ফেনীর একরামের খুনি আবিদ দুবাইয়ে সামলাচ্ছেন মতিউরের সাম্রাজ্য
আরো পড়ুন
ছাগলকাণ্ডে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান ও তার পরিবারের বিপুল সম্পত্তির তথ্য উঠে আসে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশেও মতিউরের সম্পদ রয়েছে। এবার জানা গেল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। দুবাইতে মতিউরের সম্পদ দেখভাল করেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া অন্যতম প্রধান আসামি। তার নাম আবিদুল ইসলাম ওরফে আবিদ। এই আবিদ আবার মতিউরের শ্যালক, অর্থাৎ দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মি আক্তার শিবুর ভাই। বাংলা আউটলুকের অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।
২০১৪ সালের ২০ মে প্রথমে গুলি করে এবং পরে কুপিয়ে ও গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান একরামুল হককে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তখন দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার পর একমুলের ভাই রেজাউল হক জসীম বিএনপি নেতা মিনারকে আসামি করে অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ফেনী থানায় হত্যা মামলা করেছিলেনন। প্রাথমিক অবস্থায় এই হত্যার ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে দায়ী করা হলেও, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ তদন্তে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে।
একই বছর পুলিশ এই মামলায় ৫৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করে। তাদের মধ্যে ৫৫ জন আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ছিলেন।
একরাম হত্যার ঘটনায় অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেন ফেনী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফেনী জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান লায়লা জেসমিন বড় মনির ছেলে আবিদুল ইসলাম ওরফে আবিদ। সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এমপি নিজাম হাজারীর মামাতো ভাই। হত্যার ঘটনা তদন্ত করে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, আবিদই প্রথমে একরাম চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
আবিদ ওই সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ২৪ মে একরামুল হত্যায় গ্রেপ্তার আবিদসহ আটজনকে উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। ওই সময় আবিদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজে একরামকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন।
পরবর্তীতে একরামুল হত্যায় দ্বিতীয় মূল আসামি হিসেবে আবিদকে শনাক্ত করা হয় এবং আদালতেও তা দাখিল হয়। তা সত্বেও ২০১৭ সালে বিচারকার্য চলাকালেই আবিদের জামিন মঞ্জুর হয়। জামিনে বের হয়ে ফেনী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে দুবাই। এ কাজে ফেনীর তৎকালীন পুলিশ সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালের ১৩ মার্চ একরামুল হত্যায় আবিদসহ ৩৯ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ। এই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা হাই কোর্টে আপিল করেছেন। এখনও শুনানির তারিখ আসেনি। আটকে রয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) শুনানিও।
পুলিশ বলছে, ৩৯ ফাঁসির আসামির মধ্যে ১৬ আসামির হদিস জানে না সংস্থাটি। এই ১৬ আসামির একজনই হলেন আবিদ। প্রশ্ন হলো, ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যতম মূল আসামি, নিজাম হাজারীর মামাতো ভাই আবিদ ফাঁসির আদেশ মাথায় নিয়ে কোথায় পালালেন?
এ প্রশ্নের উত্তর পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি, কারণ সাম্প্রতিক সময়ের বহুল আলোচিত-সমালোচিত এবং বিভিন্ন প্রশ্ন ও বেপরোয়া দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করা ছাগলকাণ্ডই খুনি আবিদকে সামনে নিয়ে আসে।
এনবিআর কর্মকর্তা মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মি আক্তার শিবুর ভাই এই আবিদ। সেই সূত্রে ছাগলকাণ্ডে জড়িত কিশোর মুশফিকুর রহমান ইফাতের মামা। ছাগলকাণ্ডের শুরুতে মতিউর ছেলে হিসেবে দ্বিতীয় সংসারের সন্তান ইফাতকে অস্বীকার করলে সংবাদমাধ্যমে নিজাম হাজারী জানান, ইফাত মতিউরেরই সন্তান এবং ইফাতের মা তার (নিজাম হাজারী) মামাতো বোন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবিদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনেকটা রাজার হালে বসবাস করছেন। পুলিশ তাকে খুঁজে না পেলেও ছাগলকাণ্ডের পর ব্যাপক সমালোচনার শিকার ভাগ্নের পক্ষে সাফাই গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রোফাইল থেকে পোস্টও দিয়েছেন আবিদ। লিখেছেন- ‘মানুষের ভালো কাজ কেউ ভাইরাল করে না। ও (ইফাত) অনেক পুরস্কার পেয়েছে পাখি পালন করে, কই তখন তো কেউ তারে ভাইরাল করে নাই? এই ছেলের হাতের আইফোনটাও আমি দিছি। কারণ আমি তারে আদর করি। ওর দুটো আপন মামা আছে যাদের একজন দুবাই শত কোটি টাকার মালিক। তাদের ছেলে নেই বলে তার সব শখ তার মামা পূরণ করে। আর গাড়ি যে গুলোর ছবি দিছে সেগুলো একটা বিক্রি করে আরেকটা কিনছে। ওর মামাদের এত টাকা আছে যে, ও যে সমস্ত জিনিসগুলো ইউজ করে তা কিছুই না। এর চেয়ে বেশি ওর মামারা যাকাত দেয় মানুষকে। আর ওর বাবার যে ছবি দেওয়া হয়েছে সে তো তার বাবাই না। বাবার সাথে তাদের সম্পর্ক নেই ৩ বছর হয়ে গেছে। তাই না বুঝে কারো ক্ষতি না করাই ভালো। ইফাতের আরেক মামা আছে আমেরিকায় তিনিও শিল্পপতি। ছাগলটি ওর মামার জন্যই কিনেছে। অনুসন্ধান যদি করতে হয় তাইলে আমেরিকা আর দুবাই আইসা করেন তার মামাদের। তাইলে বুঝতে পারবেন। তাই অনুরোধ করবো আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের এটা শেয়ার থেকে বিরত থাকবেন।’ (বানান ও যতিচিহ্ন সম্পাদিত)।
পোস্টে বলা ওই শত কোটি টাকার মালিক মামাদের বিষয়ে খোঁজ করতে গিয়েই মূলত বাংলা আউটলুক জানতে পারে, ইফাতের এই মামাদের একজন হলেন একরামুল হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবিদুল ইসলাম আবিদ। তার বাবার নাম ফখরুল ইসলাম বাবর। আরেক মামার নাম নাসের উদ্দিন সোহাগ।
মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মি আক্তারের পারিবারিক সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত এই দুই ব্যক্তিই এনবিআরের সদ্য সাবেক কর্মকর্তা মতিউরের দুবাইতে থাকা অবৈধ সম্পদের দেখভালকারী (কেয়ারটেকার)। আবিদ-সোহাগের দুবাইয়ের বিপুল অর্থের মূল মালিক হলেন মতিউর। আর সেগুলো দেখাশোনা করেন দুই শ্যালক আবিদ-সোহাগ।
ফেসবুকে আবিদুলের আইডি একটু ঘাটলেই দুবাইতে তার রাজকীয় জীবনযাপনের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এই ব্যাপারে বিশেষ একটি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ফেনী এলাকার মাদক কারবারের অন্যতম নিয়ন্ত্রকও এই আবিদ। দুবাইতে বসেই লোকজন দিয়ে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। তার চালচলনে রয়েছে বেশ ফিল্মী ভাব।
কিছুদিন আগেই ফেসবুকে আবিদ লিখেছেন, ‘যেকোনো জায়গায়কে আমি আমার মতো ফেনীতে রূপান্তরিত করতে ভালোই পারদর্শী, আলহামদুলিল্লাহ সকল সম্মানের জন্য।’
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নয়, নিজেকে তিনি হিরো মনে করেন! আবিদের বিষয়ে জানতে ফেনীর সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘নিজাম হাজারীই যেন ফেনীর সরকার-নিজ গাড়িতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী নিয়ে বিচরণ, জেলে ঢুকে অপরাধীদের নিয়ে সভা করা, অবৈধ অস্ত্র বহনসহ এহেন কোনো অপকর্ম নাই যা তিনি করেন না। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হতে শুরু করে সবাই তার কাছে এক প্রকারের জিম্মি, নিজাম হাজারীর সাজাপ্রাপ্ত মামাতো ভাইকে খুঁজতে সাহস করবে কে?’
এক অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নিজাম হাজারীর সঙ্গে তার মামাতো ভাই আবিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘নিজাম সাহেব যখনই দুবাই ভ্রমণ করেন, তখনই আবিদের আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। আর এসবই তারা জানেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়েও এ বিষয়ে অবগত।’ বাকিটা তিনি এই প্রতিবেদককে বুঝে নিতে পরামর্শ দেন।
তবে এসব বিষয়ে নিজাম হাজারীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দুবাই পুলিশ কী বলে
বাংলাদেশে বহুল আলোচিত একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি দুবাইতে মুক্তভাবে জীবনযাপন করছে, এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দুবাই পুলিশের সিআইডি শাখার কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ বিন রাশেদ আল খামিস বলেন, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আবিদুল ইসলামের বিষয়ে কোনো অনুরোধ তারা পাননি। এমনকি ইন্টারপোলেও এই পলাতক অপরাধীর বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে লুকিয়ে থাকা সেসকল দেশের অপরাধীদের যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে স্ব স্ব দেশে প্রেরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশেষভাবে আগ্রহী। এই নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সহায়তা চাইলে এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।
আবিদের পলাতক থাকার ব্যাপারে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) জাকির হাসান বলেন, ‘বিভিন্ন সময় জানতে পারি, পলাতক আসামিরা বাইরে অবস্থান করছে। তবে কে কোথায় আছে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য না পাওয়ায় আমরা আমাদের নিজস্ব মেকানিজমে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর মৃত্যুবার্ষিকীর সময় এ কথাগুলো ওঠে, কিন্তু আমরা কংক্রিট তথ্য ছাড়া কিছু বলতে পারি না।’
আবিদ নিজেই গুলি করেন
ফেনীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আবিদ নিজে ইকরামুল হক গুলি করেন এবং হাতে থাকা ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেন। ২০১৪ সালের ২৪ মে উত্তরায় র্যাব সদর দপ্তরে আবিদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সেদিন (হত্যাকাণ্ডের দিন) সকালেই তারা ঘটনাস্থলের আশপাশে জড়ো হয়েছিলেন। সকাল ৮টার দিকে শিফাত, শানান, সানি, রাহাত, মোহন, অনিক ও সৈকত তার কাছে আসেন। রুটি সোহেল নামে আমাদের এলাকার এক বড় ভাই তিনটা পিস্তল নিয়ে আসে। আমাকে আর শানানকে দুটা দিয়ে নিজে একটা রাখে। রুটি সোহেল আমাকে বলে, কেউ সামনে এলে গুলি চালাবি।
হামলার বর্ণনা দিয়ে আবিদ বলেন, সকাল ১১টার দিকে একাডেমির সামনে একরামের গাড়ি আসে। আমি, মানিক, রুটি সোহেলসহ কয়েকজন একটা ইজিবাইক নিয়ে সে গাড়ির গতিরোধ করি। সেখানে থাকা অন্তত ৪০/৫০ জন গাড়িতে ইট ছুড়তে থাকে, রামদা দিয়ে গাড়িতে কোপাতে থাকে। আমি ও শানান ওপরের দিকে গুলি ছুড়ি। রুটি সোহেল গাড়ির ভেতরে গুলি চালায়। পাপন, নয়ন ও তাদের কয়েক বন্ধু পাশের একটা দোকান থেকে কেরসিন এনে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ফেনী ও ঢাকার অনেকের যোগাযোগ
আবিদের ফেসুবক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, ফেনী থেকে নিয়মিতই বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তার সাথে যোগাযোগ করছে। তার পোস্টে কমেন্ট করছে। তাকে ট্যাগ করে পোস্ট দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেকেই দুবাই গেলে তার সাথে সাক্ষাৎ হচ্ছে। কাউকে আবার বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে করে রিসিভ করছেন।
তারিক আহমেদ সিদ্দিক (বাঁয়ে) ও সালমান এফ রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আরো পড়ুন
২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সংসদে নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। ঠিক ওই সময় পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দেশ ছেড়ে যেতে হবে—এমন ভাবনায় হন্যে হয়ে বিকল্প (ব্যাকআপ) খুঁজতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী।
শেখ হাসিনার অত্যন্ত কাছের ওই দুই ব্যক্তি হলেন তার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান) এবং নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূলে চলে গেলে নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে বিকল্প হিসেবে প্রভাবশালী এই দুই ব্যক্তি অন্য দেশের পাসপোর্ট (দ্বৈত নাগরিকত্ব) পাওয়ার জোর চেষ্টা চালান। দ্বৈত নাগরিকত্ব পেতে এই দুইজন যে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলেন তার কিছু কাগজপত্র বাংলা আউটলুকের হাতে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসন এবং তার সিদ্ধান্তের ওপর সালমান এফ রহমান এবং জেনারেল সিদ্দিকের বড় রকমের প্রভাব রয়েছে। দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় সমস্ত কিছু কার্যত সালমান এফ রহমান নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামরিক এবং গোয়েন্দা সংস্থার ওপর তারিক সিদ্দিক যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেন।
প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনার সঙ্গে তারিক সিদ্দিকের ছোট ভাই শফিক আহমেদ সিদ্দিকের বিয়ে হয়েছে। এই আত্মীয়তার সূত্র ধরেই তারিক সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা হন এবং দেশের এক প্রতাপশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।
প্রসঙ্গত, শফিক-রেহেনা দম্পতির মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সাল থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১১ সালের শেষ দিকে সালমান রহমান ও তারিক সিদ্দিক সপরিবারে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের রাষ্ট্র সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করেন। দ্বৈত নাগরিকত্ব পাওয়ার অনেকগুলো শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো দেশটিতে বিনিয়োগ করা। তারাও বিনিয়োগের মাধ্যমেই নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টম্যান) পাওয়ার চেষ্টা চালান। দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের (এইচপিএল) মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন তারা। সালমান এফ রহমান সংস্থাটির জুরিখ কার্যালয় এবং তারিক সিদ্দিক সংস্থাটির দুবাই শাখার মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালান।
কথা হলো, এতো দেশ থাকতে তারা ২৬১ বর্গ কিলোমিটারের ছোট এক দ্বীপ রাষ্ট্র সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্বের চেষ্টা চালান কেন? কারণ, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পাসপোর্ট বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টগুলোর মধ্য একটি। হেনলি পাসপোর্ট সূচকে দেশটির অবস্থান ২৬ তম (বাংলাদেশ ৯৮ তম)। তাই এই পাসপোর্টে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের ব্যাপক সুবিধা পাওয়া যায়। দেশটির পাসপোর্টে তুলনামূলকভাবে কম সময়ে অন্য দেশের ভিসা পাওয়া যায় এবং ১৫৬টি দেশে ভিসা ছাড়াই যাওয়া যায়। নিজের জন্য এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য এই পাসপোর্ট পেতে দেশটিতে আবেদনকারীকে এক লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হয়। সালমান রহমান এবং তারিক সিদ্দিকও সেই টাকা বিনিয়োগের আবেদন করেছিলেন। যদিও ওয়ার্ল্ড-চেক রিপোর্টের নেতিবাচক প্রতিবেদনের ফলে তাদের আবেদন শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করে এইচপিএল।
আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছিল কেন?
ওয়ার্ল্ড-চেক হলো একটি বৈশ্বিক তথ্যভান্ডার (ডেটাবেজ)। বিশ্বব্যাপী এই ডেটাবেজ ব্যবহার করে আর্থিক ও সুনাম ক্ষুন্নের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। এই ওয়ার্ল্ড চেকই ২০১৩ সালে সালমান এফ রহমান সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের ফলেই তার আবেদন নিয়ে সামনে না আগানোর সিদ্ধান্ত নেয় এইচপিএল। এই সংক্রান্ত এইচপিএলের অভ্যন্তরীণ একটি ই-মেইল বাংলা আউটলুক দেখেছে। যেখানে গ্রাহক হিসেবে সালমান এফ রহমানকে গ্রহণ না করার কথা বলা হয়েছে।
কারণ হিসেবে ই-মেইলটিতে বলা হয়, সালমান এফ রহমান জালিয়াতি, আত্মসাৎ এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত। আর এসব অভিযোগ ২০০৭ ও ২০০৮ সালে উঠেছিল।
এদিকে, ওয়ার্ল্ড-চেকের উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে সালমান এফ রহমানের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও এইচপিএল তার আবেদন নিয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এইচপিএলের অভ্যন্তরীণ অপর একটি ই-মেইলে বলা হয়, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সেনা-সমর্থিত সরকারের দায়ের করা এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত তার আবেদন নিয়ে কাজ না করার সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এইচপিএল। তবে ওই আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর সালমান এফ রহমান বিনিয়োগের বিনিময়ে অন্য কোথাও নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন কিনা সে ব্যাপারে কোনো তথ্যপ্রমাণ বাংলা আউটলুক পায়নি।
তবে তারিক সিদ্দিকের ক্ষেত্রে ঘটেছে ভিন্ন ঘটনা। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেও তিনি অন্য দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালান। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস ছাড়াও কয়েকটি দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার তারিক সিদ্দিকের চেষ্টার তথ্যপ্রমাণ বাংলা আউটলুক পেয়েছে। ওইসব আবেদনেও তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তার জন্য অন্য দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে নিজের অবস্থান। ওই অবস্থানের কারণে তারিক সিদ্দিক রাজনৈতিকভাবে উন্মুক্ত ব্যক্তি (পলিটিক্যালি এক্সপোজড পারসন-পিইপি) হিসেবে বিবেচিত হতেন। (প্রসঙ্গত: পিইপি সম্পর্কে উইকিপিডিয়া বলছে, আর্থিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে—কোনো বিশিষ্ট পাবলিক ফাংশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে উন্মুক্ত ব্যক্তি (পিইপি) বলা হয়। এই ব্যক্তিরা সাধারণত নিজেদের অবস্থান এবং প্রভাবের কারণে ঘুষ ও দুর্নীতিতে জড়ানোর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। )
২০০৯ সালে তারিক সিদ্দিকের স্ত্রী মিসেস (শাহীন) সিদ্দিক একজন অংশীদার (পার্টনার) নিয়ে প্রচ্ছায়া নামে একটি বিতর্কিত আবাসন কোম্পানির ব্যবসা শুরু করেন। একই বছর তার স্বামী প্রভাবশালী সরকারি পদে নিয়োগ পান। যা দুর্নীতির ঝুঁকির উদ্বেগকে আরও বাড়ায়। ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট ওয়ার্ল্ড চেকের প্রকাশিত ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচ্ছায়া বাংলাদেশের ঢাকার মূল্যবান সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলে জড়িত বলে মনে করা হয়।
ওই ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনুসন্ধানে দেখা গেছে তারিক সিদ্দিক এবং শহীদ উদ্দিন খান ( প্রচ্ছায়ার আরেক অংশীদার) সম্পর্কে প্রকাশ্যে (পাবলিক ডোমেনে) বেশকিছু নেতিবাচক তথ্য রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রচ্ছায়া কোম্পানির তিন কর্তা ব্যক্তি এবং প্রচ্ছায়া কোম্পানি মূলত অর্থপাচার, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ঘুষের সঙ্গে জড়িত।
এছাড়া অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিতর্কিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি ডেসটিনির গ্রুপের সাবসিডিয়ারি (ভর্তুকিমূলক) প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি ব্যাংক লিমিটেডে তারিক সিদ্দিকের শেয়ার রয়েছে। ডেসটিনির নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক এক সেনাপ্রধান। তবে ওই শেয়ারগুলো মিসেস সিদ্দিকের কোম্পানির মালিকানায় ছিল।
ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব তথ্যের ভিত্তিতে মিসেস সিদ্দিক, তার স্বামী এবং তার ব্যবসায়িক অংশীদারকে সমন্বিতভাবে মূল্যায়নের পর তারিক সিদ্দিকের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তারিক সিদ্দিকের নিরলস চেষ্টা
২০১৪ সালের অক্টোবরে তারিক সিদ্দিক এবং তার ছোট মেয়ে বুশরা সিদ্দিক মাল্টার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। বুশরা তখন যুক্তরাজ্যে স্নাতকে শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং প্রচ্ছায়ার একজন পরিচালক। মাল্টার নাগরিকত্বের সুবিধা হলো—দেশটির নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যেকোনো জায়গায় বসবাস ও কাজের সুযোগ পান। পাশাপাশি ১৮৬টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাভাইল ভিসায় ভ্রমণের সুবিধা পান।
২০১৫ সালে মাল্টার নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের শর্তে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের মধ্যে ছিল—মূল আবেদনকারীকে সাড়ে ৬ লাখ ইউরো পরিশোধের পাশাপাশি বন্ড ও স্থায়ী সম্পদে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হবে। এছাড়া স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের জন্যও বাড়তি ব্যয় করতে হবে। সেই সময় নিজের আবেদনকে জোরদার করতে মিসেস সিদ্দিক মালয়েশিয়ার সিআইএমবি ব্যাংকের একটি স্ট্যাটমেন্ট জমা দেন। জমা দেওয়া ওই স্টেটমেন্টের কপি বাংলা আউটলুকও দেখেছে।
মজার ব্যাপার হলো, সিআইএমবির ওই ব্যাংক হিসাবে ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বরে মাত্র ৫০০ মার্কিন ডলার জমা ছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাখ্যাতীতভাবে তা ফুলে-ফেঁপে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৪৮২ মার্কিন ডলার হয়। আর ফেব্রুয়ারি নাগাদ, মাল্টার নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের আগ মুহূর্তে তা গিয়ে দাঁড়ায় (২.৭৬ মিলিয়ন) ২৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে। মাল্টার নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের জন্য যা যথেষ্ঠ ছিল।
কিন্তু এই আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়। তারপরও সিদ্দিক পরিবার অন্য দেশের নাগরিকত্ব পেতে চেষ্টা চালান। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তারা সাইপ্রাসের গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম পাওয়ার চেষ্টা চালান। এই স্কিমের আওতায় সর্বনিম্ন ২০ লাখ ইউরো বিনিয়োগের বিনিময়ে দ্বীপ দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এই চেষ্টাও প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে ব্যর্থ হয়। যদিও পরবর্তীতে সিদ্দিক তার ছোট মেয়ে বুশরার জন্য বিদেশে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন।
বুশরা ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট সম্পন্ন করার জন্য ২০১৬ সাল পযন্ত যুক্তরাজ্যে বসবাস করছিলেন। তিন বছরের কোর্সের মাঝপথে তিনি আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হন।
২০১৮ সালের জুলাইয়ে বুশরা এবং তার স্বামী মোহাম্মদ আশিক সালাম মিলে লন্ডনের অভিজাত গোল্ডার্স গ্রীনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নগদ প্রায় ২০ লাখ ইউরো (প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা) দিয়ে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি কেনেন। সবচেয়ে আশ্চর্য্যের ব্যাপার হলো, যখন এই দম্পতি বাড়িটি কেনেন তখন তাদের বয়স সদ্য ২০ পেরিয়েছে। তাছাড়া তারা যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন স্টুডেন্ট ভিসায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে ওই সময় তারা কীভাবে এতো ব্যয়বহুল একটি বাড়ির মূল্য পুরোটা নগদ পরিশোধ করে কিনতে পারলেন। এতো টাকা তারা কোথায় পেলেন?
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, কেবল পড়াশোনা বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশ থেকে বিদেশে তথবিল স্থানান্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমতি দেয়। কিন্তু বিদেশে বিনিয়োগের জন্য কখনো অনুমতি পাওয়া যায় না। তাই প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে, বাংলাদেশে বাস করে কীভাবে ওই দুজন এইচপিএলের লাখ লাখ ডলারের ফি এবং অন্যান্য ব্যয় মিটিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তারা কীভাবে দেশের অর্থপাচার আইন লঙ্ঘন না করেও বিদেশের ব্যাংকে হিসাব সচল রাখেন?
এ ব্যাপারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের জন্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুমতি দিতে হবে। কিন্তু যেসব উদ্দেশ্যে অনুমতি দেওয়া হয় ‘বিদেশি পাসপোর্ট কেনা সেরকম কোনো উদ্দেশ্য নয়, যার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশের অভ্যন্তরে অর্জিত অর্থ দিয়ে বিদেশি পাসপোর্টের জন্য মূল্য পরিশোধ ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’।
তিনি বলেন, অর্থ স্থানান্তরে আইনি বিধিনিষেধের কারণে যুক্তিসঙ্গতভাবেই এতো বড় অঙ্কের টাকা বিদেশে স্থানান্তর সম্ভব নয়।
এসব ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সালমান এফ রহমান ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেননি।