নারীর নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র এবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। আত্মহত্যা করা এক নারীর মরদেহ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে সেখানে।অবিশ্বাস্য এই অপরাধে জড়িত মরদেহ পরিবহনকারী এক যুবক, যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও গ্রহণ করেছে আদালত।
১৯ অক্টোবর রাতে ময়মনসিংহের এক নারী আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিঠি লিখে গিয়েছিলেন “আমায় তোমরা ক্ষমা করে দিও। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার দুর্ভাগ্য। আমাকে কবর দেওয়ার পর চারদিকে সুন্দর করে বেড়া দিও, যেন কুকুরও ঢুকতে না পারে।”
চিঠির এই আবেগঘন লাইনগুলোর আড়ালে যে এমন এক *অমানবিক ঘটনা* লুকিয়ে ছিল, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
২০ অক্টোবর মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যান সাঈদ নামের এক যুবক।
পরের দিন পোস্টমর্টেমের সময় ফরেনসিক চিকিৎসকের সন্দেহ হয়।
চিকিৎসক জানান, “ডেড বডির সঙ্গে যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।”
পরে খবর দেয়া হয় পুলিশকে, এবং তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য—*মরদেহ পরিবহনকারী যুবক সাঈদই মর্গে ঢুকে মৃত নারীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করে।*
হাসপাতালের এক কর্মী জানান, “দুপুর একটা থেকে দেড়টার মধ্যে মর্গে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে সাঈদ প্রথমে ঢুকে বেরিয়ে যায়, পরে আবার ফিরে এসে মৃতদেহের সঙ্গে যৌনকর্ম করে।”
এই ভয়ঙ্কর অপরাধ সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের অপরাধ মানসিক বিকারের চরম রূপ।
একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “এটা এক ধরনের সেক্সুয়াল পারভারশন, যার নাম ‘নেক্রোফিলিয়া’। ‘নেক্রো’ মানে মৃতদেহ, আর ‘ফিলিয়া’ মানে আকর্ষণ। এরা সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর ও বিপদজনক।”
অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এমন জঘন্য অপরাধ সম্ভব হয়েছে।
একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “এখানে শুধু নারীর লাশ নয়, পুরুষের লাশও নিরাপদ নয়। বহুবার দেখা গেছে, মর্গে লাশগুলো যথাযথ নিরাপত্তায় থাকে না।”
ঘটনার পরপরই পুলিশ সাঈদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
এই ঘটনার পর হতবাক সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সবাই একবাক্যে বলছেন— “মৃত মানুষের সঙ্গেও এমন পাশবিক অপরাধ—এটি কেবল আইন দিয়ে নয়, নৈতিকতার চরম পতনের দৃষ্টান্ত। এমন অপরাধীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
ছামিয়া