কালের কণ্ঠ : যুক্তরাষ্ট্র তো মনে করে, অন্য দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার অধিকার তার আছে।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে সে দুনিয়ার মাতবর।
কালের কণ্ঠ : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় ভারতের কী সমস্যা হচ্ছে?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিষয়। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক করছে। ভারতের সঙ্গে হাত মেলানোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ থাকে। সেখানে আমাদেরও স্বার্থ আছে। এটি অন্য বিষয়।
অনেক সময়ই ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয় স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় আসে। সাংগ্রিলা, কোয়াড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমারসহ এমন অনেক বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের একটি বিশেষ অবস্থান আছে, এটিও তো সবাইকে স্বীকার করতে হবে। ভারত আর বাংলাদেশের বাণিজ্য, লোকজনের চলাচল, ঘনিষ্ঠতা, বন্ধুত্ব—এটাকে বিরক্ত করা কেন? আমরা তো স্বাভাবিকভাবে এর বিরুদ্ধে যাবই। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যেন বাধা দেওয়া না হয় সেটিই আমাদের চাওয়া।
কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাহলে ভারতের অবস্থান কী দাঁড়াল?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : নির্বাচনে কী হবে, না হবে সেটি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
কালের কণ্ঠ : ভারতের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে নিচ্ছে? অথবা এই আলোচনার কী প্রভাব পড়তে পারে বলে আপনারা মনে করছেন?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অঙ্গ হলো গণতন্ত্র, মানবাধিকারের মতো বিষয়। তাদের ওখানে কিছু লবিস্ট, রাজনীতিবিদ আছেন; তাঁরা তো ভারতের মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়েও কথা বলেন। আমরা সেগুলোকে তোয়াক্কা করি না। তাঁরা বলতে থাকুন। তাতে আমাদের কিছু আসে-যায় না। এটাই আমাদের অবস্থান।
কালের কণ্ঠ : নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে আপনারা বাংলাদেশ পরিস্থিতি দেখছেন। ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে হঠাৎ এত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল কেন?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যে পরিবর্তন ঘটছে, তার প্রেক্ষাপটে এমনটা হতে পারে। আমি ঠিক জানি না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতির প্রেক্ষাপটে এটা হতে পারে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা যে বেড়ে গেছে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে।
কালের কণ্ঠ : চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান যে সম্পর্ক, তা নিয়ে সম্ভবত ভারতেরও উদ্বেগ আছে।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ভালো আলাপ-আলোচনা হয়। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার সঙ্গে আমাদের ভালো বোঝাপড়া আছে।
কালের কণ্ঠ : এই বোঝাপড়াটা কী?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : দেখুন, বাংলাদেশের যে উন্নয়ন প্রত্যাশা, তা আমরা কিন্তু স্বীকার করি। আমরাও বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করি। এ জন্য আমরা ঋণ, অনুদান—এগুলোর ব্যবস্থা করেছি। এগুলো চীনও করে। আবার চীনের একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক লক্ষ্য আছে। সেটি হলো ভারতকে কোণঠাসা করা। সেটি নিয়েই আমাদের চিন্তা।
কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের কোনো প্রত্যাশা আছে?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। বাংলাদেশিরাই নির্বাচন করবে। তারা নিজেরা আলাপ-আলোচনা, বিতর্ক-সমঝোতা করবে। কিন্তু কে জিতবে আর কে হারবে সেখানে আমাদের কিছু বলার নেই। বাংলাদেশে যে সরকারই থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে আমরা তো সব সময় সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছি। সেই চেষ্টার বিপরীতে সব সময় হয়তো সেভাবে ভারত সাড়া পায়নি বা বাংলাদেশ থেকে আগ্রহ দেখেনি। তবে আমরা মনে করি, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে।
কালের কণ্ঠ : সুসম্পর্ক গড়তে ভারতের চেষ্টার বিপরীতে শেখ হাসিনার সরকারের সাড়া দেওয়ার প্রবণতা কি ইতিবাচক ছিল?
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : এটি তো বাস্তবতা। এটি তো সবাই দেখছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নতি, পদ্মা নদীতে সেতু—সার্বিক উন্নয়নই তো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বেড়ে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়ে গেছে। এসব কখনো কেউ চিন্তা করতে পেরেছে?
বাংলাদেশ-ভারত যোগাযোগ অনেক বেড়েছে। রেলসহ সব দিকে সংযোগ বেড়েছে। দুই দেশের লোকজনের আসা-যাওয়া বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার জন্য আসা-যাওয়া করছে। চিকিৎসা-পর্যটন হচ্ছে। এই সময়টাতে সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় উঠেছে এবং পরিপক্বও হয়েছে। এ বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
কালের কণ্ঠ : ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।