ঢাকা, মঙ্গলবার ১৩ আগস্ট ২০২৪
২৯ শ্রাবণ ১৪৩১, ০৭ সফর ১৪৪৬

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কে বাধা চায় না ভারত

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। এ নিয়ে দেশটির সঙ্গে কথা বলেছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, তারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এ বিষয়ে কালের কণ্ঠ কথা বলেছে নয়াদিল্লিভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিপস্ট্র্যাটের সহপ্রতিষ্ঠাতা, ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী এবং ওয়াশিংটনভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিকার্ড এম রসোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান
শেয়ার
ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কে বাধা চায় না ভারত
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ নিয়ে ভারত যে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই, তা কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনায় ছিল। দিল্লি গত শুক্রবার সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে তা সাধারণ মানুষের পর্যায়ে স্পষ্ট করেছে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ ওঠার প্রেক্ষাপট কী?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারত কথা বলেছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারত নিকটতম ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।

সেটাই ভারতের পররাষ্ট্রসচিব ব্রিফিংয়ে বলেছেন।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের সেই অবস্থানটা কী?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : ভারতের অবস্থান হলো, বাংলাদেশ নিয়ে এসব চাপ সৃষ্টি করা আমরা পছন্দ করছি না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করা আমরা পছন্দ করি না। অন্য কোনো দেশে হস্তক্ষেপকেও আমরা পছন্দ করি না।

কালের কণ্ঠ : বিশেষভাবে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ কেন এসেছে?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : আমরা কোথাও বাইরের হস্তক্ষেপ পছন্দ করি না। বাংলাদেশ তো বটেই। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বেশ ভালো। আমরা তো কিছু বলতে চাই না।

কারণ আমরা মনে করি, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সেখানে কী হবে, না হবে বাংলাদেশ বুঝবে। সেখানে বাইরের লোকদের মাথা গলানোর সুযোগ তো দেখছি না।

কালের কণ্ঠ : যুক্তরাষ্ট্র তো মনে করে, অন্য দেশের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার অধিকার তার আছে।

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে সে দুনিয়ার মাতবর।

কালের কণ্ঠ : যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় ভারতের কী সমস্যা হচ্ছে?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিষয়। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক করছে। ভারতের সঙ্গে হাত মেলানোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ থাকে। সেখানে আমাদেরও স্বার্থ আছে। এটি অন্য বিষয়।

অনেক সময়ই ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয় স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় আসে। সাংগ্রিলা, কোয়াড, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মিয়ানমারসহ এমন অনেক বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। কিন্তু বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের একটি বিশেষ অবস্থান আছে, এটিও তো সবাইকে স্বীকার করতে হবে। ভারত আর বাংলাদেশের বাণিজ্য, লোকজনের চলাচল, ঘনিষ্ঠতা, বন্ধুত্ব—এটাকে বিরক্ত করা কেন? আমরা তো স্বাভাবিকভাবে এর বিরুদ্ধে যাবই। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে যেন বাধা দেওয়া না হয় সেটিই আমাদের চাওয়া।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাহলে ভারতের অবস্থান কী দাঁড়াল?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : নির্বাচনে কী হবে, না হবে সেটি নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

কালের কণ্ঠ : ভারতের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে নিচ্ছে? অথবা এই আলোচনার কী প্রভাব পড়তে পারে বলে আপনারা মনে করছেন?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অঙ্গ হলো গণতন্ত্র, মানবাধিকারের মতো বিষয়। তাদের ওখানে কিছু লবিস্ট, রাজনীতিবিদ আছেন; তাঁরা তো ভারতের মানবাধিকার, গণতন্ত্র নিয়েও কথা বলেন। আমরা সেগুলোকে তোয়াক্কা করি না। তাঁরা বলতে থাকুন। তাতে আমাদের কিছু আসে-যায় না। এটাই আমাদের অবস্থান।

কালের কণ্ঠ : নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে আপনারা বাংলাদেশ পরিস্থিতি দেখছেন। ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে থেকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে হঠাৎ এত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল কেন?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যে পরিবর্তন ঘটছে, তার প্রেক্ষাপটে এমনটা হতে পারে। আমি ঠিক জানি না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নীতির প্রেক্ষাপটে এটা হতে পারে। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা যে বেড়ে গেছে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে।

কালের কণ্ঠ : চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান যে সম্পর্ক, তা নিয়ে সম্ভবত ভারতেরও উদ্বেগ আছে।

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ভালো আলাপ-আলোচনা হয়। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ঢাকার সঙ্গে আমাদের ভালো বোঝাপড়া আছে।

কালের কণ্ঠ : এই বোঝাপড়াটা কী?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : দেখুন, বাংলাদেশের যে উন্নয়ন প্রত্যাশা, তা আমরা কিন্তু স্বীকার করি। আমরাও বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করি। এ জন্য আমরা ঋণ, অনুদান—এগুলোর ব্যবস্থা করেছি। এগুলো চীনও করে। আবার চীনের একটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক লক্ষ্য আছে। সেটি হলো ভারতকে কোণঠাসা করা। সেটি নিয়েই আমাদের চিন্তা।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের কোনো প্রত্যাশা আছে?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। বাংলাদেশিরাই নির্বাচন করবে। তারা নিজেরা আলাপ-আলোচনা, বিতর্ক-সমঝোতা করবে। কিন্তু কে জিতবে আর কে হারবে সেখানে আমাদের কিছু বলার নেই। বাংলাদেশে যে সরকারই থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে আমরা তো সব সময় সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছি। সেই চেষ্টার বিপরীতে সব সময় হয়তো সেভাবে ভারত সাড়া পায়নি বা বাংলাদেশ থেকে আগ্রহ দেখেনি। তবে আমরা মনে করি, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে।

কালের কণ্ঠ : সুসম্পর্ক গড়তে ভারতের চেষ্টার বিপরীতে শেখ হাসিনার সরকারের সাড়া দেওয়ার প্রবণতা কি ইতিবাচক ছিল?

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : এটি তো বাস্তবতা। এটি তো সবাই দেখছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নতি, পদ্মা নদীতে সেতু—সার্বিক উন্নয়নই তো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বেড়ে ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়ে গেছে। এসব কখনো কেউ চিন্তা করতে পেরেছে?

বাংলাদেশ-ভারত যোগাযোগ অনেক বেড়েছে। রেলসহ সব দিকে সংযোগ বেড়েছে। দুই দেশের লোকজনের আসা-যাওয়া বেড়েছে। শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার জন্য আসা-যাওয়া করছে। চিকিৎসা-পর্যটন হচ্ছে। এই সময়টাতে সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় উঠেছে এবং পরিপক্বও হয়েছে। এ বিষয়টি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

কালের কণ্ঠ : ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

সরকারি হাসপাতাল: সেবাদানকারীর উপস্থিতি কমায় ভোগান্তি

শিমুল মাহমুদ
শিমুল মাহমুদ
শেয়ার
সরকারি হাসপাতাল: সেবাদানকারীর উপস্থিতি কমায় ভোগান্তি

গত এক সপ্তাহে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবাদানকারী কর্মীদের উপস্থিতি কমেছে ১৪ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে কর্মস্থলে যাচ্ছে মাত্র ৫২ শতাংশ। ৪৮ শতাংশ কোনো ধরনের ছুটি ছাড়াই হাসপাতালে যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালে অনুপস্থিতির হার ছিল গড়ে ৩৫ শতাংশ।

গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দৈনিক উপস্থিতি রিপোর্ট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। অনুপস্থিত থাকা কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও ওয়ার্ড বয়।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ স্থানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালগুলোতে দায়িত্বশীল চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা।

আরো পড়ুন
মন্দির, গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার তথ্য যেভাবে জানাবেন

মন্দির, গির্জাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার তথ্য যেভাবে জানাবেন

 

এমন পরিস্থিতির জন্য জরুরি খাত স্বাস্থ্যসেবাতেও দলীয় রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকার কারণে আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও চিকিৎসকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সংশ্লিষ্ট  বেশির ভাগ চিকিৎসকই বর্তমানে সামনে আসছেন না। নার্স, টেকনিশিয়ান ও ওয়ার্ড বয়দেরও একটা অংশ দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে তাঁরা কার্যালয়ে না আসায় অনুপস্থিতির হার বেড়েছে।

আরো পড়ুন
মাদক কারবার নিয়ে বিরোধে সিঙ্গাইরে সিএনজিচালককে কুপিয়ে হত্যা

মাদক কারবার নিয়ে বিরোধে সিঙ্গাইরে সিএনজিচালককে কুপিয়ে হত্যা

 

দেশের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ৯৩ হাজার ৮৩৪ জন ব্যক্তির প্রতিদিনের উপস্থিতির তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে থাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে দেখা গেছে, গত তিন দিনে গড়ে ৪৮.৪৫ শতাংশ অনুপস্থিত ছিলেন। গত ১১ আগস্ট দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ৫০ হাজার ৮৪৯ জন। ছুটিতে ছিলেন এক হাজার ৩৫ জন।

ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন ৪১ হাজার ৯৩২ জন, যা মোট জনবলের প্রায় অর্ধেক (৪৪.৬৮ শতাংশ)। আগের দিন ১০ আগস্ট অনুপস্থিত ছিলেন আরো বেশি, ৫৫.৬৪ শতাংশ। ৮ আগস্টের অনুপস্থিতির হার ৪৪.৯৯ শতাংশ।

আরো পড়ুন
রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মুদি দোকানীকে গলা কেটে হত্যা

রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মুদি দোকানীকে গলা কেটে হত্যা

 

গত জুলাই মাসের প্রথম তিন দিনে গড়ে অনুপস্থিত ছিলেন ৩১ হাজার কর্মী। এই সংখ্যা মোট লোকবলের ৩৪.৩৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু স্বাস্থ্য বিভাগ নয়, যেকোনো বিভাগের জন্য এমন অনুপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উচিত সব চিকিৎসক ও সেবাদানকারীর যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা নিশ্চিত করা। তাঁরা যেন অফিস সময়ের সম্পূর্ণটা মানুষের সেবাদানে যুক্ত থাকেন তা দেখা। বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক দলের প্রশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সুবিধা নেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন না। এ কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই চিত্র দূর করার সময় এসেছে এখন।’

আরো পড়ুন
বিশ্বে ১৫ বছরে বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন

বিশ্বে ১৫ বছরে বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন

 

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর ও পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. হারুন-অর-রশিদকে ফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের যথাযথ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শক্ত তদারকি দরকার। এ ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের আরো কঠোর হতে হবে। গাফিলতি করা কর্মীদের বিরুদ্ধে বিধিমত ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরো পড়ুন
পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পুলিশের গুলিতে নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

সংকটের এই সময়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে সচল করার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. আবু জামিল ফয়সাল। তিনি বলেন, যাঁরা নানা ভয়ে এখন চিকিৎসাসেবা দিতে আসতে পারছেন না কিভাবে তাঁদের শঙ্কা কাটানো যেতে পারে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিতে পারেন। এমনকি তাঁরা হাসপাতালের পরিচালনায়ও সহায়তা দিতে পারেন। সাম্প্রতিককালে অবসরপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তাঁদের যদি এখন অনুরোধ করা হয় কিছুটা সময় দেখভাল করার জন্য তাঁরা অনেকেই হয়তো অস্বীকার করবেন না। আশা করি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করার জন্য সবাই এগিয়ে আসবেন।

মন্তব্য

সরিয়ে দেওয়া হলো এসবি প্রধান মনিরুলকে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
সরিয়ে দেওয়া হলো এসবি প্রধান মনিরুলকে
ফাইল ছবি

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মো. মনিরুল ইসলামকে। তাকে পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
বিয়ের অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর কুয়ায় ডুবে নিহত ২

বিয়ের অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর কুয়ায় ডুবে নিহত ২

 

২০২১ সালের ১৪ মার্চ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রধান থেকে মনিরুলকে এসবি প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মনিরুল ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে এএসপি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। তিনি গোয়েন্দা শাখায় ৯ বছর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ ছাড়া তিনি সিটিটিসির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন।

আরো পড়ুন
কোটা আন্দোলনকালে ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে যা জানা গেল

কোটা আন্দোলনকালে ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে যা জানা গেল

 

মনিরুল ইসলামের আগে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া র‍্যাব মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনার, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধানকে সরিয়ে পুলিশ অধিদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য

কোটা আন্দোলনকালে ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে যা জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
কোটা আন্দোলনকালে ইন্টারনেট বন্ধ করা নিয়ে যা জানা গেল
প্রতীকী ছবি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন এবং পরে সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের সময় সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল সরকারি দুই সংস্থা। সংস্থা দুটি হলো- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। তাদের ওই সময়কার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সরাসরি ফোন কল করে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৭ জুলাই থেকে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনাগুলো দিতে থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা এনটিএমসি।

সেদিন রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে এনটিএমসি থেকে মোবাইল অপারেটরদের বলা হয়, তাদের আধেয় বা কনটেন্ট ‘ব্লকিং’ ও ‘ফিল্টারিং’ ডিভাইসের আওতার বাইরে থাকা ফেসবুক ও ইউটিউব রাত ১২টা থেকে বন্ধ করে দিতে হবে। এর দুই ঘণ্টার মাথায় এনটিএমসি সব মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেয়। 
এনটিএমসির মহাপরিচালক ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। তাকে গত ৬ আগস্ট সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও সরকারি সংস্থাগুলো ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেনি। তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছিলেন, ইন্টারনেট অবকাঠামোয় অগ্নিসংযোগের কথা।

জানা গেছে, ১৫ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে আরেক নির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও ইন্টারনেট বন্ধের জন্য বলা হয়।

পরদিন ১৬ জুলাই দুপুরের দিকে বিটিআরসির একই বিভাগ থেকে দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ আসে। এ নির্দেশের ক্ষেত্রে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের কথা বলা হয়। বিটিআরসি এ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির একজন কমিশনার জানিয়েছেন, ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হতো না।

সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ও আইটিসি সূত্রে জানা যায়, ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় বিটিআরসি ব্যান্ডউইথ বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আইটিসি কম্পানিগুলো লিখিত আদেশ চাইলে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। রাত ৯টার মধ্যে পুরো দেশ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া পর্যন্ত বিটিআরসি নজরদারি করতে থাকে। সাবমেরিন কোম্পানিকে তখনকার প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ নিজে ফোন কল করে ইন্টারনেট বন্ধের জন্য বলেন। ৫ আগস্টেও সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ও আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহম্মদ বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তারা ব্যান্ডউইথ বন্ধ করেছিলেন।

মন্তব্য

আইনে সবাই সমান, বিভক্ত না হয়ে এক থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
আইনে সবাই সমান, বিভক্ত না হয়ে এক থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সব সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবেন জানিয়ে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। এখানে বিভেদ করার সুযোগ নেই। তাই দেশের মানুষ হিসেবে অধিকার আদায়ে বিভক্ত না হয়ে সবাইকে এক থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় ধর্মীয় পরিচয় নয়, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা। 

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার অনুরোধ, আপনারা বিভিন্ন খোপে চলে যাবেন না। সবাইকে এক থাকতে হবে। আমাদের সাহায্য করেন, ধৈর্য ধরেন।

আমরা না পারলে দোষ দিয়েন।’ 

তিনি বলেন, ‘কোনো পার্থক্য করা বা বিভেদ করার বাংলাদেশ আমরা করতে চাই না। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাকে ঠিক করতে হবে। এগুলো পচে গেছে।

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার দিতে হবে।’

এ সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক ও বিগত দিনের সব সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার চান। তারা একটি পৃথক কমিশন গঠনের দাবি জানান।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ