বন্যার পানি দেখতে মানুষের ভিড়

আবদুল্লাহ আল মারুফ, কুমিল্লা
২১ আগস্ট ২০২৪, ২২:৫৯আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ১১:৪৩

ভারত থেকে আসা পানি আর টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে কুমিল্লার গোমতীর নদীর পানি। এতে গোমতীর আশপাশের এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢুকে ঘর ছাড়া কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু গোমতীর পালপাড়া, চাঁনপুর টিক্কারচর ব্রিজসহ গোমতীর বেড়িবাঁধ এলাকায় গেলে তা বোঝার উপায় নেই। সেখানে মানুষের বন্যা ও বৃষ্টি দেখতে আসা মানুষের ভিড়। একদিকে আর্তনাদ অন্যদিকে উৎসবের আমেজ। উৎসুক জনতার ভিড়ে যেন পিকনিক স্পটে রূপ নিয়েছে গোমতীর পাড়।

জানা গেছে, বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোমতীর পানি বিপদসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গোমতীর সদর উপজেলার পাঁচথুবি ও আমড়াতলী ইউনিয়নের জনসাধারণকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়।

comilla-flood22

এদিকে সব প্রাইমারি, হাই স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু গোমতীর পালপাড়া ও টিক্কারচর ব্রিজসহ আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই উৎসুক জনতার ভিড় দেখা গেছে। অনেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও রিকশা নিয়ে আসছেন ঘুরতে। সেলফি ও ছবিতে মেতে উঠেছেন। বিনোদনের স্বাদ আরও বাড়াতে এসেছে স্ট্রিট ফুডের দোকান ও হকাররা। 

এর দুই কিলোমিটার দূরেই জালুয়াপাড়া গ্রাম। গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের এলাকার সঙ্গে এটিও প্লাবিত হয়েছে। সবজির জমি ডুবে গেছে। ডুবু ডুবু পানিতে সবজি ভাসিয়ে আনছেন আবুল বাশার নামের এক কৃষক। তিনি বলেন, আমাদের লাখ টাকার সবজি শেষ। সব পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা সাঁতরে সাঁতরে গিয়ে এগুলো আনি। মানুষ আসে আমাদের ছবি ভিডিও করতে। এগুলা দেখে কষ্ট হয়। 

comilla-flood44

মাঝি গাছা বাগানবাড়ির শেফালি বেগম নামের একজন বলেন, কিছুই সরাতে পারিনি। সবই ভেসে গেছে। ঘরে তালা দিয়ে রাখছিলাম। ভাবছিলাম যাবে না। ঘরটাও পানিতে ভাসতেছে। মানুষ শুধু দেখতে আসে। কেউ সহযোগিতা করতে আসে না। তবে সকাল থেকে কয়েকটা ছেলেকে দেখলাম কাজ করছে। তারা আমাদের কিছু জিনিসপত্রও এনে দিয়েছিল। শুনছি তারা ছাত্র। এখানে কাজ করতে এসেছে।

ক্যান্টনমেন্ট বাংলাবাজার থেকে আসা কবির হোসেন বলেন, চাঁনপুরের পানি বাড়িতে পানি ঢুকেছে। সেখানে গিয়ে ছেলে মেয়েদের অন্য জায়গায় শিফট করে দিয়ে আসছিলাম। এখন চাঁনপুর ব্রিজের কাছে আসলাম দেখতে। পানি বেড়েছে। অনেকেই দেখতে আসছেন। অনেকে ছবি ভিডিও তুলে ফেসবুকেও দিচ্ছেন। 

comilla-flood33

শহর থেকে ঘুরতে যাওয়া তানভির ইসলাম বলেন, বন্যা দেখতে এলাম। বৃষ্টি এনজয় (উপভোগ) করার বিষয় আছে। তবে এটা সত্যি যে বন্যায় অনেকের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। অনেকে এসেছেন সহযোগিতা করতে। আমরা ঘুরতে এসেছি। সুযোগ পেলে সহযোগিতা করবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, গোমতীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা দেখেছি গোমতীর পানি বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

/এফআর/
টাইমলাইন: বন্যা ও মানবিক বিপর্যয়
২১ আগস্ট ২০২৪, ২২:৫৯
বন্যার পানি দেখতে মানুষের ভিড়
সম্পর্কিত
বন্যাকবলিত এলাকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৮ নির্দেশনা
বন্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান উপদেষ্টা নাহিদের
কুমিল্লায় বন্যায় চার মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
ফাইল ছবি
বন্যাকবলিত এলাকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের ৮ নির্দেশনা
আইসিটি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম (ফাইল ফটো)
বন্যা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান উপদেষ্টা নাহিদের
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ভবনে ইসরায়েলি হামলা। ছবি: ইপিএ।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আইডিএফে’র ব্যাপক হামলা শুরু
ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে কুমিল্লা
কুমিল্লায় বন্যায় চার মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন
পদত্যাগ করে উপাচার্য বললেন ‘শিক্ষার্থীরা যা করছে সেটা গ্রহণযোগ্য না’
টিএসআই রফিকুল ইসলাম
আরও এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ
সকাল থেকেই বাড়ছে পানি (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন)
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে হাঁটুপানি, বন্ধ যোগাযোগ
দোকানপাট ডুবে গেছে
মৌলভীবাজার শহররক্ষা বাঁধ উপচে প্রবেশ করছে পানি
মেরিন ড্রাইভে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলের কেনা জমি।
মেরিন ড্রাইভে ২০ কানি জমি কিনেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে

কুমিল্লায় বন্যায় চার মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৪, ১৭:৩৫ আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ১৭:৩৫

কুমিল্লায় বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে দুই দিনে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে বুধবার তিন জন এবং সোমবার একজন মারা গেছেন।

বুধবার (২১ আগস্ট) জেলার নাঙ্গলকোটে বন্যার পানিতে তলিয়ে কেরামত আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। এদিন রাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি পৌরসভার দাউদপুর এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, মধ্যরাতে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় একটি ব্রিজের নিচে তলিয়ে যান কেরামত। প্রবল স্রোতে অদৃশ্য হয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছু সময় পর ঘটনাস্থলের অদূরে তার লাশ ভেসে ওঠে। সবাই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেব দাস দেব বলেন, ‘কেরামত আলীকে রাত ১২টার দিকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পরিবার তার লাশ নিয়ে যায়। তিনি মাছ ধরতে গিয়ে পিছলে পড়ে স্রোতের কারণে আর উঠতে পারেননি বলে জানতে পেরেছি।’ 

একই দিন বিকালে বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যুতের পিলারের সঙ্গে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাফি (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। সে নগরীর ছোটরা এলাকার বাসিন্দা। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক যোবায়ের হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন সকালে চৌদ্দগ্রামে বন্যার পানিতে মাছ ধরার সময় গাছ পড়ে শাহাদাত হোসেন (৩৪) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। পৌরসভার সোনাকাটিয়া (আদর্শ গ্রাম) পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার সোনাকাটিয়া গ্রামের কানু মিয়ার ছেলে।

এর আগে, সোমবার সোহরাব হোসেন সোহাগ নামে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন বিকালে কুমিল্লা নগরীর সালাউদ্দিন মোড়ে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেখে বের হলে বৃষ্টির পানিতে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যান তিনি।

 

/এমএএ/

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ২০ স্থানে পাহাড়ধস

রাঙামাটি প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২৪, ১৬:৩৬ আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ১৬:৩৬

টানা বর্ষণে রাঙামাটির ২০টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেশ কিছু জায়গায় পাহাড়ধসে প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। সড়ক বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে যান চলাচল সচল করেন। তবে মহালছড়ি এলাকায় সড়কে পানি থাকায় বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আন্তজেলা যান চলাচল।

এদিকে, জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। কাউখালী উপজেলার ইছামতি ও কাউখালী খালে পানি বেড়ে ডুবে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি ঘর।

Rangamati PIc (3)সড়কে পাহাড়ধস বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার বলেন, ‘উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে। সেগুলোতে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক হাজার ৬৫৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।’

পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে শহরের শিমুলতলী, রূপনগরসহ বেশ কিছু এলাকায় মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন জানান, জেলায় ছোট-বড় কয়েকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি সদরে পাহাড়ধসে ঝুঁকিতে আছে এক হাজার ৩৬৬ মানুষ। প্রাণহানি এড়াতে জেলায় ৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

/এমএএ/

বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার পোশাকশ্রমিক: ৪ আসামির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
২২ আগস্ট ২০২৪, ১৬:১১ আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৪, ১৬:১১

চট্টগ্রামে এক পোশাকশ্রমিককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. ওসমান গনি এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন ওবায়দুল হক প্রকাশ রাজিব, ইয়াসিন আরাফাত, ছোটন বিশ্বাস সেতু ও মো. মহিউদ্দিন বাবু।

আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হামিদুর রহমান আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে আদালত এ মামলায় সাত জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুক্তভোগী নগরীর সিইপিজেডের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে অপারেটর পদে কাজ করতেন। একই ফ্যাক্টরিতে কর্মরত এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ ছুটির দিনে নগরীর বন্দর থানাধীন আকমল আলী রোড বেড়িবাঁধে বেড়াতে যান। তারা বেড়িবাঁধের স্লুইসগেটের পাশে মহাশরিফের খামারবাড়িতে বসে গল্প করা অবস্থায় ৬ জন লোক তাদের ঘিরে ফেলে। এর মধ্যে ছেলে বন্ধুকে আটকে রেখে ভুক্তভোগীকে তিন জন মিলে ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগীসহ বন্ধুর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ দুজনকে আটক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নগরীর বন্দর থানায় মামলা করেন।

/কেএইচটি/
 
১ / ০