চলা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।’

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
মঞ্জুরুল আলম পান্না

ড. ইউনূসের সেই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ৯ হাজার কোটি টাকার নয়ছয়!

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ড. ইউনূসের সেই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ৯ হাজার কোটি টাকার নয়ছয়!
সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেছেন, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হলে শুরু থেকেই জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। কেন তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো এ নিয়ে বিস্ময় ও আলোচনা ছিল ব্যাপক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলোর পেছনে বিভিন্ন অভিযোগ এখন সামনে আসতে শুরু করেছে।’

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ‘চ্যানেল মানচিত্র’-এ এসব কথা বলেন মঞ্জুরুল আলম পান্না।

মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, ‘নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নসংক্রান্ত একটি প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ৯ হাজার কোটি টাকার নয়-ছয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি কম্পিউটারের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যেখানে বাজারে ভালো মানের একটি কম্পিউটারের মূল্য সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। অথচ প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ের জন্য প্রায় ১৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয় বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) উপস্থাপনের সময় দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘নূরজাহান বেগমের তত্ত্বাবধানে নিয়োগ, বদলি, পরামর্শক নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি, তবু বিষয়গুলো জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও শুল্কসংক্রান্ত চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বলেছেন, এসব চুক্তি ও আর্থিক সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীত ও বর্তমান সব সময়ের অভিযোগই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা উচিত।

হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে।

তাই জনস্বার্থে একটি স্বাধীন তদন্ত টিম গঠন করে বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন এমন মত দিচ্ছেন অনেকেই।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ