দেশের বর্ষীয়ান অভিনেতা আহমেদ শরীফ। প্রায় আট শতাধিক বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। খলনায়ক হিসেবে সফল হলেও অনেক চলচ্চিত্রে ভিন্ন চরিত্রেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। এখন তিনি অভিনয় থেকে দূরে।
তবে মাঝেমধ্যে কথা বলেন সিনেমাসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে।
ঢাকাই সিনেমার চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে খলনায়ক হিসেবে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন এই অভিনেতা। ১৯৭২ সালে সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমা দিয়ে অভিষেক ঘটে এই অভিনেতার। এরপর তিনি একটানা ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রায় আট শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
তবে খলনায়ক হিসেবে ১৯৭৬ সালে তিনি প্রথম অভিনয় করেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় ‘বন্দুক’ ছবিতে। এ ছবিটি সুপারডুপার হিট হয়।
আরো পড়ুন
মিথিলা নয়, সুস্মিতাকেই সৃজিতের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে সবখানে
আহমেদ শরীফ কৈশোরে মঞ্চে অভিনয় করতেন। কিন্তু চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দায় অভিনয়ের কথা কখনো কল্পনাও করেননি।
শিবলী সাদিকের কথায় সুভাষ দত্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আহমেদ শরীফের জীবন বদলে যায় সিনেমার কাহিনির মতোই।
আহমেদ শরীফ একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘গাঙচিল’ তার ক্যারিয়ারের সেরা ছবি। এ ছবিতে তার অভিনয়, লুক, ব্যক্তিত্বের মধ্যে একটা অন্যরকম ব্যাপার ছিল। সমুদ্রের নাবিক ও অন্যান্য জনজীবনের মাঝে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ছবির গল্প।
আহমেদ শরীফের বাবার কুষ্টিয়ায় একটি সিনেমা হল ছিল।
এ কারণে অনেক সময় ঢাকা থেকে সিনেমার ফিল্ম নিয়ে তাকে যাওয়া-আসা করতে হতো। সেই সূত্রেই তার শিবলী সাদিকের সঙ্গে পরিচয় ছিল। শিবলী সাদিকই তাকে সুভাষ দত্তের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি আহমেদ শরীফ টেলিভিশনের জন্য কিছু নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে প্রথম নির্মাণ করেন টেলিফিল্ম ‘ক্ষণিক বসন্ত’। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য তিনি নির্মাণ করেন নাটক ‘ফুল ফুটে ফুল ঝরে’। দীর্ঘ আট বছর পর নাদের খানের প্রযোজনা ও রচনায় হাস্যরসাত্মক গল্পের এ নাটকের নাম ‘মাইরের ওপর ওষুধ নাই’।
আরো পড়ুন
বান্ধবীর স্বামীকে বিয়ে করে আফসোস করছেন হনসিকা
১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি প্রতিষ্ঠার সময়ে প্রথম সাধারণ সম্পাদক, এরপর আরও দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং চার মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আহমেদ শরীফ ১৯৪২ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। আজ এই শক্তিমান অভিনেতার জন্মদিন।