আজিজুর রহমান একজন মুদি দোকানি। খুলনায় তার দোকানে চাল, আটা, বিস্কুটসহ টুকিটাকি জিনিস বিক্রি করেন। তার ছোট ছেলে সাকিব রায়হান (২২) চাকরির খোঁজে ঢাকা গিয়েছিলেন। সামনের মাসেই চাকরি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে গুলিতে নিহত হন সাকিব। ছেলে হারানোর শোকে স্তব্ধ আজিজুর।
আজিজুর জানান, মিরপুরে সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। হঠাৎ গুলির আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে সাকিব। ধরাধরি করে তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই মারা যায় সাকিব।
তিনি আরও বললেন, ছেলে সাকিব দুই মাস আগে ঢাকায় যায় চাকরির খোঁজে। একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি হয়েছিল। পরে সেখান থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরির চেষ্টা করে।
ঢাকায় সাকিবের মৃত্যুর খবর মোবাইল ফোনে জানতে পারেন খুলনার সোনাডাঙ্গা নবপল্লিতে বসবাসরত বাবা আজিজুর রহমান।
তার বড় ছেলে সাব্বির রায়হান ঢাকায় অনলাইনে ছোটখাটো ব্যবসা করেন। তিনি ফোনে এ ঘটনা বড় ছেলেকে জানালে ১৯ জুলাই সাকিবের লাশ নিয়ে খুলনায় আসেন। ২০ জুলাই বসুপাড়া কবরস্থানে সাকিবের লাশ দাফন করা হয়।
তিন ভাই-বোনের মধ্যে সাকিব সবার ছোট। আদরের ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের কেউ। ডুকরে কেঁদে উঠছেন মা নুরুন্নাহার।
জানা গেছে, সাকিবের বাবা আজিজুর রহমান ঢাকায় কাপড়ের ব্যবসা করতেন। পুরো পরিবার নিয়ে সেখানেই থাকতেন। কিন্তু করোনায় ব্যবসায় লোকসানে পড়লে সবাইকে নিয়ে খুলনার নবপল্লিতে চলে আসেন। এখানে গোলপাতার জরাজীর্ণ দোচালা ঘরে থাকেন। বাড়ির সামনে একটি ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে মুদি দোকান খুলেছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে কোনোমতে সামলান দোকানটি। কিন্তু পরিবারের দুর্দশা সহ্য করতে পারেননি সাকিব। তাই চাকরির খোঁজে আবার ফিরে যান ঢাকায়। এখন সাকিবকে হারিয়ে পুরো পরিবারটিকে হতাশা ঘিরে ধরেছে।
বাবা আজিজুর রহমান বলেন, ‘মাত্র এক সপ্তাহ আগে ছেলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়। বলেছিল সামনের মাসেই একটা চাকরি হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবারের দুর্দশা সহ্য করতে না পেরে ঢাকায় গিয়েছিল চাকরির খোঁজে। আর সেখানেই লাশ হতে হলো আমার ছেলেকে। সন্তানকে হারানোর কী যন্ত্রণা তা কাকে বলব! যিনি বাবা হয়েছেন তিনিই শুধু জানেন সন্তান হারানোর কী যন্ত্রণা।’